বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই : দীনেশ ত্রিবেদী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০২:১৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭৭ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দু’দেশের মধ্যে চ্যালেঞ্জ থাকবে, তবে সেসব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অতীতকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। পরে সাক্ষাৎ নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ঢাকা-দিল্লির মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে ভাবছে দুই দেশ।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে কেউ ছোট-বড় নয়। দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক বাড়াতে চায় ভারত।

দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আমরা সবসময় চাই। আমরা যা সিদ্ধান্ত নিই, তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। সাধারণ মানুষের যেন ভালো হয়, সেজন্য আমাদের দায়িত্ব আছে।

তিনি বলেন, আমরা সীমান্তের সঙ্গে স্বপ্নও শেয়ার করি। সেজন্য প্রতিবেশী হিসেবে দায়িত্ব বেড়ে যায়। আমরা সমান। কেউ বড় কিংবা ছোট নই।

বাংলাদেশ ও ভারতের সামনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আমাদের দেখতে হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ কী? বাংলাদেশেরও দেখতে হবে ভারতের কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ও নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার দেশের মানুষের জন্য কী ভালো, তা সবচেয়ে ভালো বোঝে।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দেখুন, আমি একজন রাষ্ট্রদূত। আর যা ইন্টারনাল পলিটিক্স (অভ্যন্তরীণ রাজনীতি) হয়, ওতে আমরা কিছু বলতে চাই না, আর আমাদের কোনো কথা বলা উচিতও না। কেন কি যা দেশের মানুষ ভালো বুঝবে, যা দেশের ইলেক্টেড গভর্মেন্ট উইথ মেজরিটি, যা ওরা ভালো বুঝবে যে লোকেদের জন্য কী ভালো, ওইটাই সত্যি কথা।

ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে তার অবস্থান ও দুই দেশের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিনিধি তো আমরা একই চাই, যে পিপল-টু-পিপল রিলেশনশিপ, ওইটা সব সময়… আমি না থাকলে অন্য কেউ আমার জায়গায় থাকলে একই জিনিস। আপনারও যা প্রতিনিধি ওখানে দিল্লিতে আছে, উনিও একটাই কথা চায় যে, পিপল-টু-পিপল কীভাবে আমরা…

তিনি বলেন, কেন কি আলটিমেটলি কী হয়? আমরা যা ডিসিশন নিই, ওর ইফেক্ট তো হয় সাধারণ মানুষের। তাহলে সাধারণ মানুষের যা কিছু ভালো হয়, ওইটা আমাদের দায়িত্ব আছে। ইট ইজ আওয়ার রেসপন্সিবিলিটি। যে আমরা যা ডিসিশন নিই… আর আমরা তো সব সময় বলি যে আমরা তো একটা ড্রিম শেয়ার করি, স্বপ্ন শেয়ার করি।

দুই দেশের অভিন্ন সীমান্ত ও প্রতিবেশী সম্পর্কের কারণে দায়িত্ব আরও বেড়ে যায় উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বর্ডার তো শেয়ার করিই, তার জন্য আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। অ্যাজ এ নেইবার, আর আমার দায়িত্ব বেড়ে যায়। আর এই নেইবারে আমি সব সময় বলি, উই আর ইকুয়াল। নো বডি ইজ বিগ, নো বডি ইজ স্মল।

বাংলাদেশে এসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার কথাও জানান তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমি অনেক কিছু এখানটায় এসে শিখছি। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের… আমি ছিলাম অল্প, ৩০ মিনিট বোধহয়। এই ৩০ মিনিটে তো আমি অনেক শিখেছি। কেন কি উনার যা এক্সপেরিয়েন্স আছে, আর কেন? মানুষের জন্য, ঠিক তো? তাহলে এর কোনো শেষ নেই।

বাংলাদেশ ও ভারতের নিজ নিজ চ্যালেঞ্জকে পরস্পরের উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আর চ্যালেঞ্জেস থাকবে। আমাদের এপ্রিশিয়েট করতে হবে যে বাংলাদেশের কী ডেমোক্রেটিক চ্যালেঞ্জেস। বাংলাদেশকেও এপ্রিশিয়েট করতে হবে যে ইন্ডিয়ার কী চ্যালেঞ্জেস। ওই চ্যালেঞ্জেসটা আমাদের মাথায় রেখে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।’

অতীতে আটকে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কেন কি যদি আমরা পাস্টে যদি আমরা আটকে যাই… পাস্ট আমরা ভুলতে পারি না, কিন্তু আটকে যাওয়ার তো কোনো জায়গা নেই। আটকে গেলে উন্নয়নের কাজ হবে না।

দুই দেশের মানুষের স্বার্থে বাণিজ্য ও মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আর এটাও আজকে কথা হলো যে, মানুষ-মানুষের জন্য ট্রেড, ফ্রি ট্রেড। কীভাবে আমরা দুই দেশে ফ্রি ট্রেড করতে পারি? ডিপেন্ডেন্সি কিংবা ইন্টারডিপেন্ডেন্সি ফ্রি ট্রেড… উনি বললেন না, এটা ফ্রি ট্রেড। তাহলে এই নিয়েও কথা হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে দুদেশের মধ্যে একটা টানাপড়েন চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে যাবেন কি না; এমন প্রশ্নে ত্রিবেদী বলেন, ইন্টারনাল পলিটিক্স নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। বলা উচিতও না। কারণ, দেশের মানুষ যা ভালো বুঝবে, যা দেশের নির্বাচিত সরকার ভালো বুঝবে, সেটিই সত্যি কথা।

তিনি আরও বলেন, আমরা পিপল টু পিপল সম্পর্ক চাই। সাধারণ মানুষের জন্য যা কিছু ভালো সেটা করার দায়িত্ব আমাদের আছে।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, আমরা একটা স্বপ্নের কথা বলি, সেটা বাস্তবায়নে আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। আমরা প্রতিবেশী দেশ, আমাদের দায়িত্ব তো বেশি। আমরা সবসময় বলি, আমরা ইক্যুয়াল। নোবডি বিগ, নোবডি স্মল।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ভাবতে হবে বাংলাদেশের ডেমোক্র্যাটিক চ্যালেঞ্জ কী, তেমনি বাংলাদেশকে ভাবতে হবে ভারতের চ্যালেঞ্জ কী। সেটি মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা যদি অতীতে আটকে যাই, অতীত আমরা ভুলতে পারি না, কিন্তু আটকে যাওয়ারও কোনো জায়গা নেই।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আজকের সাক্ষাতে মিলেমিশে কাজ করার বিষয়ে কথা হয়েছে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যা হয়, সেটি নিয়ে কিছু বলতে চাই না এবং বলা উচিতও নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারই জনগণের জন্য কোনটি ভালো, তা ভালোভাবে বুঝবে।

এদিকে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ড. আবদুল মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানাতে সৌজন্য সাক্ষাতে আসার কথা জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতীয় দূত তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীও তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

মীর শাহে আলম বলেন, উনি সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন। আর বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আজকে পহেলা সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উনি মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে উনি তার দেশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন। এটা একদম সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আর আমাদের মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত নিয়ে একটা আলোচনা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনগুলো নিয়ে উনি (দীনেশ ত্রিবেদী) অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। উনি নিজেও যেহেতু একজন পলিটিশিয়ান, উনি এমপি ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন ভারতের। উনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। আমি এবং আমার মন্ত্রী আমাদের রাজনীতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি।

তিনি আরও বলেন, লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনগুলো নিয়ে আমরা বলেছি যে, চলতি অর্থবছরে আমাদের নির্বাচনগুলো হবে এবং এই নির্বাচনগুলো আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ। কারণ এই নির্বাচনগুলো আমাদের অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করতে হবে। যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক সরকার, মানুষের ভোটে নির্বাচিত, এই আরকি। বাকি সবটুকু আলোচনা সৌজন্যের মধ্যেই ছিল আরকি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

‘শিল্প কোনো পাপ নয়’—শিল্পীর মর্যাদা নিয়ে সোচ্চার প্রভা

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই : দীনেশ ত্রিবেদী

প্রকাশের সময় : ০২:১৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দু’দেশের মধ্যে চ্যালেঞ্জ থাকবে, তবে সেসব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অতীতকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। পরে সাক্ষাৎ নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ঢাকা-দিল্লির মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে ভাবছে দুই দেশ।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে কেউ ছোট-বড় নয়। দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক বাড়াতে চায় ভারত।

দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আমরা সবসময় চাই। আমরা যা সিদ্ধান্ত নিই, তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। সাধারণ মানুষের যেন ভালো হয়, সেজন্য আমাদের দায়িত্ব আছে।

তিনি বলেন, আমরা সীমান্তের সঙ্গে স্বপ্নও শেয়ার করি। সেজন্য প্রতিবেশী হিসেবে দায়িত্ব বেড়ে যায়। আমরা সমান। কেউ বড় কিংবা ছোট নই।

বাংলাদেশ ও ভারতের সামনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আমাদের দেখতে হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ কী? বাংলাদেশেরও দেখতে হবে ভারতের কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ও নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার দেশের মানুষের জন্য কী ভালো, তা সবচেয়ে ভালো বোঝে।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দেখুন, আমি একজন রাষ্ট্রদূত। আর যা ইন্টারনাল পলিটিক্স (অভ্যন্তরীণ রাজনীতি) হয়, ওতে আমরা কিছু বলতে চাই না, আর আমাদের কোনো কথা বলা উচিতও না। কেন কি যা দেশের মানুষ ভালো বুঝবে, যা দেশের ইলেক্টেড গভর্মেন্ট উইথ মেজরিটি, যা ওরা ভালো বুঝবে যে লোকেদের জন্য কী ভালো, ওইটাই সত্যি কথা।

ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে তার অবস্থান ও দুই দেশের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিনিধি তো আমরা একই চাই, যে পিপল-টু-পিপল রিলেশনশিপ, ওইটা সব সময়… আমি না থাকলে অন্য কেউ আমার জায়গায় থাকলে একই জিনিস। আপনারও যা প্রতিনিধি ওখানে দিল্লিতে আছে, উনিও একটাই কথা চায় যে, পিপল-টু-পিপল কীভাবে আমরা…

তিনি বলেন, কেন কি আলটিমেটলি কী হয়? আমরা যা ডিসিশন নিই, ওর ইফেক্ট তো হয় সাধারণ মানুষের। তাহলে সাধারণ মানুষের যা কিছু ভালো হয়, ওইটা আমাদের দায়িত্ব আছে। ইট ইজ আওয়ার রেসপন্সিবিলিটি। যে আমরা যা ডিসিশন নিই… আর আমরা তো সব সময় বলি যে আমরা তো একটা ড্রিম শেয়ার করি, স্বপ্ন শেয়ার করি।

দুই দেশের অভিন্ন সীমান্ত ও প্রতিবেশী সম্পর্কের কারণে দায়িত্ব আরও বেড়ে যায় উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বর্ডার তো শেয়ার করিই, তার জন্য আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। অ্যাজ এ নেইবার, আর আমার দায়িত্ব বেড়ে যায়। আর এই নেইবারে আমি সব সময় বলি, উই আর ইকুয়াল। নো বডি ইজ বিগ, নো বডি ইজ স্মল।

বাংলাদেশে এসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার কথাও জানান তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমি অনেক কিছু এখানটায় এসে শিখছি। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের… আমি ছিলাম অল্প, ৩০ মিনিট বোধহয়। এই ৩০ মিনিটে তো আমি অনেক শিখেছি। কেন কি উনার যা এক্সপেরিয়েন্স আছে, আর কেন? মানুষের জন্য, ঠিক তো? তাহলে এর কোনো শেষ নেই।

বাংলাদেশ ও ভারতের নিজ নিজ চ্যালেঞ্জকে পরস্পরের উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আর চ্যালেঞ্জেস থাকবে। আমাদের এপ্রিশিয়েট করতে হবে যে বাংলাদেশের কী ডেমোক্রেটিক চ্যালেঞ্জেস। বাংলাদেশকেও এপ্রিশিয়েট করতে হবে যে ইন্ডিয়ার কী চ্যালেঞ্জেস। ওই চ্যালেঞ্জেসটা আমাদের মাথায় রেখে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।’

অতীতে আটকে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কেন কি যদি আমরা পাস্টে যদি আমরা আটকে যাই… পাস্ট আমরা ভুলতে পারি না, কিন্তু আটকে যাওয়ার তো কোনো জায়গা নেই। আটকে গেলে উন্নয়নের কাজ হবে না।

দুই দেশের মানুষের স্বার্থে বাণিজ্য ও মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আর এটাও আজকে কথা হলো যে, মানুষ-মানুষের জন্য ট্রেড, ফ্রি ট্রেড। কীভাবে আমরা দুই দেশে ফ্রি ট্রেড করতে পারি? ডিপেন্ডেন্সি কিংবা ইন্টারডিপেন্ডেন্সি ফ্রি ট্রেড… উনি বললেন না, এটা ফ্রি ট্রেড। তাহলে এই নিয়েও কথা হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে দুদেশের মধ্যে একটা টানাপড়েন চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে যাবেন কি না; এমন প্রশ্নে ত্রিবেদী বলেন, ইন্টারনাল পলিটিক্স নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। বলা উচিতও না। কারণ, দেশের মানুষ যা ভালো বুঝবে, যা দেশের নির্বাচিত সরকার ভালো বুঝবে, সেটিই সত্যি কথা।

তিনি আরও বলেন, আমরা পিপল টু পিপল সম্পর্ক চাই। সাধারণ মানুষের জন্য যা কিছু ভালো সেটা করার দায়িত্ব আমাদের আছে।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, আমরা একটা স্বপ্নের কথা বলি, সেটা বাস্তবায়নে আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। আমরা প্রতিবেশী দেশ, আমাদের দায়িত্ব তো বেশি। আমরা সবসময় বলি, আমরা ইক্যুয়াল। নোবডি বিগ, নোবডি স্মল।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ভাবতে হবে বাংলাদেশের ডেমোক্র্যাটিক চ্যালেঞ্জ কী, তেমনি বাংলাদেশকে ভাবতে হবে ভারতের চ্যালেঞ্জ কী। সেটি মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা যদি অতীতে আটকে যাই, অতীত আমরা ভুলতে পারি না, কিন্তু আটকে যাওয়ারও কোনো জায়গা নেই।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আজকের সাক্ষাতে মিলেমিশে কাজ করার বিষয়ে কথা হয়েছে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যা হয়, সেটি নিয়ে কিছু বলতে চাই না এবং বলা উচিতও নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারই জনগণের জন্য কোনটি ভালো, তা ভালোভাবে বুঝবে।

এদিকে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ড. আবদুল মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানাতে সৌজন্য সাক্ষাতে আসার কথা জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতীয় দূত তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীও তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

মীর শাহে আলম বলেন, উনি সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন। আর বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আজকে পহেলা সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উনি মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে উনি তার দেশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন। এটা একদম সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আর আমাদের মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত নিয়ে একটা আলোচনা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনগুলো নিয়ে উনি (দীনেশ ত্রিবেদী) অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। উনি নিজেও যেহেতু একজন পলিটিশিয়ান, উনি এমপি ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন ভারতের। উনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। আমি এবং আমার মন্ত্রী আমাদের রাজনীতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি।

তিনি আরও বলেন, লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনগুলো নিয়ে আমরা বলেছি যে, চলতি অর্থবছরে আমাদের নির্বাচনগুলো হবে এবং এই নির্বাচনগুলো আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ। কারণ এই নির্বাচনগুলো আমাদের অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করতে হবে। যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক সরকার, মানুষের ভোটে নির্বাচিত, এই আরকি। বাকি সবটুকু আলোচনা সৌজন্যের মধ্যেই ছিল আরকি।