নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, সবাই মিলে কাজ করলে আগামী ছয় মাসেই বদলে যাবে ঢাকা শহর। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। আজ যেভাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কারে এগিয়ে এসেছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ঢাকা একটি আধুনিক ও সবুজ নগরীতে পরিণত হবে।
শনিবার (৯ মে) ডিএসসিসিতে একযোগে ‘ক্লিনিং ডে’ উদ্বোধনে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতি মাসের প্রথম শনিবারকে ‘ক্লিনিং ডে’ ঘোষণা করার পর এটিই ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক আয়োজন। এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং নগরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রতিটি অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা (আনিক) সরাসরি মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি করেন। এতে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত প্লট মালিকরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। নিজ নিজ আঙিনা, ভবন, রাস্তা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রমে তাদের দিনব্যাপী অংশগ্রহণ দেখা যায়।
সকালে ঢাকার মালিবাগ এলাকার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে আধুনিক অন্তর্বর্তী বর্জ্য হস্তান্তর কেন্দ্র (এসটিএস) ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
তিনি বলেন, প্রতি মাসের প্রথম শনিবার রাজধানীর প্রতিটি বাড়ি, বাজার, আবাসিক এলাকা, মসজিদ ও মার্কেটসহ সব জায়গায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। এছাড়া, সরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে অফিস চলাকালীন যে কোনো একদিন এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবে। সব রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন, স্কাউট, বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের সদস্যদের এই মহৎ কাজে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রশাসক বলেন, এডিস মশার প্রজনন রোধে বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব ও আঙিনায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কলাবাগান ও মালিবাগের মতো পর্যায়ক্রমে পুরো শহরের সব সেকেন্ডারি বর্জ্য হস্তান্তর কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ও ডিএসসিসির ‘ক্লিনিং ডে’ নাগরিকদের মধ্যে উত্তম চর্চার প্রসার ঘটাতে এবং পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত ঢাকা গড়তে সহায়ক হবে আশা করছি।
ডিএসসিসির কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত ‘ক্লিনিং ডে’ পালন ও নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজধানীতে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে ইতিবাচক সামাজিক চর্চা গড়ে উঠবে এবং ডেঙ্গুমুক্ত ঢাকা বাস্তবায়নে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























