Dhaka রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজালালে অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা গ্রেফতার, ৫৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চেতনানাশক ট্যাবলেটসহ অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা মো. তাজুল ইসলামকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। শনিবার (১৬ মে) রাতে এ অভিযান চালানো হয়।

রোববার (১৭ মে) বিকেলে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস্) অনিতা রানী সূত্রধর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ১৬ মে ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন (১৮) তার খালাতো ভাইকে বিদায় জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। বিদায় শেষে ডিপার্চার এলাকায় অবস্থানকালে ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন সরল বিশ্বাসে আসামি মো. তাজুল ইসলাম দেওয়া কফি পান করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে গত ১৭ মে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করি।

গ্রেফতারের পর তাকে তল্লাশি করে ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেনের দুটি মোবাইল ফোন ও কিছু নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও তার ব্যাগ থেকে প্রায় ১৫ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

অনিতা রানী সূত্রধর বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামি জানান, তারা বাস বা রেলস্টেশনে গিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথাবার্তার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে। পরবর্তীতে চা, কফি বা সফট ড্রিংকের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাদের অজ্ঞান করে মালামাল হাতিয়ে নেন। নিজেদের সন্দেহমুক্ত রাখতে মাঝে মাঝে শারীরিকভাবে অক্ষম বা অসুস্থ ব্যক্তির অভিনয়ও করেন, যাতে ভিকটিম সন্দেহ না করে। গ্রেফতার আসামিসহ আরও ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি অজ্ঞান পার্টির গ্যাং গড়ে তুলেছেন তারা। চুরিকৃত মালামাল মিরপুরের দারুসসালাম এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে সংরক্ষণ করে রাখতেন।

তিনি বলেন, দারুসসালাম এলাকার হোটেল রয়েলে অভিযান পরিচালনা করে ৫৫টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন, ১০টি বিভিন্ন মডেলের এয়ারবাড হেডফোন, ১৫টি হাতঘড়ি, ৪ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট, ২টি চেতনানাশক পুরিয়া, নগদ বাংলাদেশি ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা, সৌদি আরবের ৫৩.৫০ রিয়াল, তুরস্কের ১ লিরা এবং বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস্) অনিতা রানী সূত্রধর বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অজ্ঞান পার্টি প্রতিরোধ, চোরাচালান রোধ এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে এয়ারপোর্ট এপিবিএন বরাবরের মতোই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের অপতৎপরতা রোধে এয়ারপোর্ট এপিবিএন বদ্ধপরিকর। বিমানবন্দর এলাকায় অজ্ঞান পার্টি প্রতিরোধ ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আবহাওয়া

শাহজালালে অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা গ্রেফতার, ৫৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার

শাহজালালে অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা গ্রেফতার, ৫৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চেতনানাশক ট্যাবলেটসহ অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা মো. তাজুল ইসলামকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। শনিবার (১৬ মে) রাতে এ অভিযান চালানো হয়।

রোববার (১৭ মে) বিকেলে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস্) অনিতা রানী সূত্রধর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ১৬ মে ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন (১৮) তার খালাতো ভাইকে বিদায় জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। বিদায় শেষে ডিপার্চার এলাকায় অবস্থানকালে ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন সরল বিশ্বাসে আসামি মো. তাজুল ইসলাম দেওয়া কফি পান করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে গত ১৭ মে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করি।

গ্রেফতারের পর তাকে তল্লাশি করে ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেনের দুটি মোবাইল ফোন ও কিছু নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও তার ব্যাগ থেকে প্রায় ১৫ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

অনিতা রানী সূত্রধর বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামি জানান, তারা বাস বা রেলস্টেশনে গিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথাবার্তার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে। পরবর্তীতে চা, কফি বা সফট ড্রিংকের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাদের অজ্ঞান করে মালামাল হাতিয়ে নেন। নিজেদের সন্দেহমুক্ত রাখতে মাঝে মাঝে শারীরিকভাবে অক্ষম বা অসুস্থ ব্যক্তির অভিনয়ও করেন, যাতে ভিকটিম সন্দেহ না করে। গ্রেফতার আসামিসহ আরও ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি অজ্ঞান পার্টির গ্যাং গড়ে তুলেছেন তারা। চুরিকৃত মালামাল মিরপুরের দারুসসালাম এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে সংরক্ষণ করে রাখতেন।

তিনি বলেন, দারুসসালাম এলাকার হোটেল রয়েলে অভিযান পরিচালনা করে ৫৫টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন, ১০টি বিভিন্ন মডেলের এয়ারবাড হেডফোন, ১৫টি হাতঘড়ি, ৪ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট, ২টি চেতনানাশক পুরিয়া, নগদ বাংলাদেশি ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা, সৌদি আরবের ৫৩.৫০ রিয়াল, তুরস্কের ১ লিরা এবং বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস্) অনিতা রানী সূত্রধর বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অজ্ঞান পার্টি প্রতিরোধ, চোরাচালান রোধ এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে এয়ারপোর্ট এপিবিএন বরাবরের মতোই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের অপতৎপরতা রোধে এয়ারপোর্ট এপিবিএন বদ্ধপরিকর। বিমানবন্দর এলাকায় অজ্ঞান পার্টি প্রতিরোধ ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।