Dhaka রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৮ সালে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে নতুন কারিকুলাম : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি : 

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ২০২৮ সালে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে নতুন কারিকুলাম। আগামী এক বছরের মধ্যে ডিজাইন সম্পন্ন করা হবে। নতুন কারিকুলামে ২০২৭ এবং ২০২৮ সালে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হবে।

রোববার (১৭ মে) ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ও রুম টু রিড-এর যৌথ আয়োজনে প্রাথমিক স্তরের বাংলা ভাষা শিক্ষার দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক বেইজলাইন রিপোর্ট শেয়ারিং সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের চাহিদা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের বাস্তবতায় ৫০ বছর আগের কারিকুলাম দিয়ে আর নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই, সরকার যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও বাস্তবমুখী নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নে কাজ করছে, যা ২০২৮ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন প্রাথমিক শিক্ষার মাপকাঠি হবে শিক্ষার্থীদের আমরা কতটুকু শিখিয়ে বের করতে পারছি। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর মূল্যায়িত করা হবে সকল কর্মকর্তাদের। এতে উন্নত ওয়াশরুম এবং শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

তিনি বলেন, ভাষা, গণিত, সিটি এডুকেশন এবং একই সঙ্গে স্পোর্টস, কালচার এই ভিত্তিতে আমরা নতুন কারিকুলাম শিখাচ্ছি। এই নতুন কারিকুলাম ক্লাসরুমে আবদ্ধ থাকবে না। আগামী দিন থেকে প্রত্যেকটা স্ট্রাকচার হবে, শিক্ষার্থীদের আমরা কতটুকু শেখাতে পারলাম, তার ওপর ভিত্তি করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্তরে ভাষা শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, শুদ্ধ ভাষা চর্চা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাকে আরও কার্যকর ও আনন্দময় করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এ লক্ষ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণ আরও কার্যকর করা, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পাঠদান পদ্ধতি চালু করা, মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত মূল্যায়ন কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান টেক্সটবুকের আকার ও উপস্থাপনাও শিশুদের উপযোগী নয়। একটি ছয় বছরের শিশুর হাতে বড় আকারের বই তুলে দিলে তার মধ্যে শেখার আগ্রহ কমে যায়। ছোট ছোট অধ্যায়ভিত্তিক বই ও আনন্দমুখর শেখার পরিবেশ তৈরির ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

ববি হাজ্জাজ আরো বলেন, আমরা আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক জায়গায় পিছিয়ে আছি। এটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যেকটা প্রচেষ্টাকে আমি স্বাগত জানাই। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা ফেইল করছে। শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা শিক্ষার্থীদের শেখানোর মতো করে তৈরি করি নাই। শিক্ষা ব্যবস্থা হতে হবে যেখানে শেখানো যাবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এই শেখানোর জায়গা থেকে আমরা অনেক দূরে সরে এসেছি। পাঠ্যবই শিক্ষক কারিকুলামের একটি অংশ। প্রথমত আমাদের কারিকুলাম নকশা করতে হবে যেখানে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের শেখাব, শেখা এত মুশকিল না।

তিনি বলেন, এ জন্য আমাদেরকে প্রথমে কারিকুলাম নকশা করতে হবে। যেই কারিকুলামটা আমাদের শিক্ষার্থীদের আসলে শিক্ষা দিতে পারে। কারণ বাকি সবকিছু কিন্তু এই কারিকুলামের সাথে সম্পৃক্ত। আপনি কারিকুলামে ভুল করেন, বাকি সবকিছু করে কোনো লাভ নাই। যতদিন না কারিকুলাম ঠিক করতে পারছি কোনো কিছু করে লাভ নেই। আমাদের এখন দরকার সঠিকভাবে কারিকুলাম ডিজাইন করে সঠিকভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠানো। এ সময় প্রাথমিক শিক্ষায় নানা প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি কাজের একমাত্র মাপকাঠি হবে লার্নিং আউটকাম।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (ন্যাপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক দেবব্রত চক্রবর্তী,জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আবহাওয়া

বিসিবি নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ

২০২৮ সালে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে নতুন কারিকুলাম : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৭:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি : 

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ২০২৮ সালে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে নতুন কারিকুলাম। আগামী এক বছরের মধ্যে ডিজাইন সম্পন্ন করা হবে। নতুন কারিকুলামে ২০২৭ এবং ২০২৮ সালে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হবে।

রোববার (১৭ মে) ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ও রুম টু রিড-এর যৌথ আয়োজনে প্রাথমিক স্তরের বাংলা ভাষা শিক্ষার দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক বেইজলাইন রিপোর্ট শেয়ারিং সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের চাহিদা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের বাস্তবতায় ৫০ বছর আগের কারিকুলাম দিয়ে আর নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই, সরকার যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও বাস্তবমুখী নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নে কাজ করছে, যা ২০২৮ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন প্রাথমিক শিক্ষার মাপকাঠি হবে শিক্ষার্থীদের আমরা কতটুকু শিখিয়ে বের করতে পারছি। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর মূল্যায়িত করা হবে সকল কর্মকর্তাদের। এতে উন্নত ওয়াশরুম এবং শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

তিনি বলেন, ভাষা, গণিত, সিটি এডুকেশন এবং একই সঙ্গে স্পোর্টস, কালচার এই ভিত্তিতে আমরা নতুন কারিকুলাম শিখাচ্ছি। এই নতুন কারিকুলাম ক্লাসরুমে আবদ্ধ থাকবে না। আগামী দিন থেকে প্রত্যেকটা স্ট্রাকচার হবে, শিক্ষার্থীদের আমরা কতটুকু শেখাতে পারলাম, তার ওপর ভিত্তি করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্তরে ভাষা শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, শুদ্ধ ভাষা চর্চা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাকে আরও কার্যকর ও আনন্দময় করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এ লক্ষ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণ আরও কার্যকর করা, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পাঠদান পদ্ধতি চালু করা, মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত মূল্যায়ন কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান টেক্সটবুকের আকার ও উপস্থাপনাও শিশুদের উপযোগী নয়। একটি ছয় বছরের শিশুর হাতে বড় আকারের বই তুলে দিলে তার মধ্যে শেখার আগ্রহ কমে যায়। ছোট ছোট অধ্যায়ভিত্তিক বই ও আনন্দমুখর শেখার পরিবেশ তৈরির ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

ববি হাজ্জাজ আরো বলেন, আমরা আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক জায়গায় পিছিয়ে আছি। এটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যেকটা প্রচেষ্টাকে আমি স্বাগত জানাই। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা ফেইল করছে। শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা শিক্ষার্থীদের শেখানোর মতো করে তৈরি করি নাই। শিক্ষা ব্যবস্থা হতে হবে যেখানে শেখানো যাবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এই শেখানোর জায়গা থেকে আমরা অনেক দূরে সরে এসেছি। পাঠ্যবই শিক্ষক কারিকুলামের একটি অংশ। প্রথমত আমাদের কারিকুলাম নকশা করতে হবে যেখানে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের শেখাব, শেখা এত মুশকিল না।

তিনি বলেন, এ জন্য আমাদেরকে প্রথমে কারিকুলাম নকশা করতে হবে। যেই কারিকুলামটা আমাদের শিক্ষার্থীদের আসলে শিক্ষা দিতে পারে। কারণ বাকি সবকিছু কিন্তু এই কারিকুলামের সাথে সম্পৃক্ত। আপনি কারিকুলামে ভুল করেন, বাকি সবকিছু করে কোনো লাভ নাই। যতদিন না কারিকুলাম ঠিক করতে পারছি কোনো কিছু করে লাভ নেই। আমাদের এখন দরকার সঠিকভাবে কারিকুলাম ডিজাইন করে সঠিকভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠানো। এ সময় প্রাথমিক শিক্ষায় নানা প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি কাজের একমাত্র মাপকাঠি হবে লার্নিং আউটকাম।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (ন্যাপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক দেবব্রত চক্রবর্তী,জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।