বন্ধ হয়ে গেলো ১৮ বছর ধরে চলা দূরপাল্লার বাস সার্ভিস

নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : 

ঢাকা-নোয়াখালী সড়কে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীসেবা দিয়ে আসা পরিচিত পরিবহন একুশে এক্সপ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) তাদের সর্বশেষ কার্যদিবস হিসেবে তারা ঢাকা-নোয়াখালী রুটে চলাচল করে।

২০০৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে একুশে এক্সপ্রেস। এরপর প্রায় ১৮ বছর ধরে ঢাকা-নোয়াখালী-সোনাপুর রুটে চলাচল করে পরিবহনটি। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ নোয়াখালীর অসংখ্য মানুষের নিয়মিত যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ছিল একুশে এক্সপ্রেস।

তবে সময়ের সঙ্গে পরিবহন খাতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, যাত্রী সংকট এবং ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনাগত নানা সমস্যার কারণে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় একুশে এক্সপ্রেস কর্তৃপক্ষ তাদের সেবা কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

ঢাকা-নোয়াখালী রুটে চলাচলকারী একাধিক যাত্রী জানান, দীর্ঘ ১৮ বছরের পথচলায় একুশে এক্সপ্রেস শুধু একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানই ছিল না, নোয়াখালীর মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল এর নাম। নিয়মিত যাত্রীদের কাছে বাসগুলো হয়ে উঠেছিল পরিচিত ও নির্ভরতার একটি মাধ্যম।

কর্তৃপক্ষ তাদের বিদায়বার্তায় দীর্ঘদিনের যাত্রী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

পরিবহনটির চেয়ারম্যান অহিদ উদ্দিন মাহমুদ মুকুল বলেন, আমাদের নিজস্ব ৪৪টা সহ মোট ৫৭টি গাড়ি প্রতিনিয়ত চলাচল করতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে অন্য পরিবহনের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। লোকসানে তো আর গাড়ি চলে না। পরিবহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ও যাত্রী কমে যাওয়ায় মূলত আমাদের এই সিদ্ধান্ত। দীর্ঘ ১৮ বছর পথ চলায় যারা আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন তাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।

এদিকে একুশে এক্সপ্রেসের বন্ধ হয়ে যাওয়াকে নোয়াখালীর পরিবহন খাতের একটি পরিচিত অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিনের পরিচিত এই পরিবহনের বাস আর ঢাকা-নোয়াখালী সড়কে না চলায় যাত্রীদের অনেকের কাছেই তৈরি হয়েছে এক ধরনের শূন্যতা। অনেকে আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই শূন্যতা জানিয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাসও দিয়েছেন।

আন্তঃজেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির নোয়াখালী জেলা সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম তারেক বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে মূলত মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া সড়কের কোনও ডিসিপ্লিন নাই। জেলা প্রশাসন কিংবা বিআরটিএ কোনোরকম যাচাই-বাছাই ছাড়া যে কোনও পরিবহনকে রুট পারমিট দিচ্ছে। নোয়াখালী থেকে ঢাকায় বর্তমানে পাঁচটি পরিবহনের ২৫০টি গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু সেই পরিমাণে যাত্রী সংখ্যা কম। যার কারণে মূলত এসব পরিবহন বন্ধের মুখে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি সেতু নির্মাণকাজ, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ

বন্ধ হয়ে গেলো ১৮ বছর ধরে চলা দূরপাল্লার বাস সার্ভিস

প্রকাশের সময় : ১২:২৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : 

ঢাকা-নোয়াখালী সড়কে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীসেবা দিয়ে আসা পরিচিত পরিবহন একুশে এক্সপ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) তাদের সর্বশেষ কার্যদিবস হিসেবে তারা ঢাকা-নোয়াখালী রুটে চলাচল করে।

২০০৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে একুশে এক্সপ্রেস। এরপর প্রায় ১৮ বছর ধরে ঢাকা-নোয়াখালী-সোনাপুর রুটে চলাচল করে পরিবহনটি। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ নোয়াখালীর অসংখ্য মানুষের নিয়মিত যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ছিল একুশে এক্সপ্রেস।

তবে সময়ের সঙ্গে পরিবহন খাতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, যাত্রী সংকট এবং ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনাগত নানা সমস্যার কারণে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় একুশে এক্সপ্রেস কর্তৃপক্ষ তাদের সেবা কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

ঢাকা-নোয়াখালী রুটে চলাচলকারী একাধিক যাত্রী জানান, দীর্ঘ ১৮ বছরের পথচলায় একুশে এক্সপ্রেস শুধু একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানই ছিল না, নোয়াখালীর মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল এর নাম। নিয়মিত যাত্রীদের কাছে বাসগুলো হয়ে উঠেছিল পরিচিত ও নির্ভরতার একটি মাধ্যম।

কর্তৃপক্ষ তাদের বিদায়বার্তায় দীর্ঘদিনের যাত্রী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

পরিবহনটির চেয়ারম্যান অহিদ উদ্দিন মাহমুদ মুকুল বলেন, আমাদের নিজস্ব ৪৪টা সহ মোট ৫৭টি গাড়ি প্রতিনিয়ত চলাচল করতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে অন্য পরিবহনের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। লোকসানে তো আর গাড়ি চলে না। পরিবহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ও যাত্রী কমে যাওয়ায় মূলত আমাদের এই সিদ্ধান্ত। দীর্ঘ ১৮ বছর পথ চলায় যারা আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন তাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।

এদিকে একুশে এক্সপ্রেসের বন্ধ হয়ে যাওয়াকে নোয়াখালীর পরিবহন খাতের একটি পরিচিত অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিনের পরিচিত এই পরিবহনের বাস আর ঢাকা-নোয়াখালী সড়কে না চলায় যাত্রীদের অনেকের কাছেই তৈরি হয়েছে এক ধরনের শূন্যতা। অনেকে আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই শূন্যতা জানিয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাসও দিয়েছেন।

আন্তঃজেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির নোয়াখালী জেলা সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম তারেক বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে মূলত মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া সড়কের কোনও ডিসিপ্লিন নাই। জেলা প্রশাসন কিংবা বিআরটিএ কোনোরকম যাচাই-বাছাই ছাড়া যে কোনও পরিবহনকে রুট পারমিট দিচ্ছে। নোয়াখালী থেকে ঢাকায় বর্তমানে পাঁচটি পরিবহনের ২৫০টি গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু সেই পরিমাণে যাত্রী সংখ্যা কম। যার কারণে মূলত এসব পরিবহন বন্ধের মুখে।