লংমার্চে বাধা দিলে ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে : নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকের এই লংমার্চ ১১ দলের লংমার্চ নয়, এটা বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের লংমার্চ। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ পালন করব। যদি সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে এই লংমার্চের ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সকাল বেলা আমরা উপস্থিত হয়েছি ১১ দলীয় ঐক্যের ঐতিহাসিক লংমার্চ, এই ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। আমরা ঢাকাবাসী থেকে বিদায় নিতে এসেছি। এই ঐতিহাসিক লংমার্চের জন্য আপনারা আমাদের জন্য দোয়া রাখবেন। আজকে যত বাধা বিপত্তি আসুক না কেন আমাদের এই লংমার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই পৌঁছাবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বাংলাদেশের মানুষ লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে সবাই ঢাকায় একত্রিত হয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। এবার আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বিভাগের উদ্দেশে লংমার্চের যাত্রা শুরু করেছি। নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে যাচ্ছে সেই স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, আমাদের এই লংমার্চ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে লংমার্চ। এই লংমার্চ যারা তেল গ্যাস বিদ্যুতের সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে তাদের বিরুদ্ধে লংমার্চ।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এই লংমার্চ। ফলে আমরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা দলে দলে এই লংমার্চে অংশগ্রহণ করুন। এই লংমার্চ কোনো ১১ দলের লংমার্চ নয়, এই লংমার্চ বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের লংমার্চ। আমরা লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবো, যদি সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে এই লংমার্চের ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে, ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ক্ষমতার মসনদে বসে যদি জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করে তাহলে টেনে নামাতে আমাদের হাত এক চুলও কাঁপবে না।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যর্থ হয়েছে। দিনে দিনে দুর্ভোগ বাড়ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। জনগণকে দেয়া সব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। সরকারকে সংসদে ভুল স্বীকার করে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, দেড়শ টাকার লাঞ্চের গল্প আর ৫০ হাজার ফ্যামিলি কার্ড ছাড়া গত ৬ মাসে বিএনপি সরকারের বলার মতো আর কোনো সাফল্য নাই।

মঞ্জু আরও বলেন, ৩১ দফার স্বপ্ন দেখানো ও জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের অঙ্গীকারকারী দলের কার্যক্রমে ইতোমধ্যে মানুষ হতাশ হতে শুরু করেছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন; যারা গণভোটের রায় মানে না, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়াবে না বলে ওয়াদার বরখেলাফ করে দাম বাড়ায়, দলীয়করণ করবেনা বলে ব্যাপকহারে দলীয়করণ করে, জনগণ কীভাবে তাদেরকে বিশ্বাস করবে!

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ—এই ছয় দাবিতে লংমার্চ করছে ১১ দলীয় জোট।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ শুরুর আগে সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় উদ্বোধনী সমাবেশ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন।

লংমার্চ শেষ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে। মাঝপথে পাঁচটি স্থানে পথসভা হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

কালিয়াকৈরে কাভার্ডভ্যান-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২

লংমার্চে বাধা দিলে ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে : নাহিদ ইসলাম

প্রকাশের সময় : ১২:২৯:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকের এই লংমার্চ ১১ দলের লংমার্চ নয়, এটা বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের লংমার্চ। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ পালন করব। যদি সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে এই লংমার্চের ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সকাল বেলা আমরা উপস্থিত হয়েছি ১১ দলীয় ঐক্যের ঐতিহাসিক লংমার্চ, এই ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। আমরা ঢাকাবাসী থেকে বিদায় নিতে এসেছি। এই ঐতিহাসিক লংমার্চের জন্য আপনারা আমাদের জন্য দোয়া রাখবেন। আজকে যত বাধা বিপত্তি আসুক না কেন আমাদের এই লংমার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই পৌঁছাবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বাংলাদেশের মানুষ লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে সবাই ঢাকায় একত্রিত হয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। এবার আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বিভাগের উদ্দেশে লংমার্চের যাত্রা শুরু করেছি। নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে যাচ্ছে সেই স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, আমাদের এই লংমার্চ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে লংমার্চ। এই লংমার্চ যারা তেল গ্যাস বিদ্যুতের সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে তাদের বিরুদ্ধে লংমার্চ।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এই লংমার্চ। ফলে আমরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা দলে দলে এই লংমার্চে অংশগ্রহণ করুন। এই লংমার্চ কোনো ১১ দলের লংমার্চ নয়, এই লংমার্চ বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের লংমার্চ। আমরা লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবো, যদি সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে এই লংমার্চের ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে, ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ক্ষমতার মসনদে বসে যদি জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করে তাহলে টেনে নামাতে আমাদের হাত এক চুলও কাঁপবে না।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যর্থ হয়েছে। দিনে দিনে দুর্ভোগ বাড়ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। জনগণকে দেয়া সব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। সরকারকে সংসদে ভুল স্বীকার করে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, দেড়শ টাকার লাঞ্চের গল্প আর ৫০ হাজার ফ্যামিলি কার্ড ছাড়া গত ৬ মাসে বিএনপি সরকারের বলার মতো আর কোনো সাফল্য নাই।

মঞ্জু আরও বলেন, ৩১ দফার স্বপ্ন দেখানো ও জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের অঙ্গীকারকারী দলের কার্যক্রমে ইতোমধ্যে মানুষ হতাশ হতে শুরু করেছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন; যারা গণভোটের রায় মানে না, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়াবে না বলে ওয়াদার বরখেলাফ করে দাম বাড়ায়, দলীয়করণ করবেনা বলে ব্যাপকহারে দলীয়করণ করে, জনগণ কীভাবে তাদেরকে বিশ্বাস করবে!

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ—এই ছয় দাবিতে লংমার্চ করছে ১১ দলীয় জোট।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ শুরুর আগে সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় উদ্বোধনী সমাবেশ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন।

লংমার্চ শেষ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে। মাঝপথে পাঁচটি স্থানে পথসভা হবে।