বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান নরেন্দ্র মোদি : দীনেশ ত্রিবেদী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলে মন্তব্য করে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গণতান্ত্রিক ইস্যু আছে, থাকবে; এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এর মধ্যেই দুই দেশের সম্পর্ক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে।ভারতের জনগণ চায় দুদেশের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীও চান সুন্দর সম্পর্ক। ভবিষ্যতে ভালো কিছু হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খুব ভালো লাগল। খুবই আন্তরিকভাবে আলোচনা হয়েছে।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে গণতান্ত্রিক বিভিন্ন ইস্যু আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। এটি কূটনীতি ও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এসব সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

তিনি বলেন, আমাদের ইতিহাস ও সীমান্তের বাস্তবতা বদলানো যাবে না। আমরা একে অপরের সঙ্গে স্বপ্ন ভাগাভাগি করি। আশা করি, আগামী দিনগুলোও ভালো যাবে।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই পক্ষকেই নিজেদের ইস্যুগুলো সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। এমন কোনো সমস্যা নেই, যা আলোচনার মাধ্যমে বসে সমাধান করা সম্ভব নয়। দুই দেশের সাধারণ মানুষই চায়, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ভালো থাকুক।

গণতান্ত্রিক দেশে ইস্যু থাকবে, আলোচনায় সমাধান হবে: ভারতের হাইকমিশনার

তিনি বলেন, বাংলাদেশে গত দুই মাসে আমি যে আদর, প্রীতি ও ভালোবাসা পেয়েছি, তা সত্যিই অভিভূত করেছে।

ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ছিল পিপলস রিপ্রেজেন্টেটিভ টু পিপলস রিপ্রেজেন্টেটিভ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথমবার দেখা হলেও তার কাছে সেটি প্রথম সাক্ষাৎ বলে মনে হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আচরণকে খুবই ভালো, হাম্বল ও অন দ্য গ্রাউন্ড হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইস্যু না থাকলে তো ডেমোক্রেসি থাকবে না। ইস্যু তো থাকবেই। কোনো ইস্যু এই রকম না যা আমরা সলভ করতে পারি না। আমি কনফিডেন্টলি বলতে পারি, কোনো ইস্যু নেই যা আমরা বসে সেটেল করতে পারি না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক ভালো থাকলে সেটি দুই দেশের জন্যই উইন-উইন সিচুয়েশন হবে। দুই দেশের সাধারণ মানুষও ভালো সম্পর্ক চায়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা শুধু সীমান্ত শেয়ার করি না, আমরা স্বপ্নও শেয়ার করি। দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও ভৌগোলিক বাস্তবতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন আগামী দিনগুলোতে সম্পর্ক আরও ভালো হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান ইস্যুগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও আতিথেয়তার কথাও উল্লেখ করেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এসে গত দুই মাসে তিনি অনেক সম্মান, ভালোবাসা ও প্রীতি পেয়েছেন।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হলে তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলেও আশা করেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের দুই দেশের সাধারণ মানুষই সম্পর্ক ভালো দেখতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

হাসিনাকে এবং হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান নরেন্দ্র মোদি : দীনেশ ত্রিবেদী

প্রকাশের সময় : ০২:১৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলে মন্তব্য করে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গণতান্ত্রিক ইস্যু আছে, থাকবে; এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এর মধ্যেই দুই দেশের সম্পর্ক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে।ভারতের জনগণ চায় দুদেশের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীও চান সুন্দর সম্পর্ক। ভবিষ্যতে ভালো কিছু হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খুব ভালো লাগল। খুবই আন্তরিকভাবে আলোচনা হয়েছে।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে গণতান্ত্রিক বিভিন্ন ইস্যু আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। এটি কূটনীতি ও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এসব সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

তিনি বলেন, আমাদের ইতিহাস ও সীমান্তের বাস্তবতা বদলানো যাবে না। আমরা একে অপরের সঙ্গে স্বপ্ন ভাগাভাগি করি। আশা করি, আগামী দিনগুলোও ভালো যাবে।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই পক্ষকেই নিজেদের ইস্যুগুলো সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। এমন কোনো সমস্যা নেই, যা আলোচনার মাধ্যমে বসে সমাধান করা সম্ভব নয়। দুই দেশের সাধারণ মানুষই চায়, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ভালো থাকুক।

গণতান্ত্রিক দেশে ইস্যু থাকবে, আলোচনায় সমাধান হবে: ভারতের হাইকমিশনার

তিনি বলেন, বাংলাদেশে গত দুই মাসে আমি যে আদর, প্রীতি ও ভালোবাসা পেয়েছি, তা সত্যিই অভিভূত করেছে।

ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ছিল পিপলস রিপ্রেজেন্টেটিভ টু পিপলস রিপ্রেজেন্টেটিভ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথমবার দেখা হলেও তার কাছে সেটি প্রথম সাক্ষাৎ বলে মনে হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আচরণকে খুবই ভালো, হাম্বল ও অন দ্য গ্রাউন্ড হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইস্যু না থাকলে তো ডেমোক্রেসি থাকবে না। ইস্যু তো থাকবেই। কোনো ইস্যু এই রকম না যা আমরা সলভ করতে পারি না। আমি কনফিডেন্টলি বলতে পারি, কোনো ইস্যু নেই যা আমরা বসে সেটেল করতে পারি না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক ভালো থাকলে সেটি দুই দেশের জন্যই উইন-উইন সিচুয়েশন হবে। দুই দেশের সাধারণ মানুষও ভালো সম্পর্ক চায়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা শুধু সীমান্ত শেয়ার করি না, আমরা স্বপ্নও শেয়ার করি। দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও ভৌগোলিক বাস্তবতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন আগামী দিনগুলোতে সম্পর্ক আরও ভালো হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান ইস্যুগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও আতিথেয়তার কথাও উল্লেখ করেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এসে গত দুই মাসে তিনি অনেক সম্মান, ভালোবাসা ও প্রীতি পেয়েছেন।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হলে তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলেও আশা করেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের দুই দেশের সাধারণ মানুষই সম্পর্ক ভালো দেখতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।