পুলিশ সদরদপ্তর

পুলিশপ্রধান ছিলেন কুখ্যাত বেনজীর, আমরা কি পুলিশ বিলুপ্ত করে দেব : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ১১:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮০ জন দেখেছেন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক : 

র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশের প্রধান ছিলেন কুখ্যাত বেনজীর, আমরা কি পুলিশ বিলুপ্ত করে দেব?’

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে র‌্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতায় ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিল নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এ কথা বলেন।

র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, র‌্যাব ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, আয়নাঘর—ইত্যাদি কারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল র‌্যাব বিলুপ্ত করা হবে। বিএনপিও বলেছিল। তারা র‌্যাবের মতো আরেকটি প্রতিষ্ঠান করার কথা বলেনি। এখন নতুন মোড়কে র‌্যাব পুনর্গঠন করা হচ্ছে। ফ্যাসিবাদের চিহ্ন হচ্ছে র‌্যাব। এটা বিলুপ্ত করা হোক। বিশেষায়িত ইউনিট করতে হলে আগে সংসদে বিশদ আলোচনা করা হোক।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি যদি তখন উপদেষ্টা পরিষদে প্রস্তাবটি করতেন, তাহলে খুশি হতাম; কিন্তু ১৮ মাসে একবারও সেটা মনে হয়নি।

তিনি বলেন, পুলিশের প্রধান ছিলেন কুখ্যাত বেনজীর, আমরা কি পুলিশ বিলুপ্ত করে দেব? মাথাব্যথা হয়েছে, মাথা কর্তন করা যায় না। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল র‌্যাব নামে কোনো সংগঠন থাকবে না। সেটা বিলুপ্ত করা হচ্ছে। কিন্তু পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট দরকার।

তখন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান জানান, তাঁরা র‌্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাব সমর্থন করেন। এটা বিলুপ্ত হোক। নতুন একটি সংস্থা করার বিষয়ে আরও চিন্তাভাবনা করে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন বিশেষায়িত ইউনিটে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কোনো সদস্য শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত হলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কী ধরনের কাঠামো থাকবে, তা বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। সেখানে মতামত থাকলে তা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় সংসদে সংসদীয় কমিটির প্রতিনিধিত্ব ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা চলাকালে বিরোধীদলের প্রতি একাত্ম হয়ে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু অধিকার বা স্থায়ী কমিটির সভাপতির হিস্যা দাবি করলেই চলবে না, জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে বিরোধীদের মূল সংশোধন প্রক্রিয়াতেও এগিয়ে আসতে হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে যখন থাকেন, আইদার পজিটিভ অর নেগেটিভ, সংসদ খুব প্রাণবন্ত থাকে এবং উনি থাকলে বাকি মন্ত্রিপরিষদ সদস্য যারা আছেন সম্মানিত, তারা না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। আজও আমরা এটার প্রমাণ পেয়েছি। আমি আর টেনশন করতে গেলাম না।

জামায়াত আমির বলেন, তিনি যেহেতু এই সংসদে অনেকবার এসেছেন, স্বাভাবিক সংসদ সম্পর্কে তার আইডিয়া আমার চেয়ে অনেক বেশি। গতকালকের একটা বিষয়, জাস্ট ওই ইমাম সাহেব যখন নামাজের সুরা-কালামে কোনো সমস্যা হয়ে যায়, তখন মুক্তাদির দায়িত্ব হলো, ওয়াজিব হলো যে তিনি লোকমা দেবেন। আমি জাস্ট একটা লোকমা দিচ্ছি, এর বেশি কিছু না।

‘উনি কালকে বলেছেন যে, অতীতে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধীদল থেকে স্থায়ী কমিটিতে সভাপতি দেওয়ার কোনো নজির নাই। এটা উনি ঠিকই বলেছেন ইল্লা ওয়াহেদ, একটা ছাড়া। সেটা হলো নবম জাতীয় সংসদ, যেখানে বিরোধীদলে আমরা মাত্র দুজন ছিলাম, আপনারা ২৪ জন ছিলেন, টোটাল অল টুগেদার ২৬ জন ছিলেন। সেখানে কিন্তু বিরোধী দল থেকে দুইজন স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। সুতরাং নজির আছে।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তবে আমি এজন্য তাকে লায়াবল করব না। কারণ আমি চেক করে দেখলাম যে ওই সংসদে উনি ছিলেন না। না থাকার কারণে যে গ্যাপটা হয়ে গেছে, আল্লাহ আমাকে এবং ওনাকে মাফ করুন। কিন্তু নজির আছে। আজ আল্লাহতালা দিল বড় করা শুরু করেছেন। আমরা বলি নাই, উনি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। তো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিভিন্নভাবে হতে পারে। একতরফা করলেও আমরা গোসসা করবো না, আমরা এটার বাস্তবায়নটা চাচ্ছি। আমি জাস্ট স্মরণ করে দিলাম।’

বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই জবাবটা আমি আশা করছিলাম। আপনি রাইটলি বলছেন, দুজন ছিলেন। ছিলেন, আমি তো ‘কুল্লে ওয়াহেদ’ বলি নাই, উনি ‘ইল্লা ওয়াহেদ’ বলেছেন। আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটিতে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে যাকে সভাপতি করা হতো, সেই ট্রেডিশনটা আমরা ফলো করে মাননীয় বিরোধীদলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে আমরা সেই কমিটির সভাপতিত্ব এরই মধ্যে দিয়েছি।’

‘যেটা উনি বলেছেন যে ‘ইল্লা ওয়াহেদ’। এখন তিনি দাবি করছেন যে, জুলাই জাতীয় সনদ আমরা অপরাধ করে পালন করি। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি, অঙ্গীকার। কিন্তু আমরা বলেছি যে, আপনারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে আসুন। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হবে, সংবিধান সংশোধিত হবে। একইভাবে জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে আসনের সংখ্যা আপনারা সভাপতিত্ব পাবেন স্থায়ী কমিটি এবং তার মধ্যে সংসদীয় কমিটির চারটা। তার মধ্যে একটা ভুল হয়ে গেছে, যেটা মাননীয় স্পিকার পদাধিকারী। এর বাইরে তিনটা, যার অলরেডি একটা হয়েছে, হিসাব সম্পর্কিত।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এগুলো সবই তো, আপনারা শুভ সূচনা করুন জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য। সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আপনারা অংশগ্রহণ করুন, যা বক্তব্য আছে সেখানে দিন। আমরা এই ওয়াদা এখানে জাতীয় সংসদের এই ফ্লোরে দাঁড়িয়ে দিতে পারি। যথাশিগগির সম্ভব আমরা সেই সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে আসবো, যেন তাড়াতাড়ি কার্যকর করা যায় এবং সংসদের উচ্চকক্ষ স্থাপন করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা এখানে জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে একেবারে পাক্কা হিস্যা এখন থেকে চাইবেন, সহযোগিতায় আসবেন না, দুইটা তো একসঙ্গে যায় না। আমরা তাই আহ্বান করছিলাম, আসুন আমরা একসঙ্গে বসে সংবিধান সংশোধন করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করি এবং অ্যাকর্ডিংলি আপনারা সবকিছু পাবেন। এটাই সহযোগিতা।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা সংস্কার বলুন, আমরা সংশোধনী বলি, কথা তো একই। কিন্তু এটা করতে হবে এই জাতীয় সংসদে। এটাই ছিল আমাদের আহ্বান। আপনারা বাইরের রাজনীতিতে যাই বক্তৃতা দেন না কেন, এখানে তো আমাদের সবাই একসঙ্গে বসে তর্কের মধ্যদিয়ে এটা নিতে হবে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। দয়া করে সেটা অনুধাবন করলে ভালো হবে।’

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

পুলিশ সদরদপ্তর

পুলিশপ্রধান ছিলেন কুখ্যাত বেনজীর, আমরা কি পুলিশ বিলুপ্ত করে দেব : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ১১:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‎নিজস্ব প্রতিবেদক : 

র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশের প্রধান ছিলেন কুখ্যাত বেনজীর, আমরা কি পুলিশ বিলুপ্ত করে দেব?’

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে র‌্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতায় ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিল নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এ কথা বলেন।

র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, র‌্যাব ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, আয়নাঘর—ইত্যাদি কারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল র‌্যাব বিলুপ্ত করা হবে। বিএনপিও বলেছিল। তারা র‌্যাবের মতো আরেকটি প্রতিষ্ঠান করার কথা বলেনি। এখন নতুন মোড়কে র‌্যাব পুনর্গঠন করা হচ্ছে। ফ্যাসিবাদের চিহ্ন হচ্ছে র‌্যাব। এটা বিলুপ্ত করা হোক। বিশেষায়িত ইউনিট করতে হলে আগে সংসদে বিশদ আলোচনা করা হোক।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি যদি তখন উপদেষ্টা পরিষদে প্রস্তাবটি করতেন, তাহলে খুশি হতাম; কিন্তু ১৮ মাসে একবারও সেটা মনে হয়নি।

তিনি বলেন, পুলিশের প্রধান ছিলেন কুখ্যাত বেনজীর, আমরা কি পুলিশ বিলুপ্ত করে দেব? মাথাব্যথা হয়েছে, মাথা কর্তন করা যায় না। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল র‌্যাব নামে কোনো সংগঠন থাকবে না। সেটা বিলুপ্ত করা হচ্ছে। কিন্তু পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট দরকার।

তখন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান জানান, তাঁরা র‌্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাব সমর্থন করেন। এটা বিলুপ্ত হোক। নতুন একটি সংস্থা করার বিষয়ে আরও চিন্তাভাবনা করে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন বিশেষায়িত ইউনিটে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কোনো সদস্য শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত হলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কী ধরনের কাঠামো থাকবে, তা বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। সেখানে মতামত থাকলে তা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় সংসদে সংসদীয় কমিটির প্রতিনিধিত্ব ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা চলাকালে বিরোধীদলের প্রতি একাত্ম হয়ে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু অধিকার বা স্থায়ী কমিটির সভাপতির হিস্যা দাবি করলেই চলবে না, জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে বিরোধীদের মূল সংশোধন প্রক্রিয়াতেও এগিয়ে আসতে হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে যখন থাকেন, আইদার পজিটিভ অর নেগেটিভ, সংসদ খুব প্রাণবন্ত থাকে এবং উনি থাকলে বাকি মন্ত্রিপরিষদ সদস্য যারা আছেন সম্মানিত, তারা না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। আজও আমরা এটার প্রমাণ পেয়েছি। আমি আর টেনশন করতে গেলাম না।

জামায়াত আমির বলেন, তিনি যেহেতু এই সংসদে অনেকবার এসেছেন, স্বাভাবিক সংসদ সম্পর্কে তার আইডিয়া আমার চেয়ে অনেক বেশি। গতকালকের একটা বিষয়, জাস্ট ওই ইমাম সাহেব যখন নামাজের সুরা-কালামে কোনো সমস্যা হয়ে যায়, তখন মুক্তাদির দায়িত্ব হলো, ওয়াজিব হলো যে তিনি লোকমা দেবেন। আমি জাস্ট একটা লোকমা দিচ্ছি, এর বেশি কিছু না।

‘উনি কালকে বলেছেন যে, অতীতে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধীদল থেকে স্থায়ী কমিটিতে সভাপতি দেওয়ার কোনো নজির নাই। এটা উনি ঠিকই বলেছেন ইল্লা ওয়াহেদ, একটা ছাড়া। সেটা হলো নবম জাতীয় সংসদ, যেখানে বিরোধীদলে আমরা মাত্র দুজন ছিলাম, আপনারা ২৪ জন ছিলেন, টোটাল অল টুগেদার ২৬ জন ছিলেন। সেখানে কিন্তু বিরোধী দল থেকে দুইজন স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। সুতরাং নজির আছে।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তবে আমি এজন্য তাকে লায়াবল করব না। কারণ আমি চেক করে দেখলাম যে ওই সংসদে উনি ছিলেন না। না থাকার কারণে যে গ্যাপটা হয়ে গেছে, আল্লাহ আমাকে এবং ওনাকে মাফ করুন। কিন্তু নজির আছে। আজ আল্লাহতালা দিল বড় করা শুরু করেছেন। আমরা বলি নাই, উনি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। তো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিভিন্নভাবে হতে পারে। একতরফা করলেও আমরা গোসসা করবো না, আমরা এটার বাস্তবায়নটা চাচ্ছি। আমি জাস্ট স্মরণ করে দিলাম।’

বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই জবাবটা আমি আশা করছিলাম। আপনি রাইটলি বলছেন, দুজন ছিলেন। ছিলেন, আমি তো ‘কুল্লে ওয়াহেদ’ বলি নাই, উনি ‘ইল্লা ওয়াহেদ’ বলেছেন। আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটিতে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে যাকে সভাপতি করা হতো, সেই ট্রেডিশনটা আমরা ফলো করে মাননীয় বিরোধীদলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে আমরা সেই কমিটির সভাপতিত্ব এরই মধ্যে দিয়েছি।’

‘যেটা উনি বলেছেন যে ‘ইল্লা ওয়াহেদ’। এখন তিনি দাবি করছেন যে, জুলাই জাতীয় সনদ আমরা অপরাধ করে পালন করি। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি, অঙ্গীকার। কিন্তু আমরা বলেছি যে, আপনারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে আসুন। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হবে, সংবিধান সংশোধিত হবে। একইভাবে জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে আসনের সংখ্যা আপনারা সভাপতিত্ব পাবেন স্থায়ী কমিটি এবং তার মধ্যে সংসদীয় কমিটির চারটা। তার মধ্যে একটা ভুল হয়ে গেছে, যেটা মাননীয় স্পিকার পদাধিকারী। এর বাইরে তিনটা, যার অলরেডি একটা হয়েছে, হিসাব সম্পর্কিত।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এগুলো সবই তো, আপনারা শুভ সূচনা করুন জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য। সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আপনারা অংশগ্রহণ করুন, যা বক্তব্য আছে সেখানে দিন। আমরা এই ওয়াদা এখানে জাতীয় সংসদের এই ফ্লোরে দাঁড়িয়ে দিতে পারি। যথাশিগগির সম্ভব আমরা সেই সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে আসবো, যেন তাড়াতাড়ি কার্যকর করা যায় এবং সংসদের উচ্চকক্ষ স্থাপন করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা এখানে জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে একেবারে পাক্কা হিস্যা এখন থেকে চাইবেন, সহযোগিতায় আসবেন না, দুইটা তো একসঙ্গে যায় না। আমরা তাই আহ্বান করছিলাম, আসুন আমরা একসঙ্গে বসে সংবিধান সংশোধন করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করি এবং অ্যাকর্ডিংলি আপনারা সবকিছু পাবেন। এটাই সহযোগিতা।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা সংস্কার বলুন, আমরা সংশোধনী বলি, কথা তো একই। কিন্তু এটা করতে হবে এই জাতীয় সংসদে। এটাই ছিল আমাদের আহ্বান। আপনারা বাইরের রাজনীতিতে যাই বক্তৃতা দেন না কেন, এখানে তো আমাদের সবাই একসঙ্গে বসে তর্কের মধ্যদিয়ে এটা নিতে হবে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। দয়া করে সেটা অনুধাবন করলে ভালো হবে।’