আবেগ-ভালোবাসার কারণে সংসদে আসতে হয়েছে : মির্জা আব্বাস

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৭:২৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭৮ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সংসদে ফিরে এসেছি কাজ করার জন্য। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে চিকিৎসাধীন আছি। বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলাম, এখনো আছি। আবেগ-ভালোবাসার কারণে সংসদে আসতে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে সংসদের কার্যক্রমে নিয়মিত অংশ নিতে না পারার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করার জন্য।

মির্জা আব্বাস বলেন, সংসদের আমার সকল দীর্ঘদিনের রাজনীতি সহকর্মী ভাইদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনারা হয়তো জানেন, আমি প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন আছি। আমার নির্বাচনের পর পর কোনো এক মিটিংয়ে আমার গুরুত্বর স্ট্রোক আক্রান্ত হই। তারপর থেকে আমি বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলাম। ছিলাম বললে, ভুল হবে; এখনো আছি।

অসুস্থতার সময় তার খোঁজখবর নেওয়া এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, সহকর্মী সংসদ সদস্য ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

‘নেহায়েতেই আবেগ-ভালোবাসা’ থেকে ফিরেছেন জানিয়ে ঢাকা-৮ আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার চিকিৎসা এখনো শেষ হয় নাই।’

তিনি বলেন, আজকের দিনটি আমার রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন এবং স্মরণীয় একটি দিন। ২০০৬ সালের পর আজ জাতীয় সংসদের এই পবিত্র কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। একজন সদসংসদ হিসেবে এর চেয়ে আনন্দের গর্বের মুহূর্ত আর কি হতে পারে!

তিনি বলেন, এই কঠিন সময় যারা আমাকে আমার জন্য দোয়া করেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন, পাশে থেকেছেন—তাদের প্রত্যেকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের এই ভালোবাসা ও আন্তরিক কথা আমি কোনদিন ভুলবো না।

মির্জা আব্বাস বলেন, আজ মহান সংসদে ফিরে এসে আমার মনে হচ্ছে রাজনীতি শুধু মতপার্থক্যের মধ্যে নয়, রাজনীতি মানুষের জন্য; সংসদ বিতর্কের জন্য নয়। এটি মানুষের আশাঙ্কার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষ এবং দেশের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি। তিনি যেন আমাকে সুস্থতা ও শক্তি দেন; যাতে আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য, বাংলাদেশের মানুষের জন্য অবশিষ্ট সময় বাকি আর সময়টুকু আরও নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারি।

দীর্ঘদিন পর সংসদে ফেরার অনুভূতি ব্যক্ত করে মির্জা আব্বাস বলেন, আজকের দিনটি আমার রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন এবং স্মরণীয় একটি দিন। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পেরিয়ে আজ আবার মহান জাতীয় সংসদের পবিত্র কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এটির চেয়ে আনন্দের ও গর্বের মুহূর্ত আর কী হতে পারে?

নিজের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদে যাত্রা শুরু করার পরপরই বিগত ১১ মার্চ (২০২৬) আমি গুরুতরভাবে স্ট্রোকে আক্রান্ত হই। দীর্ঘ সময় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। বলতে গেলে চিকিৎসা এখনও শেষ হয়নি, মাঝপথেই প্রথমবারের মতো সংসদে উপস্থিত হতে পেরে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।

কঠিন এই সময়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়ায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি নিজে সিঙ্গাপুরে গিয়ে আমাকে দেখে এসেছেন। যদিও আমি তখন অজ্ঞানে ছিলাম, পরে জেনেছি। একজন সংসদ সদস্যের প্রতি স্পিকারের এই মানবিক ও আন্তরিক আচরণ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এটি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নয়, এটি আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক সৌন্দর্যের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, আজ মহান সংসদে ফিরে এসে আমার মনে হচ্ছে, জাতীয় রাজনীতি শুধু মতপার্থক্য নয়, রাজনীতি মানুষের জন্য। সংসদ শুধু বিতর্কের জন্য নয়, এটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের জায়গা। আমি ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে।

দেশবাসী, নিজ সংসদীয় এলাকার জনগণ এবং সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আপনারা দোয়া করবেন আমি জীবনের বাকি সময়টুকু, যে কদিন বেঁচে থাকি, দেশ ও জাতির কল্যাণে যেন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে পারি।

চিকিৎসা এখনো চলছে জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ছিলাম বললে ভুল হবে, এখনো আছি। আমি রিহ্যাবে আছি। শুধুমাত্র আপনাদের ভালোবাসা, এই কারণে আমাকে আসতে হয়েছে। আমার চিকিৎসা এখনো শেষ হয় নাই।

দীর্ঘ সময় পর সংসদে ফেরার অনুভূতি তুলে ধরে তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকার, আজকের এই দিনটি আমার রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন এবং চিরস্মরণীয় একটি দিন। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পেরিয়ে আজ আবার মহান জাতীয় সংসদের এই পবিত্র কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি একজন সংসদ সদস্য হিসেবে। এর চেয়ে আনন্দের ও গর্বের মুহূর্ত আর কি হতে পারে?

অসুস্থতার সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান মির্জা আব্বাস।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সিঙ্গাপুরে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনি নিজে সিঙ্গাপুরে গিয়ে আমাকে দেখে এসেছেন। যদিও আমি আপনাকে দেখিনি, আমি তখন অজ্ঞানে ছিলাম। আমি পরে জেনেছি।’

স্পিকারের ওই ভূমিকাকে সংসদীয় রাজনীতিতে ‘মানবিক আচরণ’ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আজ মহান সংসদে ফিরে এসে আমার মনে হচ্ছে, জাতীয় রাজনীতি শুধু মতপার্থক্য নয়; রাজনীতি মানুষের জন্যে। সংসদ শুধু আমাদের জন্যে নয়, এটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।’

নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য আবার কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি। মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাকে সুস্থতা ও শক্তি দান করেন যাতে আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য অবশিষ্ট সময়টুকু আরও নিষ্ঠা ও সততার সাথে রাজনীতি ও জনসেবার কাজ করতে পারি।’

সহকর্মী সংসদ সদস্য এবং দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, আপনারা দোয়া করবেন আমি যাতে বাকি সময়টুকু জনগণের পাশে থেকে দেশের জন্য কাজ করতে পারি।

বক্তব্যের শেষভাগে তিনি তাকে দেখতে আসা, খোঁজখবর নেওয়া এবং অসুস্থতার দিনগুলোতে যার যার অবস্থান থেকে দোয়া ও প্রার্থনা করা সমস্ত সহকর্মী সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং দেশবাসীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ২০০৬ সালের দীর্ঘ ব্যবধানের পর আজ আবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি মানুষের কাছে কেবল একটি কথাই বলতে চান, মানুষের সেবায় এবং প্রিয় বাংলাদেশের সমৃদ্ধির স্বার্থে কাজ করতেই তিনি আবার ফিরে এসেছেন। দেশ ও জাতির সেবায় যেন বাকি জীবনটুকু আত্মনিয়োগ করতে পারেন, সেজন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি নিজের বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

মির্জা আব্বাস এর আগে ঢাকা-৬ আসন থেকে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ছিলেন তিনি। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন বিএনপির এই নেতা।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিতে মির্জা আব্বাসের শ্রদ্ধা

আবেগ-ভালোবাসার কারণে সংসদে আসতে হয়েছে : মির্জা আব্বাস

প্রকাশের সময় : ০৭:২৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সংসদে ফিরে এসেছি কাজ করার জন্য। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে চিকিৎসাধীন আছি। বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলাম, এখনো আছি। আবেগ-ভালোবাসার কারণে সংসদে আসতে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে সংসদের কার্যক্রমে নিয়মিত অংশ নিতে না পারার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করার জন্য।

মির্জা আব্বাস বলেন, সংসদের আমার সকল দীর্ঘদিনের রাজনীতি সহকর্মী ভাইদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনারা হয়তো জানেন, আমি প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন আছি। আমার নির্বাচনের পর পর কোনো এক মিটিংয়ে আমার গুরুত্বর স্ট্রোক আক্রান্ত হই। তারপর থেকে আমি বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলাম। ছিলাম বললে, ভুল হবে; এখনো আছি।

অসুস্থতার সময় তার খোঁজখবর নেওয়া এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, সহকর্মী সংসদ সদস্য ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

‘নেহায়েতেই আবেগ-ভালোবাসা’ থেকে ফিরেছেন জানিয়ে ঢাকা-৮ আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার চিকিৎসা এখনো শেষ হয় নাই।’

তিনি বলেন, আজকের দিনটি আমার রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন এবং স্মরণীয় একটি দিন। ২০০৬ সালের পর আজ জাতীয় সংসদের এই পবিত্র কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। একজন সদসংসদ হিসেবে এর চেয়ে আনন্দের গর্বের মুহূর্ত আর কি হতে পারে!

তিনি বলেন, এই কঠিন সময় যারা আমাকে আমার জন্য দোয়া করেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন, পাশে থেকেছেন—তাদের প্রত্যেকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের এই ভালোবাসা ও আন্তরিক কথা আমি কোনদিন ভুলবো না।

মির্জা আব্বাস বলেন, আজ মহান সংসদে ফিরে এসে আমার মনে হচ্ছে রাজনীতি শুধু মতপার্থক্যের মধ্যে নয়, রাজনীতি মানুষের জন্য; সংসদ বিতর্কের জন্য নয়। এটি মানুষের আশাঙ্কার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষ এবং দেশের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি। তিনি যেন আমাকে সুস্থতা ও শক্তি দেন; যাতে আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য, বাংলাদেশের মানুষের জন্য অবশিষ্ট সময় বাকি আর সময়টুকু আরও নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারি।

দীর্ঘদিন পর সংসদে ফেরার অনুভূতি ব্যক্ত করে মির্জা আব্বাস বলেন, আজকের দিনটি আমার রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন এবং স্মরণীয় একটি দিন। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পেরিয়ে আজ আবার মহান জাতীয় সংসদের পবিত্র কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এটির চেয়ে আনন্দের ও গর্বের মুহূর্ত আর কী হতে পারে?

নিজের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদে যাত্রা শুরু করার পরপরই বিগত ১১ মার্চ (২০২৬) আমি গুরুতরভাবে স্ট্রোকে আক্রান্ত হই। দীর্ঘ সময় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। বলতে গেলে চিকিৎসা এখনও শেষ হয়নি, মাঝপথেই প্রথমবারের মতো সংসদে উপস্থিত হতে পেরে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।

কঠিন এই সময়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়ায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি নিজে সিঙ্গাপুরে গিয়ে আমাকে দেখে এসেছেন। যদিও আমি তখন অজ্ঞানে ছিলাম, পরে জেনেছি। একজন সংসদ সদস্যের প্রতি স্পিকারের এই মানবিক ও আন্তরিক আচরণ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এটি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নয়, এটি আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক সৌন্দর্যের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, আজ মহান সংসদে ফিরে এসে আমার মনে হচ্ছে, জাতীয় রাজনীতি শুধু মতপার্থক্য নয়, রাজনীতি মানুষের জন্য। সংসদ শুধু বিতর্কের জন্য নয়, এটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের জায়গা। আমি ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে।

দেশবাসী, নিজ সংসদীয় এলাকার জনগণ এবং সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আপনারা দোয়া করবেন আমি জীবনের বাকি সময়টুকু, যে কদিন বেঁচে থাকি, দেশ ও জাতির কল্যাণে যেন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে পারি।

চিকিৎসা এখনো চলছে জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ছিলাম বললে ভুল হবে, এখনো আছি। আমি রিহ্যাবে আছি। শুধুমাত্র আপনাদের ভালোবাসা, এই কারণে আমাকে আসতে হয়েছে। আমার চিকিৎসা এখনো শেষ হয় নাই।

দীর্ঘ সময় পর সংসদে ফেরার অনুভূতি তুলে ধরে তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকার, আজকের এই দিনটি আমার রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন এবং চিরস্মরণীয় একটি দিন। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পেরিয়ে আজ আবার মহান জাতীয় সংসদের এই পবিত্র কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি একজন সংসদ সদস্য হিসেবে। এর চেয়ে আনন্দের ও গর্বের মুহূর্ত আর কি হতে পারে?

অসুস্থতার সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান মির্জা আব্বাস।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সিঙ্গাপুরে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনি নিজে সিঙ্গাপুরে গিয়ে আমাকে দেখে এসেছেন। যদিও আমি আপনাকে দেখিনি, আমি তখন অজ্ঞানে ছিলাম। আমি পরে জেনেছি।’

স্পিকারের ওই ভূমিকাকে সংসদীয় রাজনীতিতে ‘মানবিক আচরণ’ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আজ মহান সংসদে ফিরে এসে আমার মনে হচ্ছে, জাতীয় রাজনীতি শুধু মতপার্থক্য নয়; রাজনীতি মানুষের জন্যে। সংসদ শুধু আমাদের জন্যে নয়, এটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।’

নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য আবার কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি। মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাকে সুস্থতা ও শক্তি দান করেন যাতে আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য অবশিষ্ট সময়টুকু আরও নিষ্ঠা ও সততার সাথে রাজনীতি ও জনসেবার কাজ করতে পারি।’

সহকর্মী সংসদ সদস্য এবং দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, আপনারা দোয়া করবেন আমি যাতে বাকি সময়টুকু জনগণের পাশে থেকে দেশের জন্য কাজ করতে পারি।

বক্তব্যের শেষভাগে তিনি তাকে দেখতে আসা, খোঁজখবর নেওয়া এবং অসুস্থতার দিনগুলোতে যার যার অবস্থান থেকে দোয়া ও প্রার্থনা করা সমস্ত সহকর্মী সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং দেশবাসীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ২০০৬ সালের দীর্ঘ ব্যবধানের পর আজ আবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি মানুষের কাছে কেবল একটি কথাই বলতে চান, মানুষের সেবায় এবং প্রিয় বাংলাদেশের সমৃদ্ধির স্বার্থে কাজ করতেই তিনি আবার ফিরে এসেছেন। দেশ ও জাতির সেবায় যেন বাকি জীবনটুকু আত্মনিয়োগ করতে পারেন, সেজন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি নিজের বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

মির্জা আব্বাস এর আগে ঢাকা-৬ আসন থেকে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ছিলেন তিনি। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন বিএনপির এই নেতা।