নতুন প্রজন্মকে জিয়া-খালেদার ইতিহাস জানাতে হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশের বর্তমান প্রজন্মকে সাবেক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রমান এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে শিশু-কিশোরদের উপযোগী দেশের প্রথম দুটি পপ-আপ বই ‘শহীদ জিয়ার গল্প শোনো’ ও ‘ছোটদের প্রিয় খালেদা জিয়া’-এর প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, শিশু-কিশোরদের জন্য বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে এ ধরনের প্রকাশনা অত্যন্ত সময়োপযোগী। বাংলাদেশের ইতিহাস ও যাদের ত্যাগে দেশ স্বাধীন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সে ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মকে জানানো আমাদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে শিশুদের জন্য এ ধরনের মানসম্মত বই, লেখালেখি কিংবা চলচ্চিত্র পর্যাপ্ত তৈরি হয়নি। সঠিক ইতিহাস উপস্থাপনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরকার কাজ করছে। যারা এ ধরনের গবেষণা ও সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের আরও উৎসাহিত করা হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা অনেক বাংলাদেশি শিশু বাংলা পড়তে পারে না বা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। তাদের কাছে দেশের প্রকৃত ইতিহাস পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক ভাষায় এসব অনুবাদ হওয়া দরকার।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে না আনলে কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য কঠোর আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছে। ২০২৪ সালের অভূতপূর্ব ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ সেই সংগ্রামের সুফল পেয়েছে। এখন অর্জিত গণতন্ত্রকে ধরে রাখা, ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং দেশে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকাতে হবে।

বই দুটি ইংরেজিতে অনুবাদের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিদেশে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি পরিবারের সন্তান বাংলা পড়তে পারে না কিংবা বাংলায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। তাদের কাছে দেশের ইতিহাস ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের জীবন তুলে ধরতে ইংরেজি সংস্করণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

বই দুটি শিশু-কিশোরদের অনুপ্রাণিত করতে পারে উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘শিশুদের মধ্যে এমন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে যে, ‘আমিও খালেদা জিয়া হতে চাই’ কিংবা ‘আমিও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতো হতে চাই’। এ ধরনের অনুপ্রেরণার জন্য শিশুদের উপযোগী করে ইতিহাস তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।’

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে তার সাহসী ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামও ইতিহাসের অংশ।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে ধরে রাখতে হবে এবং ভোটাধিকার সুরক্ষিত করতে হবে। বাংলাদেশে যেন আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি ও কৃষকদের সুদ মওকুফসহ বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জনগণের সহযোগিতা নিয়ে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।’

প্রকাশনা উৎসবে বই দুটির লেখক সাবরিনা শুভ্রা বলেন, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন এই প্রকাশনা। ছোটবেলার একটি স্মৃতিও তাকে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে শিশুদের জন্য বই লেখার ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত করেছে।

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, স্কুলজীবনে একদিন স্কুল থেকে বের হওয়ার সময় তিনি একজন ব্যক্তিত্বময় নারীকে শিশুদের সঙ্গে অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে সময় কাটাতে দেখেছিলেন। দূর থেকে দেখা সেই দৃশ্য ছোটবেলার মনে দীর্ঘদিন ধরে রয়ে যায়। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে শিশুদের জন্য বই লেখার ভাবনার পেছনে সেই স্মৃতিও ভূমিকা রেখেছে বলে জানান তিনি।

সাবরিনা শুভ্রা বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি লেখালেখি করেন। তার বাবা ছিলেন বইপ্রেমী। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বইয়ে থাকা ছবি, রং ও আকর্ষণীয় উপস্থাপনা তাকে মুগ্ধ করত। তখন থেকেই তার মনে হতো, বাংলাতেও শিশুদের জন্য এমন আকর্ষণীয় বই থাকা প্রয়োজন।

শিশুদের কাছে ইতিহাসকে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কঠিন ভাষায় ইতিহাস তুলে ধরলে শিশুরা আগ্রহ হারাতে পারে। ছবি, শব্দ, ছড়া ও গল্পের মাধ্যমে ইতিহাসকে উপস্থাপন করলে তাদের মধ্যে জানার আগ্রহ তৈরি হবে। একটি শিশুকে প্রথমে ছবি আকৃষ্ট করবে, পরে সে জানতে চাইবে—এই মানুষটি কে, কোথায় থাকতেন, কী করেছিলেন। এভাবেই ইতিহাস জানার আগ্রহ তৈরি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে শিশু সাহিত্য এমনিতেই সীমিত। বিশেষ করে শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো সাহিত্য আরও প্রয়োজন। সেই চিন্তা থেকেই জাতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের নিয়ে শিশুদের উপযোগী বই প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

এর ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে দুটি বই লেখার পরিকল্পনা করেন বলে জানান সাবরিনা শুভ্রা। বই দুটি প্রকাশের জন্য দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পেরে তিনি আনন্দিত।

শুভ্রা আরও বলেন, বই দুটি প্রধানমন্ত্রীকে প্রথম উপহার দিতে পেরেছেন এবং তিনি বই দেখে প্রশংসা করেছেন। এটিকে জীবনের অন্যতম বড় অর্জন বলেও উল্লেখ করেন এই লেখিকা।

শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাবরিনা শুভ্রা বলেন, তারা যেন নিজেরা বই দুটি পড়েন এবং সন্তান ও আশপাশের স্কুলের শিশুদের কাছে বইগুলো পরিচিত করিয়ে দেন। তাহলেই তার এই প্রচেষ্টা সার্থক হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা শিশুদের উপযোগী করে দেশের ইতিহাস, রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের জীবন তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রকাশনা সংস্থা ‘দশমিক’-এর উদ্যোগে প্রকাশিত বই দুটি পপ-আপ প্রযুক্তি ও শিশুতোষ উপস্থাপনার মাধ্যমে পাঠকদের কাছে ইতিহাসকে আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে আয়োজকরা জানান।

লেখক ও সাংবাদিক সাবরিনা শুভ্রার লেখা বই দুটির প্রকাশনা উৎসবের সভাপতিত্ব করেন প্রকাশনা সংস্থা দশমিকের প্রকাশক দীপান্ত রায়হান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, সেলিমুজ্জামান সেলিম, কে এম বাবর, মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু, বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

নতুন প্রজন্মকে জিয়া-খালেদার ইতিহাস জানাতে হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশের বর্তমান প্রজন্মকে সাবেক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রমান এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে শিশু-কিশোরদের উপযোগী দেশের প্রথম দুটি পপ-আপ বই ‘শহীদ জিয়ার গল্প শোনো’ ও ‘ছোটদের প্রিয় খালেদা জিয়া’-এর প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, শিশু-কিশোরদের জন্য বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে এ ধরনের প্রকাশনা অত্যন্ত সময়োপযোগী। বাংলাদেশের ইতিহাস ও যাদের ত্যাগে দেশ স্বাধীন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সে ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মকে জানানো আমাদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে শিশুদের জন্য এ ধরনের মানসম্মত বই, লেখালেখি কিংবা চলচ্চিত্র পর্যাপ্ত তৈরি হয়নি। সঠিক ইতিহাস উপস্থাপনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরকার কাজ করছে। যারা এ ধরনের গবেষণা ও সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের আরও উৎসাহিত করা হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা অনেক বাংলাদেশি শিশু বাংলা পড়তে পারে না বা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। তাদের কাছে দেশের প্রকৃত ইতিহাস পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক ভাষায় এসব অনুবাদ হওয়া দরকার।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে না আনলে কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য কঠোর আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছে। ২০২৪ সালের অভূতপূর্ব ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ সেই সংগ্রামের সুফল পেয়েছে। এখন অর্জিত গণতন্ত্রকে ধরে রাখা, ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং দেশে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকাতে হবে।

বই দুটি ইংরেজিতে অনুবাদের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিদেশে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি পরিবারের সন্তান বাংলা পড়তে পারে না কিংবা বাংলায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। তাদের কাছে দেশের ইতিহাস ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের জীবন তুলে ধরতে ইংরেজি সংস্করণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

বই দুটি শিশু-কিশোরদের অনুপ্রাণিত করতে পারে উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘শিশুদের মধ্যে এমন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে যে, ‘আমিও খালেদা জিয়া হতে চাই’ কিংবা ‘আমিও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতো হতে চাই’। এ ধরনের অনুপ্রেরণার জন্য শিশুদের উপযোগী করে ইতিহাস তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।’

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে তার সাহসী ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামও ইতিহাসের অংশ।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে ধরে রাখতে হবে এবং ভোটাধিকার সুরক্ষিত করতে হবে। বাংলাদেশে যেন আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি ও কৃষকদের সুদ মওকুফসহ বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জনগণের সহযোগিতা নিয়ে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।’

প্রকাশনা উৎসবে বই দুটির লেখক সাবরিনা শুভ্রা বলেন, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন এই প্রকাশনা। ছোটবেলার একটি স্মৃতিও তাকে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে শিশুদের জন্য বই লেখার ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত করেছে।

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, স্কুলজীবনে একদিন স্কুল থেকে বের হওয়ার সময় তিনি একজন ব্যক্তিত্বময় নারীকে শিশুদের সঙ্গে অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে সময় কাটাতে দেখেছিলেন। দূর থেকে দেখা সেই দৃশ্য ছোটবেলার মনে দীর্ঘদিন ধরে রয়ে যায়। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে শিশুদের জন্য বই লেখার ভাবনার পেছনে সেই স্মৃতিও ভূমিকা রেখেছে বলে জানান তিনি।

সাবরিনা শুভ্রা বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি লেখালেখি করেন। তার বাবা ছিলেন বইপ্রেমী। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বইয়ে থাকা ছবি, রং ও আকর্ষণীয় উপস্থাপনা তাকে মুগ্ধ করত। তখন থেকেই তার মনে হতো, বাংলাতেও শিশুদের জন্য এমন আকর্ষণীয় বই থাকা প্রয়োজন।

শিশুদের কাছে ইতিহাসকে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কঠিন ভাষায় ইতিহাস তুলে ধরলে শিশুরা আগ্রহ হারাতে পারে। ছবি, শব্দ, ছড়া ও গল্পের মাধ্যমে ইতিহাসকে উপস্থাপন করলে তাদের মধ্যে জানার আগ্রহ তৈরি হবে। একটি শিশুকে প্রথমে ছবি আকৃষ্ট করবে, পরে সে জানতে চাইবে—এই মানুষটি কে, কোথায় থাকতেন, কী করেছিলেন। এভাবেই ইতিহাস জানার আগ্রহ তৈরি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে শিশু সাহিত্য এমনিতেই সীমিত। বিশেষ করে শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো সাহিত্য আরও প্রয়োজন। সেই চিন্তা থেকেই জাতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের নিয়ে শিশুদের উপযোগী বই প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

এর ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে দুটি বই লেখার পরিকল্পনা করেন বলে জানান সাবরিনা শুভ্রা। বই দুটি প্রকাশের জন্য দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পেরে তিনি আনন্দিত।

শুভ্রা আরও বলেন, বই দুটি প্রধানমন্ত্রীকে প্রথম উপহার দিতে পেরেছেন এবং তিনি বই দেখে প্রশংসা করেছেন। এটিকে জীবনের অন্যতম বড় অর্জন বলেও উল্লেখ করেন এই লেখিকা।

শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাবরিনা শুভ্রা বলেন, তারা যেন নিজেরা বই দুটি পড়েন এবং সন্তান ও আশপাশের স্কুলের শিশুদের কাছে বইগুলো পরিচিত করিয়ে দেন। তাহলেই তার এই প্রচেষ্টা সার্থক হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা শিশুদের উপযোগী করে দেশের ইতিহাস, রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের জীবন তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রকাশনা সংস্থা ‘দশমিক’-এর উদ্যোগে প্রকাশিত বই দুটি পপ-আপ প্রযুক্তি ও শিশুতোষ উপস্থাপনার মাধ্যমে পাঠকদের কাছে ইতিহাসকে আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে আয়োজকরা জানান।

লেখক ও সাংবাদিক সাবরিনা শুভ্রার লেখা বই দুটির প্রকাশনা উৎসবের সভাপতিত্ব করেন প্রকাশনা সংস্থা দশমিকের প্রকাশক দীপান্ত রায়হান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, সেলিমুজ্জামান সেলিম, কে এম বাবর, মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু, বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।