Dhaka রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে হামের টিকার মজুত ছিল না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় হামের টিকার কোনো মজুত ছিল না বলে জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া এবং টিকার তীব্র ঘাটতি বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ।

রোববার (১৭ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘হাম ও ডেঙ্গুরোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক জনসচেতনতা সপ্তাহ উদ্বোধন ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে ডিসেম্বরে সর্বশেষ হয়েছে, তারপরে ২৬ পর্যন্ত আমরা শুরু করার আগপর্যন্ত মিজেলসের (হাম) কোনো টিকা দেওয়া হয় নাই। এমনকি মিজেলসের একটা টিকা আমাদের হাতে ছিল না।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০২০ সালের পর দেশে নিয়মিত হাম টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। একপর্যায়ে দেশে হামের টিকাও ছিল না। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহায়তায় টিকা সংগ্রহ করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৪ এপ্রিল আক্রান্ত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে চার সিটি করপোরেশনসহ সারা দেশে কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা না পাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে ইউনিসেফ ও গ্যাভির সঙ্গে বৈঠক করে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইউনিসেফ থেকে টিকা আসতে সময় লাগত। তখন গ্যাভির কাছে আমরা সহায়তা চাই। তারা দ্রুত আমাদের প্রয়োজনীয় টিকা দেয়। সেই টিকা দিয়েই ৪ এপ্রিল ১৮টি আক্রান্ত জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করি।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পরবর্তীতে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম চালানো হয়। পরে ইউনিসেফের টিকা হাতে পাওয়ার পর সারা দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়।

তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সারা দেশে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা মাইকিং করছি, বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি, যেসব শিশু টিকা পায়নি তাদের খুঁজে বের করছি। শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

হামের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, টিকা কার্যক্রম শুরুর পর আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। নিশ্চিত হাম রোগীর মৃত্যুও কমেছে।

কেউ কেউ বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে অভ্যস্ত নয় বলে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকেই শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে সচেতন নন। এমনকি সিজারিয়ান প্রসবের পর অনেক ক্ষেত্রে শিশু মায়ের শালদুধ থেকে বঞ্চিত হয়, যা শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, ছয় মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনে ভূমিকা রাখে।

ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের সাবেক মহাসচিব এবং সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুস সালাম ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

আবহাওয়া

বিসিবি নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে হামের টিকার মজুত ছিল না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৭:২৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় হামের টিকার কোনো মজুত ছিল না বলে জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া এবং টিকার তীব্র ঘাটতি বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ।

রোববার (১৭ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘হাম ও ডেঙ্গুরোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক জনসচেতনতা সপ্তাহ উদ্বোধন ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে ডিসেম্বরে সর্বশেষ হয়েছে, তারপরে ২৬ পর্যন্ত আমরা শুরু করার আগপর্যন্ত মিজেলসের (হাম) কোনো টিকা দেওয়া হয় নাই। এমনকি মিজেলসের একটা টিকা আমাদের হাতে ছিল না।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০২০ সালের পর দেশে নিয়মিত হাম টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। একপর্যায়ে দেশে হামের টিকাও ছিল না। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহায়তায় টিকা সংগ্রহ করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৪ এপ্রিল আক্রান্ত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে চার সিটি করপোরেশনসহ সারা দেশে কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা না পাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে ইউনিসেফ ও গ্যাভির সঙ্গে বৈঠক করে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইউনিসেফ থেকে টিকা আসতে সময় লাগত। তখন গ্যাভির কাছে আমরা সহায়তা চাই। তারা দ্রুত আমাদের প্রয়োজনীয় টিকা দেয়। সেই টিকা দিয়েই ৪ এপ্রিল ১৮টি আক্রান্ত জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করি।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পরবর্তীতে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম চালানো হয়। পরে ইউনিসেফের টিকা হাতে পাওয়ার পর সারা দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়।

তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সারা দেশে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা মাইকিং করছি, বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি, যেসব শিশু টিকা পায়নি তাদের খুঁজে বের করছি। শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

হামের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, টিকা কার্যক্রম শুরুর পর আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। নিশ্চিত হাম রোগীর মৃত্যুও কমেছে।

কেউ কেউ বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে অভ্যস্ত নয় বলে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকেই শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে সচেতন নন। এমনকি সিজারিয়ান প্রসবের পর অনেক ক্ষেত্রে শিশু মায়ের শালদুধ থেকে বঞ্চিত হয়, যা শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, ছয় মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনে ভূমিকা রাখে।

ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের সাবেক মহাসচিব এবং সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুস সালাম ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।