Dhaka সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজার নিয়ন্ত্রণে ডিসিদের নজরদারি বাড়াতে বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সহায়তা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের কাছে আমরা একটি জিনিস চেয়েছি, তা হলো আগামীদিনে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য তারা যেন নজরদারি বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখেন।

প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকার উভয়ে সমন্বিতভাবে এসব পদক্ষেপের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে কীভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

সোমবার (৪ মে) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ডিসিরা কোনো সমস্যা অনুভব করেন কি না বা এ জাতীয় কোনো সমস্যার কথা জানিয়েছেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাজারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় তো আছেই। যেমন— উৎপাদক পর্যায়ের মূল্য এবং খুচরা বাজারের মূল্যের মধ্যে, বিশেষ করে কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে, বড় একটা গ্যাপ (পার্থক্য) থাকে। আরেকটি বিষয় হলো, এই বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য গত ৫০-৫৫ বছরে কোনো সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে ওঠেনি।

তিনি বলেন, আমরাই এই সরকারে প্রথম উদ্যোগ নিচ্ছি, যাতে আমদানি পর্যায় থেকে শুরু করে একদম খুচরা পর্যায়ে বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনটিকে (সরবরাহ ব্যবস্থা) একটি এআই জেনারেটেড মডেলের অধীনে নিয়ে আসা যায়। এমন একটি মডেল তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে আমরা সারাক্ষণ বাজার পর্যবেক্ষণ করতে পারব।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব পণ্যের জন্য আমরা আমদানির ওপর নির্ভরশীল, সেসব পণ্যের একটি স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ (কৌশলগত মজুত) তৈরি করার প্রকল্প আমরা নিতে যাচ্ছি। বর্তমানে আমাদের পর্যাপ্ত স্টোরেজ বা সংরক্ষণের সুবিধা নেই। আমরা এমন ব্যবস্থা করতে চাই, যাতে গুটি কয়েক লোকের ওপর আমাদের নির্ভর করতে না হয়।

সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমি শুধু সিন্ডিকেটের কথা বলছি না, সবকিছু যে সিন্ডিকেটের কারণে হয়, তাও নয়। বাজার ব্যবস্থার অসামঞ্জস্যের কারণেও অনেক সময় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। এসব সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি (সংরক্ষণাগার) নির্মাণ, স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ তৈরি এবং একটি সমন্বিত বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার মতো আমাদের আগামী দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে ডিসিদের সংক্ষেপে ধারণা দিয়েছি।’

কোরবানি পরবর্তী সাতদিন সারা দেশ থেকে ঢাকায় কোনো চামড়া প্রবেশ করবে না। এবারও চামড়া সংরক্ষণের জন্য বিসিকের মাধ্যমে বিনামূল্যে লবণ দেবে সরকার। প্রতিটি এলাকায় ব্যবসায়ী ও মসজিদ-মাদরাসায় চামড়া সংরক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, আগামী কোরবানি ঈদে কোনো চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য ডিসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মসজিদ-মাদরাসার দায়িত্বশীলদের ডেকে প্রশিক্ষণ দেবে সরকার। তারা কোরবানির পর চামড়া সংরক্ষণ করবেন।

আগে দেখা গেছে চামড়ার দাম না পেয়ে কেউ কেউ ক্ষোভে চামড়া মাটিতে পুঁতে রেখেছেন বা ফেলে দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারি খরচে বিসিকের মাধ্যমে প্রতিটি এলাকায় বিনামূল্যে লবণ পৌঁছে দেওয়া হবে। সেখানে চামড়ায় লবণ মাখানো হবে এবং কোরবানি ঈদের পরবর্তী সাতদিন কোনো ট্রাকে চামড়া তোলা হবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদের সঙ্গে সঙ্গে চামড়াগুলো ঢাকায় চলে এলে আলাদা চাপ তৈরি হয়। আমরা সেটা হতে দেব না। একটি চামড়াও নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, আগে দেখা গেছে চামড়ার দাম না পেয়ে কেউ কেউ ক্ষোভে চামড়া মাটিতে পুঁতে রেখেছেন বা ফেলে দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হবে।

সীমান্ত দিয়ে কোরবানির পশু যাতে অবৈধভাবে দেশে ঢুকতে না পারে সেজন্য সরকার কঠোর নজরদারি করবে বলেও জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি বলেন, সীমান্তে বিজিবি, পুলিশসহ কঠোর নজরদারি করা হবে। কোনো অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না।

মন্ত্রী আরও জানান, হাট এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকবে। সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করবে। অনলাইনে পশু বেচাকেনায় খাজনা বা হাসিল দিতে হবে না। কোরবানির পশুর ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে সরকার। এরই মধ্যে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

আবহাওয়া

রাজধানীর যে ৬৮ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে লাগবে ফুয়েল পাস

বাজার নিয়ন্ত্রণে ডিসিদের নজরদারি বাড়াতে বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৪:১৪:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সহায়তা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের কাছে আমরা একটি জিনিস চেয়েছি, তা হলো আগামীদিনে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য তারা যেন নজরদারি বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখেন।

প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকার উভয়ে সমন্বিতভাবে এসব পদক্ষেপের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে কীভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

সোমবার (৪ মে) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ডিসিরা কোনো সমস্যা অনুভব করেন কি না বা এ জাতীয় কোনো সমস্যার কথা জানিয়েছেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাজারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় তো আছেই। যেমন— উৎপাদক পর্যায়ের মূল্য এবং খুচরা বাজারের মূল্যের মধ্যে, বিশেষ করে কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে, বড় একটা গ্যাপ (পার্থক্য) থাকে। আরেকটি বিষয় হলো, এই বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য গত ৫০-৫৫ বছরে কোনো সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে ওঠেনি।

তিনি বলেন, আমরাই এই সরকারে প্রথম উদ্যোগ নিচ্ছি, যাতে আমদানি পর্যায় থেকে শুরু করে একদম খুচরা পর্যায়ে বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনটিকে (সরবরাহ ব্যবস্থা) একটি এআই জেনারেটেড মডেলের অধীনে নিয়ে আসা যায়। এমন একটি মডেল তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে আমরা সারাক্ষণ বাজার পর্যবেক্ষণ করতে পারব।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব পণ্যের জন্য আমরা আমদানির ওপর নির্ভরশীল, সেসব পণ্যের একটি স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ (কৌশলগত মজুত) তৈরি করার প্রকল্প আমরা নিতে যাচ্ছি। বর্তমানে আমাদের পর্যাপ্ত স্টোরেজ বা সংরক্ষণের সুবিধা নেই। আমরা এমন ব্যবস্থা করতে চাই, যাতে গুটি কয়েক লোকের ওপর আমাদের নির্ভর করতে না হয়।

সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমি শুধু সিন্ডিকেটের কথা বলছি না, সবকিছু যে সিন্ডিকেটের কারণে হয়, তাও নয়। বাজার ব্যবস্থার অসামঞ্জস্যের কারণেও অনেক সময় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। এসব সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি (সংরক্ষণাগার) নির্মাণ, স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ তৈরি এবং একটি সমন্বিত বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার মতো আমাদের আগামী দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে ডিসিদের সংক্ষেপে ধারণা দিয়েছি।’

কোরবানি পরবর্তী সাতদিন সারা দেশ থেকে ঢাকায় কোনো চামড়া প্রবেশ করবে না। এবারও চামড়া সংরক্ষণের জন্য বিসিকের মাধ্যমে বিনামূল্যে লবণ দেবে সরকার। প্রতিটি এলাকায় ব্যবসায়ী ও মসজিদ-মাদরাসায় চামড়া সংরক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, আগামী কোরবানি ঈদে কোনো চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য ডিসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মসজিদ-মাদরাসার দায়িত্বশীলদের ডেকে প্রশিক্ষণ দেবে সরকার। তারা কোরবানির পর চামড়া সংরক্ষণ করবেন।

আগে দেখা গেছে চামড়ার দাম না পেয়ে কেউ কেউ ক্ষোভে চামড়া মাটিতে পুঁতে রেখেছেন বা ফেলে দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারি খরচে বিসিকের মাধ্যমে প্রতিটি এলাকায় বিনামূল্যে লবণ পৌঁছে দেওয়া হবে। সেখানে চামড়ায় লবণ মাখানো হবে এবং কোরবানি ঈদের পরবর্তী সাতদিন কোনো ট্রাকে চামড়া তোলা হবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদের সঙ্গে সঙ্গে চামড়াগুলো ঢাকায় চলে এলে আলাদা চাপ তৈরি হয়। আমরা সেটা হতে দেব না। একটি চামড়াও নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, আগে দেখা গেছে চামড়ার দাম না পেয়ে কেউ কেউ ক্ষোভে চামড়া মাটিতে পুঁতে রেখেছেন বা ফেলে দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হবে।

সীমান্ত দিয়ে কোরবানির পশু যাতে অবৈধভাবে দেশে ঢুকতে না পারে সেজন্য সরকার কঠোর নজরদারি করবে বলেও জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি বলেন, সীমান্তে বিজিবি, পুলিশসহ কঠোর নজরদারি করা হবে। কোনো অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না।

মন্ত্রী আরও জানান, হাট এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকবে। সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করবে। অনলাইনে পশু বেচাকেনায় খাজনা বা হাসিল দিতে হবে না। কোরবানির পশুর ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে সরকার। এরই মধ্যে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।