নিজস্ব প্রতিবেদক :
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর কাছে এক মাস সময় চেয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আগামী ২১ ও ২২ মে তলব করেছিল দুদক। এ দুদিন তাকে দুদক কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হতে বলা হয়। অভিযোগের বিষয়ে নিজের বক্তব্য জানাতে দুদকের কাছে একমাস সময় চেয়ে আবেদন করেন জাহাঙ্গীর।
বৃহস্পতিবার (১৮ মে) দুদকের উপ-পরিচালক মো. আলী আকবর (অনুসন্ধান ও তদন্ত) বরাবর পাঠানো চিঠিতে তিনি এ সময় আবেদন করেন।
চিঠিতে জাহাঙ্গীর আলম উল্লেখ করেন, ‘গত ১৬ মে আপনার (মো. আলী আকবর, উপ-পরিচালক, দুদক) সই করা দুটি নোটিশ গ্রহণ করি। নোটিশে আমাকে আগামী ২১ মে সকাল ১০টায় সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য দেওয়ার জন্য দুদক কার্যালয়ে উপস্থিত হতে অনুরোধ করা হয়। এত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে আনিত অভিযোগের ব্যাপারে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দাখিল বা বক্তব্য দেওয়া আমার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। যথাযথ দফাওয়ারি জবাব দাখিল বা বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমার একমাস সময় প্রয়োজন।
সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠিতে আরও বলা হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আমাকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য দুদক কার্যালয়ে উপস্থিত হতে একমাস সময় বাড়িয়ে শুনানির জন্য পুনরায় তারিখ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন বলে আশা করছি।
দলীয় মনোনয়ন নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করা জাহাঙ্গীরকে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোটে দাঁড়ানোয় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। এরইমধ্যে তার স্ত্রীর পক্ষ থেকে তালাকের নোটিশ পাওয়ার রেশ না কাটতে এবার জাহাঙ্গীর আলমকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
কমিশন আইনের ১৯ ও ২০ ধারা মতে ‘অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ’ করার জন্য দেওয়া এই নোটিশ অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎসহ ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৫ মে জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়। ১৪ মে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে জাহাঙ্গীর আলমকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি ওঠে।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও নিজ জেলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে নিয়ে গাজীপুর সিটির তৎকালীন মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিতর্কিত বক্তব্যের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর জেরে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় তাকে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























