যশোর বোর্ডে পাশের হার ৬৬.২৭, শতভাগ ফেল ১১ প্রতিষ্ঠানে

যশোর জেলা প্রতিনিধি : 

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী। গতবারের তুলনায় এবার পাশের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুটিই কমেছে। এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাশ করতে পারেনি। অন্যদিকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করেছে ৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে যশোর শিক্ষা বোর্ডের কনফারেন্স রুমে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আবদুল মতিন।

বোর্ড কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থীদের খাতার যথার্থ মূল্যায়ন হয়েছে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে এসেছে বোর্ড। ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতার কারণে পাসের হার কমলেও ফলাফল সন্তোষজনক।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। যার মধ্যে পাস করেছে ৮৮ হাজার ৯৭ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করেছে ৩৪ হাজার ১৭ জন পরীক্ষার্থী। মানবিক বিভাগ থেকে ৪৪ হাজার ৮৩৪ জন ও বাণিজ্য বিভাগ থেকে ৯ হাজার ২৪৬ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পাওয়াদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ছেলে ৪ হাজার ৮০৯ জন ও মেয়ে ৫ হাজার ৩২৭ জন; মানবিক বিভাগে ছেলে ১৭৯ জন ও মেয়ে ৭৯২ এবং বাণিজ্য বিভাগে ছেলে ১৩৯ জন ও মেয়ে ২৩২ জন।

গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। গত বছর গড় পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ৪১০ জন।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক আব্দুল মতিন বলেন, শিক্ষার্থীদের খাতার যথার্থ মূল্যায়ন হয়েছে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতার কারণে পাসের হার কমলেও ফলাফল সন্তোষজনক। শূন্য পাসের বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন বলেন, যশোর বোর্ডে এবার পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ পাস করলেও মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৮২ শতাংশ হওয়াটা উদ্বেগের বিষয়। ফলাফলের এই বৈষম্য কমিয়ে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, এবারও ফলাফলে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় ভালো করেছে। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা ও নির্ধারিত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। সংখ্যার চেয়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই বোর্ডের লক্ষ্য।

এদিকে ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীকাল থেকে টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করতে পারবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ব্যাকলেস গাউনে উষ্ণতা ছড়াচ্ছেন মিম

যশোর বোর্ডে পাশের হার ৬৬.২৭, শতভাগ ফেল ১১ প্রতিষ্ঠানে

প্রকাশের সময় : ১২:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

যশোর জেলা প্রতিনিধি : 

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী। গতবারের তুলনায় এবার পাশের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুটিই কমেছে। এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাশ করতে পারেনি। অন্যদিকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করেছে ৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে যশোর শিক্ষা বোর্ডের কনফারেন্স রুমে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আবদুল মতিন।

বোর্ড কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থীদের খাতার যথার্থ মূল্যায়ন হয়েছে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে এসেছে বোর্ড। ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতার কারণে পাসের হার কমলেও ফলাফল সন্তোষজনক।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। যার মধ্যে পাস করেছে ৮৮ হাজার ৯৭ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করেছে ৩৪ হাজার ১৭ জন পরীক্ষার্থী। মানবিক বিভাগ থেকে ৪৪ হাজার ৮৩৪ জন ও বাণিজ্য বিভাগ থেকে ৯ হাজার ২৪৬ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পাওয়াদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ছেলে ৪ হাজার ৮০৯ জন ও মেয়ে ৫ হাজার ৩২৭ জন; মানবিক বিভাগে ছেলে ১৭৯ জন ও মেয়ে ৭৯২ এবং বাণিজ্য বিভাগে ছেলে ১৩৯ জন ও মেয়ে ২৩২ জন।

গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। গত বছর গড় পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ৪১০ জন।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক আব্দুল মতিন বলেন, শিক্ষার্থীদের খাতার যথার্থ মূল্যায়ন হয়েছে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতার কারণে পাসের হার কমলেও ফলাফল সন্তোষজনক। শূন্য পাসের বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন বলেন, যশোর বোর্ডে এবার পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ পাস করলেও মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৮২ শতাংশ হওয়াটা উদ্বেগের বিষয়। ফলাফলের এই বৈষম্য কমিয়ে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, এবারও ফলাফলে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় ভালো করেছে। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা ও নির্ধারিত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। সংখ্যার চেয়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই বোর্ডের লক্ষ্য।

এদিকে ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীকাল থেকে টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করতে পারবে।