আমরা কোনো ফ্যাসিবাদীকে বাংলার জমিনে প্রশ্রয় দেবো না : জামায়াত আমির

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি : 

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি দেশে ক্ষমতার লোভ, দখলদারী আর মানুষ খুনের ঘটনা বেড়েছে। আমরা কোনো ফ্যাসিবাদীকে বাংলার জমিনে প্রশ্রয় দেবো না। তাই আপনারা তৈরি হোন, যেভাবে ২৪ সালে সবাই রাস্তায় নেমে এসছিলেন, হয়তো আবারও রাস্তায় নামতে হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াত-শিবিরের দুই কর্মীর খুনিদের বিচার দাবি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি সাঘাটায় সন্ত্রাসী হামলায় আমাদের দুই কর্মীর বাবা-মায়ের বুক খালি হয়েছে। আজকে এসে আমি তার স্বাক্ষী হয়েছি। আমি চাই, আর কোনো মায়ের কিংবা বাবার বুক খালি না হোক। এই বাংলাদেশকে আমরা সঠিক সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে চাই। আমরা সকলের নিরাপদ দেখতে চাই।

তিনি বলন, জামায়াত ইসলামী রংপুরে বেশিসংখ্যক আসন পাওয়ায় তাদের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটা রংপুরের মানুষ মেনে নেবে না। মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য সামনে দিকে আর হাত বাড়াবেন না, আর পা বাড়াবেন না। পরিনিতি ভালো হবে না। আপা যে পথে হেঁটেছেন আপনারও সেই পথে হাঁটছেন। এভাবে চললে টিকে থাকতে পারবেন না।

জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যারাই যাবে, তাদের এই দেশে থাকা হবে না। এই পথ পালানোর পথ। দেশের মানুষ আর দিল্লির খবরদারি মেনে নেবে না।

নাম উল্লেখ না করে শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা যে পথে হাঁটছেন, সে পথেই আপা হেঁটেছিলেন। যাওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন— ‘‘আপা পালায় না।’’ কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্লোগান উঠেছে ‘‘পালাইছে রে, পালাইছে—আপা পালাইছে।’

তিনি বলেন, সুতরাং যারা সে পথে হাঁটবেন, তাদেরও পালাতে হবে। কারণ, এই পথ পালানোর পথ; এই পথের শেষ ঠিকানা দিল্লি।

জামায়াত আমির  বলেন, আমরা কাপুরুষ নই, দুর্বল নই। জাতির প্রয়োজনের সময় আমরা ছিলাম, আছি এবং থাকব। যতদিন বেঁচে থাকব, মানুষ হিসেবে মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চাই।

কাপুরুষদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা অপরাধ করে, যারা দখল-বাণিজ্য করে, যারা নিরীহ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে, যারা মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করে—তারাই কাপুরুষ। সে যে-ই হোক না কেন, এমনকি সে যদি আমার সন্তানও হয়, তবুও সে কাপুরুষ।

বিএনপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যারাই যাবে, তাদের এই দেশে থাকা হবে না। এই পথ পালানোর পথ। এই দেশের মানুষ আর দিল্লির খবরদারি মেনে নেবে না। যুবকেরা এখন প্রতিবাদ করা শিখেছে। বিএনপি হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা চালিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে। যারা হ্যাঁ প্রচারণা চালিয়ে এখন না বলছেন, তারাই একদিন এই দেশ থেকে নাই হয়ে যাবে। জনতার রায়কে অগ্রাহ্য কেউ করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারে নাই। সামনেও কেউ টিকতে পারবে না।

তিনি বলেন, বর্তমানে সব জায়গায় চুরি-চামারি ও লুটপাট শুরু হয়েছে। চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করতে হবে, দুর্নীতিবাজদের হাত বন্ধ করতে হবে। দেশের জন্য একবার নয়, শতবার রাজপথে নামবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুই শিবির কর্মী হত্যার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা চাই না, ক্ষমতার লোভে আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক। গায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া বাজাতে আসবেন না।

গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়ারেজের সভাপতিতে সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা আমির আব্দুল হক, গাইবান্ধা জেলা আমির আব্দুল করিম এমপি, গাইবান্ধা জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কাজামী প্রমুখ।

এর আগে, শহীদ শিবির কর্মী সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। পরে তাদের কবর জিয়ারত করেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

হাসিনাকে এবং হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ

আমরা কোনো ফ্যাসিবাদীকে বাংলার জমিনে প্রশ্রয় দেবো না : জামায়াত আমির

প্রকাশের সময় : ০২:২৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি : 

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি দেশে ক্ষমতার লোভ, দখলদারী আর মানুষ খুনের ঘটনা বেড়েছে। আমরা কোনো ফ্যাসিবাদীকে বাংলার জমিনে প্রশ্রয় দেবো না। তাই আপনারা তৈরি হোন, যেভাবে ২৪ সালে সবাই রাস্তায় নেমে এসছিলেন, হয়তো আবারও রাস্তায় নামতে হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াত-শিবিরের দুই কর্মীর খুনিদের বিচার দাবি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি সাঘাটায় সন্ত্রাসী হামলায় আমাদের দুই কর্মীর বাবা-মায়ের বুক খালি হয়েছে। আজকে এসে আমি তার স্বাক্ষী হয়েছি। আমি চাই, আর কোনো মায়ের কিংবা বাবার বুক খালি না হোক। এই বাংলাদেশকে আমরা সঠিক সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে চাই। আমরা সকলের নিরাপদ দেখতে চাই।

তিনি বলন, জামায়াত ইসলামী রংপুরে বেশিসংখ্যক আসন পাওয়ায় তাদের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটা রংপুরের মানুষ মেনে নেবে না। মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য সামনে দিকে আর হাত বাড়াবেন না, আর পা বাড়াবেন না। পরিনিতি ভালো হবে না। আপা যে পথে হেঁটেছেন আপনারও সেই পথে হাঁটছেন। এভাবে চললে টিকে থাকতে পারবেন না।

জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যারাই যাবে, তাদের এই দেশে থাকা হবে না। এই পথ পালানোর পথ। দেশের মানুষ আর দিল্লির খবরদারি মেনে নেবে না।

নাম উল্লেখ না করে শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা যে পথে হাঁটছেন, সে পথেই আপা হেঁটেছিলেন। যাওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন— ‘‘আপা পালায় না।’’ কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্লোগান উঠেছে ‘‘পালাইছে রে, পালাইছে—আপা পালাইছে।’

তিনি বলেন, সুতরাং যারা সে পথে হাঁটবেন, তাদেরও পালাতে হবে। কারণ, এই পথ পালানোর পথ; এই পথের শেষ ঠিকানা দিল্লি।

জামায়াত আমির  বলেন, আমরা কাপুরুষ নই, দুর্বল নই। জাতির প্রয়োজনের সময় আমরা ছিলাম, আছি এবং থাকব। যতদিন বেঁচে থাকব, মানুষ হিসেবে মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চাই।

কাপুরুষদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা অপরাধ করে, যারা দখল-বাণিজ্য করে, যারা নিরীহ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে, যারা মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করে—তারাই কাপুরুষ। সে যে-ই হোক না কেন, এমনকি সে যদি আমার সন্তানও হয়, তবুও সে কাপুরুষ।

বিএনপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যারাই যাবে, তাদের এই দেশে থাকা হবে না। এই পথ পালানোর পথ। এই দেশের মানুষ আর দিল্লির খবরদারি মেনে নেবে না। যুবকেরা এখন প্রতিবাদ করা শিখেছে। বিএনপি হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা চালিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে। যারা হ্যাঁ প্রচারণা চালিয়ে এখন না বলছেন, তারাই একদিন এই দেশ থেকে নাই হয়ে যাবে। জনতার রায়কে অগ্রাহ্য কেউ করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারে নাই। সামনেও কেউ টিকতে পারবে না।

তিনি বলেন, বর্তমানে সব জায়গায় চুরি-চামারি ও লুটপাট শুরু হয়েছে। চাঁদাবাজদের হাত বন্ধ করতে হবে, দুর্নীতিবাজদের হাত বন্ধ করতে হবে। দেশের জন্য একবার নয়, শতবার রাজপথে নামবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুই শিবির কর্মী হত্যার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা চাই না, ক্ষমতার লোভে আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক। গায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া বাজাতে আসবেন না।

গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়ারেজের সভাপতিতে সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা আমির আব্দুল হক, গাইবান্ধা জেলা আমির আব্দুল করিম এমপি, গাইবান্ধা জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কাজামী প্রমুখ।

এর আগে, শহীদ শিবির কর্মী সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। পরে তাদের কবর জিয়ারত করেন।