প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশই সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালু হয়েছে, এটা বন্ধ হওয়ার কোনো অবকাশ নেই : বিমানমন্ত্রী

সিলেট জেলা প্রতিনিধি : 

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশই সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালু হয়েছে, এটা বন্ধ হওয়ার কোনো অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ওসমানী বিমানবন্দরে ম্যানচেস্টার ফ্লাইটের যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানানো শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক উদ্যোগ ও নির্দেশনায় এ রুট পুনরায় চালু হয়েছে, যা যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি, বিশেষ করে, সিলেটি প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। তিনি বলেন, সরকার এ রুটের নিয়মিত ও টেকসই পরিচালনায় বদ্ধপরিকর।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, বিমানভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য আরও সুবিধা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

মন্ত্রী বলেন, ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইতিমধ্যে বিমান লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর ফলে ভবিষ্যতে এই ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার আর কোনো আশঙ্কা থাকবে না।

আফরোজা খানম বলেন, আমাদের লক্ষ্য এই বিমানবন্দরকে প্রধান্য দেওয়া। আমরা দেখেছি, অনেক প্রবাসী সরাসরি সিলেটে আসতে চান। দেশের প্রতি তাদের আলাদা একটা মায়া আছে। অন্যান্য জেলার তুলনায় সিলেটের মানুষ সব সময় ব্যতিক্রম। ম্যানচেস্টারের জন্য যেভাবে আকুতি জানিয়েছেন, আমার মনে হয়েছে, এটা আমাকে খুলতেই হবে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথেও আলোচনা করেছি।

১২৬ দিন পর চালু হওয়া ফ্লাইট বন্ধ হবে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে ফ্লাইট চালু হয়েছে, আমরা চাই, সেটা চালু থাকুক। এয়ারক্রাফট চলে এসেছে, যে কারণে এটা আর বন্ধ হবে না।

সিলেট-কক্সবাজার ফ্লাইট যতদ্রুত সম্ভব চালু করার চেষ্টা রয়েছে জানিয়ে আফরোজা খানম বলেন, শুধু বিমান চলাচল নয়, সিলেটের ট্যুরিজমকে একটি ভাল পর্যায়ে নিতে পারি, সে উদ্যোগ রয়েছে। আমরা সিলেটে ট্যুরিজমের হাব তৈরী করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সিলেটে বিমানের অভ্যন্তরীণ রুটে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আভ্যন্তরীণ নিয়ে আমরা কাজ করছি। বিমানে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা সরাতে সময় লাগবে। অবশ্য মধ্যবিত্তরাও যাতে বিমানে ভ্রমণ করতে পারেন, সে চেষ্টা আমাদের রয়েছে।

আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স সিলেটে না আসা নিয়ে তিনি বলেন, আমরা সার্বিক বিষয় নিয়ে কাজ করছি। বিমানের অবস্থান থেকে ভাড়া যতটুকু সাশ্রয় করা যায়, চেষ্টায় রয়েছি।

বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজ ২০২৭ সালের দিকে শেষ হবে এবং আমরা হাতে পেয়ে যাবো বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তখন এই বিমানবন্দর আন্তর্জাতিকভাবে আরো ফোকাস হয়ে যাবে।

হিথ্রেুা থেকে ঢাকায় ৮০০ পাউন্ড বিমানের ভাড়া, আর সিলেটের ১২০০-১৩০০ পাউন্ড হয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যুক্তরাজ্যে গিয়েও একই অভিযোগ শুনে এসেছি। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

শিল্প ও বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট-ম্যানচেষ্টার ফ্লাইট প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি। প্রধানমন্ত্রী সেটা চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। এতে প্রবাসে থাকা এ অঞ্চলের মানুষের কষ্ট লাঘব হবে। আজকের দিনটি আমাদের জন্য খুশির দিন। এই ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আমরা সবাই সচেতন ছিলাম।

তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী ম্যানুফেস্টেও ছিল, সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি রিজিওনাল হাব হিসেবে তৈরি করতে চাই। অর্থাৎ বাংলাদেশের আশপাশের অঞ্চলের ফ্লাইটগুলো যেনো এখানে আসে। আমাদের ইচ্ছা আছে, সিলেট থেকে গোহাটি ও অন্যান্য রুটে যেনো বিমান চলাচল করে। তাতে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার হবে, বাণিজ্যও আরও সমৃদ্ধ হবে।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, সিলেটে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, উন্নত বিমান যোগাযোগের মাধ্যমে পর্যটন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। নিরাপদ, আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব বিমানসেবা নিশ্চিত করে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সৃষ্টিই সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রীরা ম্যানচেস্টার-সিলেট রুটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। পরে তাঁরা ম্যানচেস্টার থেকে আগত যাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। যাত্রীরা ফ্লাইটটি পুনরায় চালু করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং নিয়মিত এ সেবা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এ সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেক, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

২৭তম বিসিএস : বঞ্চিত আরো ৭৮ জনকে নিয়োগ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশই সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালু হয়েছে, এটা বন্ধ হওয়ার কোনো অবকাশ নেই : বিমানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৯:০৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

সিলেট জেলা প্রতিনিধি : 

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশই সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালু হয়েছে, এটা বন্ধ হওয়ার কোনো অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ওসমানী বিমানবন্দরে ম্যানচেস্টার ফ্লাইটের যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানানো শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক উদ্যোগ ও নির্দেশনায় এ রুট পুনরায় চালু হয়েছে, যা যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি, বিশেষ করে, সিলেটি প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। তিনি বলেন, সরকার এ রুটের নিয়মিত ও টেকসই পরিচালনায় বদ্ধপরিকর।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, বিমানভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য আরও সুবিধা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

মন্ত্রী বলেন, ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইতিমধ্যে বিমান লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর ফলে ভবিষ্যতে এই ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার আর কোনো আশঙ্কা থাকবে না।

আফরোজা খানম বলেন, আমাদের লক্ষ্য এই বিমানবন্দরকে প্রধান্য দেওয়া। আমরা দেখেছি, অনেক প্রবাসী সরাসরি সিলেটে আসতে চান। দেশের প্রতি তাদের আলাদা একটা মায়া আছে। অন্যান্য জেলার তুলনায় সিলেটের মানুষ সব সময় ব্যতিক্রম। ম্যানচেস্টারের জন্য যেভাবে আকুতি জানিয়েছেন, আমার মনে হয়েছে, এটা আমাকে খুলতেই হবে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথেও আলোচনা করেছি।

১২৬ দিন পর চালু হওয়া ফ্লাইট বন্ধ হবে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে ফ্লাইট চালু হয়েছে, আমরা চাই, সেটা চালু থাকুক। এয়ারক্রাফট চলে এসেছে, যে কারণে এটা আর বন্ধ হবে না।

সিলেট-কক্সবাজার ফ্লাইট যতদ্রুত সম্ভব চালু করার চেষ্টা রয়েছে জানিয়ে আফরোজা খানম বলেন, শুধু বিমান চলাচল নয়, সিলেটের ট্যুরিজমকে একটি ভাল পর্যায়ে নিতে পারি, সে উদ্যোগ রয়েছে। আমরা সিলেটে ট্যুরিজমের হাব তৈরী করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সিলেটে বিমানের অভ্যন্তরীণ রুটে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আভ্যন্তরীণ নিয়ে আমরা কাজ করছি। বিমানে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা সরাতে সময় লাগবে। অবশ্য মধ্যবিত্তরাও যাতে বিমানে ভ্রমণ করতে পারেন, সে চেষ্টা আমাদের রয়েছে।

আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স সিলেটে না আসা নিয়ে তিনি বলেন, আমরা সার্বিক বিষয় নিয়ে কাজ করছি। বিমানের অবস্থান থেকে ভাড়া যতটুকু সাশ্রয় করা যায়, চেষ্টায় রয়েছি।

বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজ ২০২৭ সালের দিকে শেষ হবে এবং আমরা হাতে পেয়ে যাবো বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তখন এই বিমানবন্দর আন্তর্জাতিকভাবে আরো ফোকাস হয়ে যাবে।

হিথ্রেুা থেকে ঢাকায় ৮০০ পাউন্ড বিমানের ভাড়া, আর সিলেটের ১২০০-১৩০০ পাউন্ড হয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যুক্তরাজ্যে গিয়েও একই অভিযোগ শুনে এসেছি। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

শিল্প ও বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট-ম্যানচেষ্টার ফ্লাইট প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি। প্রধানমন্ত্রী সেটা চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। এতে প্রবাসে থাকা এ অঞ্চলের মানুষের কষ্ট লাঘব হবে। আজকের দিনটি আমাদের জন্য খুশির দিন। এই ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আমরা সবাই সচেতন ছিলাম।

তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী ম্যানুফেস্টেও ছিল, সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি রিজিওনাল হাব হিসেবে তৈরি করতে চাই। অর্থাৎ বাংলাদেশের আশপাশের অঞ্চলের ফ্লাইটগুলো যেনো এখানে আসে। আমাদের ইচ্ছা আছে, সিলেট থেকে গোহাটি ও অন্যান্য রুটে যেনো বিমান চলাচল করে। তাতে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার হবে, বাণিজ্যও আরও সমৃদ্ধ হবে।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, সিলেটে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, উন্নত বিমান যোগাযোগের মাধ্যমে পর্যটন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। নিরাপদ, আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব বিমানসেবা নিশ্চিত করে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সৃষ্টিই সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রীরা ম্যানচেস্টার-সিলেট রুটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। পরে তাঁরা ম্যানচেস্টার থেকে আগত যাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। যাত্রীরা ফ্লাইটটি পুনরায় চালু করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং নিয়মিত এ সেবা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এ সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেক, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।