৩১ বছর অপেক্ষার পর ছেলেদের ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০২:৪৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৭৯ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ফুটবলের দেশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্রাজিল। সেই দেশটি এবার ইতিহাস গড়েছে ক্রিকেটেও। দীর্ঘ ৩১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আমেরিকান ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে ব্রাজিল।

রোববার (৯ আগস্ট) কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আমেরিকান ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে পানামাকে ৩ রানে হারিয়ে ঐতিহাসিক এই শিরোপা নিজেদের করে নেয় ব্রাজিলিয়ানরা। এর আগে টুর্নামেন্টের ৩১ বছরের ইতিহাসে দুইবার শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল দলটি; তবে ২০০৪ সালের ফাইনালে গায়ানা এবং ২০২২ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল তাদের। অবশেষে ২০২৬ সালে এসে সেই অপূর্ণতা দূর হলো।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ব্রাজিলিয়ানরা ২০ ওভারে তোলে ১২৮ রান। জয়ের জন্য শেষ ওভারে পানামার প্রয়োজন পড়ে ১৪ রানে। ব্রাজিলের অধিনায়ক মিশেল আসুনসাও শেষ ওভারে বল হাতে নিয়ে প্রথম তিন বলে দেন দুই রান। পরের বলে ছক্কা মেরে দেন পানামার সুফিয়ান তারাজিয়া।

পরের বলটি হয় ওয়াইড, পাশাপাশি একটি রান আসে বাই থেকেও। দুই বলে প্রয়োজন তখন চার রান। কিন্তু শেষ দুই ডেলিভারি দারুণ করেন আসুনসাও। পঞ্চম বলটিতে আউট হয়ে যান ২৭ রান করা ইরফান হাফেজি। শেষ বলে হয়নি কোনো রান। ৩০ রান করার পর, দুই উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ফাইনাল হয়েছেন এই আসুনসাও।

১৯৯৫ সাল থেকে চলে আসা এই টুর্নামেন্টের ২১তম আসর এটি। ব্রাজিল অংশ নিয়েছে ২০ বারই। ২০২২ ও ২০২৪ সালে রানার্স আপ হয়েছিল তারা। অবশেষে এবার ক্রিকেটে সেরা সাফল্যের স্বাদ পেল ফুটবলের দেশটি। ক্রিকেট ব্রাজিলের সামাজিক মাধ্যমের পাতায় ছিল সেই সাফল্যের উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া।

ঐতিহাসিক এই জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ব্রাজিল ক্রিকেট বোর্ড। এক বার্তায় তারা লেখে, এটি ঐতিহাসিক! ব্রাজিল এখন দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়ন! ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ব্রাজিল পুরুষ জাতীয় ক্রিকেট দল দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, যা ব্রাজিলিয়ান ক্রিকেটের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

বার্তায় আরও বলা হয়, কয়েক দিনের আত্মত্যাগ, ঐক্য, কঠোর পরিশ্রম ও দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার অদম্য ইচ্ছার ফসল এই সাফল্য। আজ সেই সব প্রচেষ্টা এমন এক অর্জনে রূপান্তরিত হয়েছে যা আমাদের ইতিহাসে চিরকাল লেখা থাকবে। ব্রাজিলিয়ান পুরুষ ক্রিকেট প্রথমবারের মতো মহাদেশের শীর্ষে পৌঁছেছে! প্রতিটি অ্যাথলেট, কোচিং স্টাফ এবং যারা প্রতিদিন ব্রাজিলে ক্রিকেটের প্রসারে কাজ করে যাচ্ছেন; তাদের সবাইকে অভিনন্দন। আমরাই চ্যাম্পিয়ন!’

শুরুর দিকে সাধারণত দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হতো দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের এই আসর। ২০১৩ সালের পর থেকে প্রতি বছরই এটা হয়ে আসছে। ২০২০ ও ২০২১ সালে বিরতি পড়েছিল কোভিডের কারণে।

এই টুর্নামেন্টে এক সময় একচেটিয়া দাপট ছিল আর্জেন্টিনার। ১৯ বার অংশ নিয়ে ১২ বারই শিরোপা জিতেছে তারা। এক পর্যায়ে তারা জাতীয় দল না পাঠিয়ে ডেভলপমেন্ট স্কোয়াডও পাঠিয়েছে এখানে। গতবার ও এবারের আসরে তারা অংশই নেয়নি। লিওনেল মেসির দেশের ক্রিকেট দল এখন খেলে থাকে আরেকটু উঁচু স্তরে।

ব্রাজিল দলটি ততটা পোক্ত না হলেও তাদের ক্রিকেট ইতিহাস অনেক পুরোনো। তাদের জাতীয় দল বিদেশের কোনো দলের সঙ্গে প্রথম খেলেছে সেই ১৮৮৮ সালে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। ব্রাজিলিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অবশ্য আইসিসির অধিভুক্ত হয় ২০০২ সালে। সহযোগী দেশের মর্যাদা পায় তারা ২০১৭ সালে।

সেই তুলনায় আর্জেন্টিনার ক্রিকেট ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। বিদেশের কোনো দলের সঙ্গে তাদের প্রথম লড়াই ১৮৬৮ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে। আইসিসির সহযোগী সদস্য হয়ে যায় তারা ১৯৭৪ সালেই। একসময় বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব ছিল যেটি, সেই আইসিসি ট্রফিতেও তারা অংশ নিয়েছে ১৯৭৯ সাল থেকে।

১৯৮৬, ১৯৯৪ ও ১৯৯৭ আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশের মুখোমুখিও হয়েছিল আর্জেন্টিনা। তিনটিতেই জিতেছিল বাংলাদেশ। দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে আর্জেন্টিনার ১২ শিরোপা ছাড়া মেক্সিকো জিতেছে ৩ বার, গায়ানা ও চিলি ২ বার করে এবং পানামা জিতেছে ১ বার।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

শাহজালাল বিমানবন্দরে গাড়িতে মিললো পৌনে ৪ কোটি টাকার স্বর্ণ

৩১ বছর অপেক্ষার পর ছেলেদের ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

প্রকাশের সময় : ০২:৪৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ফুটবলের দেশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্রাজিল। সেই দেশটি এবার ইতিহাস গড়েছে ক্রিকেটেও। দীর্ঘ ৩১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আমেরিকান ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে ব্রাজিল।

রোববার (৯ আগস্ট) কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আমেরিকান ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে পানামাকে ৩ রানে হারিয়ে ঐতিহাসিক এই শিরোপা নিজেদের করে নেয় ব্রাজিলিয়ানরা। এর আগে টুর্নামেন্টের ৩১ বছরের ইতিহাসে দুইবার শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল দলটি; তবে ২০০৪ সালের ফাইনালে গায়ানা এবং ২০২২ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল তাদের। অবশেষে ২০২৬ সালে এসে সেই অপূর্ণতা দূর হলো।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ব্রাজিলিয়ানরা ২০ ওভারে তোলে ১২৮ রান। জয়ের জন্য শেষ ওভারে পানামার প্রয়োজন পড়ে ১৪ রানে। ব্রাজিলের অধিনায়ক মিশেল আসুনসাও শেষ ওভারে বল হাতে নিয়ে প্রথম তিন বলে দেন দুই রান। পরের বলে ছক্কা মেরে দেন পানামার সুফিয়ান তারাজিয়া।

পরের বলটি হয় ওয়াইড, পাশাপাশি একটি রান আসে বাই থেকেও। দুই বলে প্রয়োজন তখন চার রান। কিন্তু শেষ দুই ডেলিভারি দারুণ করেন আসুনসাও। পঞ্চম বলটিতে আউট হয়ে যান ২৭ রান করা ইরফান হাফেজি। শেষ বলে হয়নি কোনো রান। ৩০ রান করার পর, দুই উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ফাইনাল হয়েছেন এই আসুনসাও।

১৯৯৫ সাল থেকে চলে আসা এই টুর্নামেন্টের ২১তম আসর এটি। ব্রাজিল অংশ নিয়েছে ২০ বারই। ২০২২ ও ২০২৪ সালে রানার্স আপ হয়েছিল তারা। অবশেষে এবার ক্রিকেটে সেরা সাফল্যের স্বাদ পেল ফুটবলের দেশটি। ক্রিকেট ব্রাজিলের সামাজিক মাধ্যমের পাতায় ছিল সেই সাফল্যের উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া।

ঐতিহাসিক এই জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ব্রাজিল ক্রিকেট বোর্ড। এক বার্তায় তারা লেখে, এটি ঐতিহাসিক! ব্রাজিল এখন দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়ন! ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ব্রাজিল পুরুষ জাতীয় ক্রিকেট দল দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, যা ব্রাজিলিয়ান ক্রিকেটের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

বার্তায় আরও বলা হয়, কয়েক দিনের আত্মত্যাগ, ঐক্য, কঠোর পরিশ্রম ও দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার অদম্য ইচ্ছার ফসল এই সাফল্য। আজ সেই সব প্রচেষ্টা এমন এক অর্জনে রূপান্তরিত হয়েছে যা আমাদের ইতিহাসে চিরকাল লেখা থাকবে। ব্রাজিলিয়ান পুরুষ ক্রিকেট প্রথমবারের মতো মহাদেশের শীর্ষে পৌঁছেছে! প্রতিটি অ্যাথলেট, কোচিং স্টাফ এবং যারা প্রতিদিন ব্রাজিলে ক্রিকেটের প্রসারে কাজ করে যাচ্ছেন; তাদের সবাইকে অভিনন্দন। আমরাই চ্যাম্পিয়ন!’

শুরুর দিকে সাধারণত দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হতো দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের এই আসর। ২০১৩ সালের পর থেকে প্রতি বছরই এটা হয়ে আসছে। ২০২০ ও ২০২১ সালে বিরতি পড়েছিল কোভিডের কারণে।

এই টুর্নামেন্টে এক সময় একচেটিয়া দাপট ছিল আর্জেন্টিনার। ১৯ বার অংশ নিয়ে ১২ বারই শিরোপা জিতেছে তারা। এক পর্যায়ে তারা জাতীয় দল না পাঠিয়ে ডেভলপমেন্ট স্কোয়াডও পাঠিয়েছে এখানে। গতবার ও এবারের আসরে তারা অংশই নেয়নি। লিওনেল মেসির দেশের ক্রিকেট দল এখন খেলে থাকে আরেকটু উঁচু স্তরে।

ব্রাজিল দলটি ততটা পোক্ত না হলেও তাদের ক্রিকেট ইতিহাস অনেক পুরোনো। তাদের জাতীয় দল বিদেশের কোনো দলের সঙ্গে প্রথম খেলেছে সেই ১৮৮৮ সালে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। ব্রাজিলিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অবশ্য আইসিসির অধিভুক্ত হয় ২০০২ সালে। সহযোগী দেশের মর্যাদা পায় তারা ২০১৭ সালে।

সেই তুলনায় আর্জেন্টিনার ক্রিকেট ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। বিদেশের কোনো দলের সঙ্গে তাদের প্রথম লড়াই ১৮৬৮ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে। আইসিসির সহযোগী সদস্য হয়ে যায় তারা ১৯৭৪ সালেই। একসময় বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব ছিল যেটি, সেই আইসিসি ট্রফিতেও তারা অংশ নিয়েছে ১৯৭৯ সাল থেকে।

১৯৮৬, ১৯৯৪ ও ১৯৯৭ আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশের মুখোমুখিও হয়েছিল আর্জেন্টিনা। তিনটিতেই জিতেছিল বাংলাদেশ। দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে আর্জেন্টিনার ১২ শিরোপা ছাড়া মেক্সিকো জিতেছে ৩ বার, গায়ানা ও চিলি ২ বার করে এবং পানামা জিতেছে ১ বার।