কল-কারখানা স্থাপন করে উপকূলের বেকার সমস্যা সমাধান করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সমুদ্র সংলগ্ন এলাকায় কল-কারখানা স্থাপন করে এই অঞ্চলের বেকার সমস্যা সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র হলো জনগণের বড় সম্পদ। এই সমুদ্র সংলগ্ন এলাকায় কল-কারখানা স্থাপন করে এই অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এতে বেকার সমস্যার সমাধান হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু কৃষক নয়, লবণ চাষীদের মাঝেও কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। লবণ চাষীদের কষ্ট লাঘবে শিগগিরই নতুন মূল্য নির্ধারণ করবে সরকার। এর পাশাপাশি সমুদ্র উপকূলে কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে

দেশে ঝগড়া-ফ্যাসাদ চলবে, নাকি দেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে এ বিষয়ে দেশের জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, পেছনে পড়ে থাকার সুযোগ নেই। এখন সময় জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করার। দেশের মানুষ বিভ্রান্ত না হয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে এটাই প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, যারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। বিভ্রান্তকারীরা যাতে কোনো সুযোগ না পায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, বিভ্রান্তকারীদের কোনো প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। বাংলাদেশের মানুষ একই সাথে তার দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর এখন দেশ গঠনের সময় এসেছে। পৃথিবীর বহু দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু তারা কাজ করার মাধ্যমে, পরিশ্রম করার মাধ্যমে তাদের দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। কাজেই আর পেছনে পড়ে থাকা যাবে না। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনই এখন একমাত্র লক্ষ্য।

নিজের ঘোষিত পরিকল্পনার প্রতি জনসমর্থন প্রত্যাশা করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ এবং জনসমর্থন থাকলে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত, প্রত্যেকটি হাত শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে চাই আমরা, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ নিজের হাতের পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে। আমাদের কাজ করতে হবে। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। শিল্পের বিপ্লব ঘটাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়দিন আগে বন্যা হলো অতিবৃষ্টির কারণে। এই বন্যায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। আল্লাহর রহমতে ১০০ বাড়ির চাবি তুলে দিতে পারছি। কিছু দুস্থ মহিলাকে আমরা চাল দিয়ে সহযোগিতা করেছি। বর্তমান সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন, এ বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে। এ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এ দেশের মানুষের পাশে থাকা, সুখে দুঃখে থাকা, মা-বোনদের পাশে থাকা, সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এ জন্যই নির্বাচনের সময় আমরা বলেছিলাম, বিএনপি যদি আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের ভোটে সরকার গঠনে সক্ষম হয় তাহলে আমরা মূল কয়েকটি কাজে হাত দেব। তার মধ্যে একটি কাজ ছিল এদেশের মায়েদের সহযোগিতার জন্য, এদেশের নারীরা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে সে জন্য আমরা বলেছিলাম ফ্যামিলি কার্ড ঘরে ঘরে পৌঁছাব। যেটি আমির খসরু সাহেব উনার বক্তব্যে বলেছেন। আপনারা দেখেছেন, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা সেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্টের কাজে হাত দিয়েছিলাম এবং আল্লাহর রহমতে পাইলট প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়ে গেছে। এ মাসের ১৬ তারিখ থেকে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করছি। সমগ্র দেশে এ বছর প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব। এ উপজেলার মধ্যে ১০-১২ হাজার পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড আগামী অর্থবছরের মধ্যে তুলে দেব এবং আগামী চার বছর ধরে এটি চলবে। আরও অনেক মা-বোনেরা ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন। আমাদের লক্ষ্য ছিল ভাইদের পাশাপাশি যাতে বোনেরাও সংসারের হাল ধরতে পারে। একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে পারে, সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারে, স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে। সেই জন্য মা’দের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এ ব্যবস্থা করছি। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ডেরও ব্যবস্থাও করেছি।

তিনি বলেন, আলোচনা করে আমরা লবণের মূল্য নির্ধারণ করেছি। যে মূল্য পেলে লবণচাষি ভাইদের স্বাবলম্বিতা, অর্থনৈতিকভাবে তারা সচ্ছল হবে আস্তে আস্তে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা সেই দামটি সকলকে জানিয়ে দেব। যার ফলে লবণচাষি ভাইদের আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমি মাতারবাড়ী গিয়েছিলাম, মাতারবাড়ীতে পুরো দেখে আসলাম। মীরসরাই থেকে শুরু করে সমগ্র অঞ্চল হেলিকপ্টারে আমি দেখেছি। কেন দেখেছি? কারণ এই যে আমাদের সামনে বিশাল সমুদ্র, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের সম্পদ। এই সমুদ্রের মালিক হচ্ছে এই বাংলাদেশের জনগণ। এই সমুদ্রকে কীভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষের জীবন ব্যবস্থা উন্নত করা যায়, কীভাবে আমরা মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন মিল ফ্যাক্টরি স্থাপন করার মাধ্যমে এদেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব, ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যবস্থা করতে পারব সেই পরিকল্পনা কীভাবে গ্রহণ করা যায় তার জন্য আজ মাতারবাড়ী গিয়েছিলাম।

চীন সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আপনারা দেখেছেন চট্টগ্রামের আমীর খসরু সাহেব এবং সালাহউদ্দিন সাহেব দুজনে গিয়েছিলেন চীনে। আমরা একটি বিরাট বড় জায়গা দিয়েছি। এই যে চীন থেকে আমি ঘুরে এলাম, তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, সেখানে তারা কয়েকশ মিল-কারখানা তৈরি করবে এবং এই মিল-কারখানাগুলোতে সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষ ইনশাআল্লাহ সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবে। তার ফলে আমাদের যেমন একদিকে বেকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে, একই সঙ্গে আমরা ইনশাআল্লাহ বহু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব। যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে আমরা এই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করব, এই দেশের সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলবো, বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবাকে গড়ে তুলবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে যে ৫০ শয্যার হাসপাতাল আছে, এই ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৩০ বেড করে গিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার গঠন করেছেন বাকি ২০ বেড যোগ করেছিলেন। আজকে এই সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যাতে প্রত্যেক উপজেলার মানুষ ভালোভাবে স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে জন্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশে ৫০৩টি উপজেলার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে আমরা ১০১ শয্যায় উন্নীত করব ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, এ দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের পূর্বশর্ত দেশে শান্তি শৃঙ্খলা। বাজারে গণ্ডগোল হলে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বিনিয়োগকারীরা চাইবে, সঠিকভাবে বন্দর থেকে যেন কাঁচামাল আসতে পারে। তাই আমাদের সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যারা শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে। বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ।

সমাবেশে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আবদুল করিম।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

দেশে ভোটার ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫

কল-কারখানা স্থাপন করে উপকূলের বেকার সমস্যা সমাধান করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সমুদ্র সংলগ্ন এলাকায় কল-কারখানা স্থাপন করে এই অঞ্চলের বেকার সমস্যা সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র হলো জনগণের বড় সম্পদ। এই সমুদ্র সংলগ্ন এলাকায় কল-কারখানা স্থাপন করে এই অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এতে বেকার সমস্যার সমাধান হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু কৃষক নয়, লবণ চাষীদের মাঝেও কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। লবণ চাষীদের কষ্ট লাঘবে শিগগিরই নতুন মূল্য নির্ধারণ করবে সরকার। এর পাশাপাশি সমুদ্র উপকূলে কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে

দেশে ঝগড়া-ফ্যাসাদ চলবে, নাকি দেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে এ বিষয়ে দেশের জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, পেছনে পড়ে থাকার সুযোগ নেই। এখন সময় জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করার। দেশের মানুষ বিভ্রান্ত না হয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে এটাই প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, যারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। বিভ্রান্তকারীরা যাতে কোনো সুযোগ না পায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, বিভ্রান্তকারীদের কোনো প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। বাংলাদেশের মানুষ একই সাথে তার দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর এখন দেশ গঠনের সময় এসেছে। পৃথিবীর বহু দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু তারা কাজ করার মাধ্যমে, পরিশ্রম করার মাধ্যমে তাদের দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। কাজেই আর পেছনে পড়ে থাকা যাবে না। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনই এখন একমাত্র লক্ষ্য।

নিজের ঘোষিত পরিকল্পনার প্রতি জনসমর্থন প্রত্যাশা করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ এবং জনসমর্থন থাকলে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত, প্রত্যেকটি হাত শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে চাই আমরা, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ নিজের হাতের পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে। আমাদের কাজ করতে হবে। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। শিল্পের বিপ্লব ঘটাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়দিন আগে বন্যা হলো অতিবৃষ্টির কারণে। এই বন্যায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। আল্লাহর রহমতে ১০০ বাড়ির চাবি তুলে দিতে পারছি। কিছু দুস্থ মহিলাকে আমরা চাল দিয়ে সহযোগিতা করেছি। বর্তমান সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন, এ বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে। এ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এ দেশের মানুষের পাশে থাকা, সুখে দুঃখে থাকা, মা-বোনদের পাশে থাকা, সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এ জন্যই নির্বাচনের সময় আমরা বলেছিলাম, বিএনপি যদি আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের ভোটে সরকার গঠনে সক্ষম হয় তাহলে আমরা মূল কয়েকটি কাজে হাত দেব। তার মধ্যে একটি কাজ ছিল এদেশের মায়েদের সহযোগিতার জন্য, এদেশের নারীরা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে সে জন্য আমরা বলেছিলাম ফ্যামিলি কার্ড ঘরে ঘরে পৌঁছাব। যেটি আমির খসরু সাহেব উনার বক্তব্যে বলেছেন। আপনারা দেখেছেন, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা সেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্টের কাজে হাত দিয়েছিলাম এবং আল্লাহর রহমতে পাইলট প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়ে গেছে। এ মাসের ১৬ তারিখ থেকে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করছি। সমগ্র দেশে এ বছর প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব। এ উপজেলার মধ্যে ১০-১২ হাজার পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড আগামী অর্থবছরের মধ্যে তুলে দেব এবং আগামী চার বছর ধরে এটি চলবে। আরও অনেক মা-বোনেরা ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন। আমাদের লক্ষ্য ছিল ভাইদের পাশাপাশি যাতে বোনেরাও সংসারের হাল ধরতে পারে। একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে পারে, সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারে, স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে। সেই জন্য মা’দের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এ ব্যবস্থা করছি। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ডেরও ব্যবস্থাও করেছি।

তিনি বলেন, আলোচনা করে আমরা লবণের মূল্য নির্ধারণ করেছি। যে মূল্য পেলে লবণচাষি ভাইদের স্বাবলম্বিতা, অর্থনৈতিকভাবে তারা সচ্ছল হবে আস্তে আস্তে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা সেই দামটি সকলকে জানিয়ে দেব। যার ফলে লবণচাষি ভাইদের আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমি মাতারবাড়ী গিয়েছিলাম, মাতারবাড়ীতে পুরো দেখে আসলাম। মীরসরাই থেকে শুরু করে সমগ্র অঞ্চল হেলিকপ্টারে আমি দেখেছি। কেন দেখেছি? কারণ এই যে আমাদের সামনে বিশাল সমুদ্র, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের সম্পদ। এই সমুদ্রের মালিক হচ্ছে এই বাংলাদেশের জনগণ। এই সমুদ্রকে কীভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষের জীবন ব্যবস্থা উন্নত করা যায়, কীভাবে আমরা মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন মিল ফ্যাক্টরি স্থাপন করার মাধ্যমে এদেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব, ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যবস্থা করতে পারব সেই পরিকল্পনা কীভাবে গ্রহণ করা যায় তার জন্য আজ মাতারবাড়ী গিয়েছিলাম।

চীন সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আপনারা দেখেছেন চট্টগ্রামের আমীর খসরু সাহেব এবং সালাহউদ্দিন সাহেব দুজনে গিয়েছিলেন চীনে। আমরা একটি বিরাট বড় জায়গা দিয়েছি। এই যে চীন থেকে আমি ঘুরে এলাম, তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, সেখানে তারা কয়েকশ মিল-কারখানা তৈরি করবে এবং এই মিল-কারখানাগুলোতে সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষ ইনশাআল্লাহ সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবে। তার ফলে আমাদের যেমন একদিকে বেকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে, একই সঙ্গে আমরা ইনশাআল্লাহ বহু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব। যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে আমরা এই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করব, এই দেশের সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলবো, বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবাকে গড়ে তুলবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে যে ৫০ শয্যার হাসপাতাল আছে, এই ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৩০ বেড করে গিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার গঠন করেছেন বাকি ২০ বেড যোগ করেছিলেন। আজকে এই সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যাতে প্রত্যেক উপজেলার মানুষ ভালোভাবে স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে জন্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশে ৫০৩টি উপজেলার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে আমরা ১০১ শয্যায় উন্নীত করব ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, এ দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের পূর্বশর্ত দেশে শান্তি শৃঙ্খলা। বাজারে গণ্ডগোল হলে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বিনিয়োগকারীরা চাইবে, সঠিকভাবে বন্দর থেকে যেন কাঁচামাল আসতে পারে। তাই আমাদের সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যারা শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে। বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ।

সমাবেশে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আবদুল করিম।