সিলেট জেলা প্রতিনিধি :
সিলেট-ঢাকা রেলপথে ট্রেনের ইঞ্জিন সংকট রয়েছে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তবে এই সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, রেলসহ সিলেট অঞ্চলের উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। চলমান পরিকল্পনাগুলো সেই গুরুত্বের ভিত্তিতেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিলেট আমাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও সিলেটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি এই অঞ্চলে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম অনুমোদন দিয়েছেন। রেল উন্নয়ন পরিকল্পনাতেও সিলেটকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট রুটে ব্রডগেজ ও ডুয়েলগেজ রেললাইন সম্প্রসারণের বিষয়টি বর্তমানে সমীক্ষা পর্যায়ে রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেট রুটে রেল যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আসবে, আশাবাদি তিনি।
তিনি বলেন, সিলেট রুটে মিটারগেজ রেলসেবায় লোকোমোটিভ সংকট ও একক লাইনের কারণে প্রায়ই শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। অবশ্য সীমিত সম্পদের মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। কোথাও ইঞ্জিন বিকল হলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে পুরো শিডিউল বিপর্যস্ত হয়ে যায়। কারণ অনেক জায়গায় এখনো সিঙ্গেল লাইন। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আমরা কাজ করছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিটারগেজ অঞ্চলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকোমোটিভ নেই। অনেক ক্ষেত্রে ৩০ সিরিজের ইঞ্জিনের পরিবর্তে ২৯ সিরিজের পুরোনো লোকোমোটিভ দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। কোথাও ৩০ থেকে ৩৫টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন হলেও সচল আছে মাত্র ১৪ থেকে ১৫টি। বাকিগুলো মেরামত করে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা সমস্যা নিয়ে বসে থাকতে চাই না, দ্রুত সমাধান করতে চাই। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যাতে দায়িত্বে কোনো ঘাটতি না থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হয়েছে।
রেল কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকায় বসে কেবল নির্দেশনা দিলে হবে না, সরাসরি সেবা পরিস্থিতি দেখতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রেলপথ প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিটারগেজ অঞ্চলে লোকোমোটিভ সংকট বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। যেসব রুটে ৩০ সিরিজের লোকোমোটিভ ব্যবহার হওয়ার কথা, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো ২৯ সিরিজের ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। কোথাও ৩০ থেকে ৩৫টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন হলেও সচল অবস্থায় আছে মাত্র ১৪ থেকে ১৫টি। বাকিগুলো মেরামত করে চালাতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা শুধু সমস্যা নিয়ে বসে থাকতে চাই না, সমস্যার সমাধান করতে চাই। আমাদের যতটুকু সক্ষমতা আছে, সেই জায়গায় দায়িত্বে কোনো ঘাটতি আছে কি না, সেবায় কোনো দুর্বলতা আছে কি না, সেটি নিশ্চিত করতে আমরা নিজেরাই মাঠপর্যায়ে যাচ্ছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেল কর্মকর্তাদেরও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় বসে অফিস করলে হবে না। সবাইকে নিজ নিজ জোনে যেতে হবে, সেবা পরিস্থিতি দেখতে হবে। কোথাও দায়িত্বে অবহেলা হচ্ছে কি না, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্বে কোনো গাফিলতি আমরা মেনে নেব না।
সিলেট অঞ্চলের রেল উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সিলেটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং সেই কারণে রেল উন্নয়ন পরিকল্পনায়ও অঞ্চলটি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সিলেটে ব্রডগেজ ও ডুয়েলগেজ রেললাইন সম্প্রসারণের বিষয়টি বর্তমানে সমীক্ষা পর্যায়ে রয়েছে।
ঈদ সামনে রেখে সিলেট অঞ্চলে অতিরিক্ত কোচ ও লোকোমোটিভ সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন ট্রেন চালুর প্রতিশ্রুতি দেননি তিনি। বলেন, নতুন লোকোমোটিভ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে আরো সেবা বাড়ানো সম্ভব হবে।
রেলের জমি দখলমুক্ত করার বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, রেলের যেসব জমি বেদখল হয়েছে, সেগুলো উদ্ধার করতে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেই দখল করে থাকুক না কেন, তাকে উচ্ছেদ করা হবে।
রেলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পণ্য পরিবহন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে রেল মূলত পণ্য পরিবহন থেকেই লাভবান হয়। বাংলাদেশেও সেই খাতকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। যাত্রীসেবার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন বাড়াতে পারলে রেলের আয় বাড়বে। মানুষ এখন রেলে ভ্রমণে আগ্রহী। তাই সেবার মানো বাড়াতে হবে।
এরআগে সকালে রেলযোগে সিলেট পৌঁছে প্রতিমন্ত্রী হযরত শাহজালাল (রহ.) এবং শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন।
পরে দিনব্যাপী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বিআরটিসি, বিআরটিএ, রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়সহ নানা কর্মসূচি শেষে রাতে রেলযোগে ঢাকা ঢাকায় ফিরবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২ মে দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের রেল-সড়ক, কৃষি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানান।
সিলেট জেলা প্রতিনিধি 






















