যশোর জেলা প্রতিনিধি :
যশোরের মনিরামপুরে কার্যাদেশ দেওয়ার প্রায় আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও পাঁচকাটিয়া সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি অর্ধেকও। দুই পাশের চারটি পিলার ও সংযোগ দেওয়াল নির্মাণের পর কার্যত থমকে আছে কাজ। নেই কোনো বিকল্প সড়কও। ফলে সেতুটি ব্যবহারকারী অন্তত ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।
নির্ধারিত ১১ মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও সময় পেরিয়ে গেছে দুই বছরেরও বেশি। একাধিকবার চিঠি দিয়ে কাজ দ্রুত শেষ করার তাগাদা এবং কড়া বার্তা দেওয়া হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাতে কর্ণপাত করছে না বলে দাবি সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশল অফিসের। অন্যদিকে ঠিকাদারের দাবি, জলাবদ্ধতার কারণে নির্মাণকাজ ব্যাহত হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লি সড়ক অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ‘ইকবাল সমাদ্দার’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাঁচকাটিয়া সেতু নির্মাণের কাজ পায়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২ কোটি ৭৮ লাখ ৬১ হাজার ৬৮৮ টাকা। চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ কোটি ৭২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯২ টাকা ৮১৬ পয়সা।
১১ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার শর্তে ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সে হিসাবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কাজ এগোয়নি কাঙ্ক্ষিত গতিতে। কার্যাদেশ দেওয়ার প্রায় আড়াই বছর পরও সেতুর দুই পাশে চারটি পিলার ও সংযোগ দেওয়াল নির্মাণ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ হয়নি। ফলে এখনো নির্মাণকাজের অর্ধেকের বেশি বাকি রয়েছে।
সেতুটির নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের বাসিন্দারা। এ সড়ক দিয়ে চুকনগর হয়ে মনিরামপুর ও অভয়নগর উপজেলায় যাতায়াত করেন স্থানীয়রা। সেতুটির নির্মাণকাজের কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হলেও বিকল্প কোনো রাস্তার ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই ঝুঁকি ও দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় স্কুলছাত্র আকাশ মন্ডল ও অপু বিশ্বাস বলেন, বৃষ্টির সময় সড়কের কাদা ও পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়। অনেক সময় জুতা হাতে নিয়ে ভেজা অবস্থায় বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় প্রায় প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ও পর্যাপ্ত শ্রমিক দিয়ে কাজ করেনি। ফলে একদিকে নির্ধারিত সময়ে সেতুর কাজ শেষ হয়নি, অন্যদিকে নির্মাণকাজের কারণে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে ঠিকাদার আব্দুল খালেক দাবি করেন, এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘ সময় কাজ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে নির্মাণকাজে বিলম্ব হয়েছে।
সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজ শেষ হয়নি।
নতুন করে দায়িত্ব নেওয়া উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী বলেন, বিষয়টি জানার পর ঠিকাদারকে কাজ শেষ করার জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে লিখিত আবেদন করেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কার্যাদেশের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দীর্ঘদিনেও যেখানে সেতুর অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি, সেখানে নতুন করে সময় বাড়িয়ে আদৌ কাজ শেষ হবে কি না। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
যশোর জেলা প্রতিনিধি 





















