ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতীতে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি :

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতীতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকের আরও ছয় যাত্রী আহত হয়েছেন। এঁরা সবাই ট্রাকে চেপে ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গ যাচ্ছিলেন।

সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- নওগাঁর মান্দা উপজেলার সাকিম মিয়ার ছেলে মো. সাগর মিয়া (২০), একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), নওগাঁর মান্দা উপজেলার আব্দুর রশিদের ছেলে মো. বারিক (২১), একই উপজেলার আব্দুর রহিমের ছেলে বাদশা (৩২) নওগাঁর পাকুরিয়া গ্রামের রশিদের ছেলে গিয়াস (২০) একই এলাকার রশিদের ছেলে মাইনুল (২৮) রাজেন্দ্রবাটি এলাকার একাব্বর আলীর ছেলে ইয়াকুব (২০), একই এলাকার সুলতানের ছেলে তারেক (২০), একই জেলার হোসেনপুর এলাকার জাফরের ছেলে মাইনুল (৩৫), একই জেলার রামগ্রা এলাকার সুজন (৩৫), রাজশাহীর তানুর উপজেলার আলতাফ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নজরুল (৬০), একই জেলার সদর উপজেলার মামুন (৪৫), কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার হবিবুর প্রামাণিকের ছেলে হাসান আলী এবং নাটোরের ইব্রাহীমের ছেলে মোহাম্মদ আলম মোল্লা।

আহতদের মধ্যে ৮ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন- নওগাঁর মান্দা থানার ডেমরা গ্রামের মজিবরের ছেলে বাবু (৩৫), একই থানার হোসেনপুরের আব্দুর রহিমের ছেলে আব্দুল রহমান (৩৫), দশপাড়া গ্রামের নজরুলের ছেলে তুহিন (৩০), পাকুরিয়া গ্রামের সফেদ আলীর ছেলে আলমগীর (৪০), একই গ্রামের ছোরহাব আলীর ছেলে সিদ্দিক আলী (৪০), একই থানার রাজেন্দ্রবাড়ি গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে খোরশেদ (২৬), ডেমরা গ্রামের শহিদুলের ছেলে সমেজ (২৭) এবং নাটোর জেলার মৃত মান্নানের ছেলে নয়ন বিশ্বাস (৩২)। তারা সবাই নোয়াখালীতে বসবাস করে হরেক মালের ব্যবসা করতেন। রডবোঝাই ট্রাকে কম ভাড়ায় ঈদ করতে তারা নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছিলেন।

স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে আসা রড বোঝাই ট্রাকের ওপর যাত্রীরা ছিলেন। তারা উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে ট্রাক (ঢাকা-মেট্রো-ট-১২-৫৪৭১) মহাসড়কের পাশে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহত ১০ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা রাফি আল ফারুক বলেন, সোমবার ভোরে রডসহ যাত্রীবোঝাই একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে ট্রাকটি পড়ে উল্টে যায়। ভোর ৪টা ৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের কাছে দুর্ঘটনাটির খবর আসে। ঘটনাস্থলে টাঙ্গাইল ও এলেঙ্গা ফায়ার স্টেশনের সদস্য পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এ সময় ট্রাকের নিচে চাপা পড়া নিহত ১৫ জনকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া এই পর্যন্ত আহত আরও ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছেন। আহতদের টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া রাব্বানি নামের এক যাত্রী বলেন, আমরা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। হঠাৎ দেখি ট্রাক উল্টে গেছে। এরপর আর কিছুই বলতে পারব না।

আহত যাত্রী আব্দুর রহমান বলেন, ট্রাকটি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় যাওয়ার কথা ছিল। ফেনী থেকে বাসের ভাড়া জনপ্রতি ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা হয়। কিছু টাকা বাঁচাতে গিয়ে আমরা ট্রাকে উঠি। টাকা বাঁচাতে গিয়েই আজ এই মানুষগুলোর মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, ফেনী থেকে প্রায় ১৮ জন একসঙ্গে ট্রাকে চড়েন। এরপর ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আরও কয়েকজনকে তোলা হয়। হতাহতরা সবাই মূলত পেশায় হকার।

এদিকে উদ্ধার কাজের কারণে ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ ছিল। পরে সেতু পূর্ব ভূঞাপুর লিংক রোড দিয়ে ঢাকাগামী এবং পুরাতন সড়ক ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এতে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে জানাগেছে।

এ ব্যাপারে যমুনা সেতুর পূর্ব থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান বলেন, নিহত ১৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রাকের চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। একই সঙ্গে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মোহন্ত জানান, নিহত প্রত্যেককে সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার এবং আহত আটজনকে চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। এছাড়া নিহতদের লাশ তাদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য যাবতীয় খরচ বহন করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াত ত্যাগের ঘোষণা শেখ তারেকের

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতীতে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

প্রকাশের সময় : ১০:০০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি :

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতীতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকের আরও ছয় যাত্রী আহত হয়েছেন। এঁরা সবাই ট্রাকে চেপে ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গ যাচ্ছিলেন।

সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- নওগাঁর মান্দা উপজেলার সাকিম মিয়ার ছেলে মো. সাগর মিয়া (২০), একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), নওগাঁর মান্দা উপজেলার আব্দুর রশিদের ছেলে মো. বারিক (২১), একই উপজেলার আব্দুর রহিমের ছেলে বাদশা (৩২) নওগাঁর পাকুরিয়া গ্রামের রশিদের ছেলে গিয়াস (২০) একই এলাকার রশিদের ছেলে মাইনুল (২৮) রাজেন্দ্রবাটি এলাকার একাব্বর আলীর ছেলে ইয়াকুব (২০), একই এলাকার সুলতানের ছেলে তারেক (২০), একই জেলার হোসেনপুর এলাকার জাফরের ছেলে মাইনুল (৩৫), একই জেলার রামগ্রা এলাকার সুজন (৩৫), রাজশাহীর তানুর উপজেলার আলতাফ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নজরুল (৬০), একই জেলার সদর উপজেলার মামুন (৪৫), কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার হবিবুর প্রামাণিকের ছেলে হাসান আলী এবং নাটোরের ইব্রাহীমের ছেলে মোহাম্মদ আলম মোল্লা।

আহতদের মধ্যে ৮ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন- নওগাঁর মান্দা থানার ডেমরা গ্রামের মজিবরের ছেলে বাবু (৩৫), একই থানার হোসেনপুরের আব্দুর রহিমের ছেলে আব্দুল রহমান (৩৫), দশপাড়া গ্রামের নজরুলের ছেলে তুহিন (৩০), পাকুরিয়া গ্রামের সফেদ আলীর ছেলে আলমগীর (৪০), একই গ্রামের ছোরহাব আলীর ছেলে সিদ্দিক আলী (৪০), একই থানার রাজেন্দ্রবাড়ি গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে খোরশেদ (২৬), ডেমরা গ্রামের শহিদুলের ছেলে সমেজ (২৭) এবং নাটোর জেলার মৃত মান্নানের ছেলে নয়ন বিশ্বাস (৩২)। তারা সবাই নোয়াখালীতে বসবাস করে হরেক মালের ব্যবসা করতেন। রডবোঝাই ট্রাকে কম ভাড়ায় ঈদ করতে তারা নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছিলেন।

স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে আসা রড বোঝাই ট্রাকের ওপর যাত্রীরা ছিলেন। তারা উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে ট্রাক (ঢাকা-মেট্রো-ট-১২-৫৪৭১) মহাসড়কের পাশে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহত ১০ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা রাফি আল ফারুক বলেন, সোমবার ভোরে রডসহ যাত্রীবোঝাই একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে ট্রাকটি পড়ে উল্টে যায়। ভোর ৪টা ৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের কাছে দুর্ঘটনাটির খবর আসে। ঘটনাস্থলে টাঙ্গাইল ও এলেঙ্গা ফায়ার স্টেশনের সদস্য পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এ সময় ট্রাকের নিচে চাপা পড়া নিহত ১৫ জনকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া এই পর্যন্ত আহত আরও ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছেন। আহতদের টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া রাব্বানি নামের এক যাত্রী বলেন, আমরা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। হঠাৎ দেখি ট্রাক উল্টে গেছে। এরপর আর কিছুই বলতে পারব না।

আহত যাত্রী আব্দুর রহমান বলেন, ট্রাকটি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় যাওয়ার কথা ছিল। ফেনী থেকে বাসের ভাড়া জনপ্রতি ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা হয়। কিছু টাকা বাঁচাতে গিয়ে আমরা ট্রাকে উঠি। টাকা বাঁচাতে গিয়েই আজ এই মানুষগুলোর মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, ফেনী থেকে প্রায় ১৮ জন একসঙ্গে ট্রাকে চড়েন। এরপর ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আরও কয়েকজনকে তোলা হয়। হতাহতরা সবাই মূলত পেশায় হকার।

এদিকে উদ্ধার কাজের কারণে ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ ছিল। পরে সেতু পূর্ব ভূঞাপুর লিংক রোড দিয়ে ঢাকাগামী এবং পুরাতন সড়ক ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এতে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে জানাগেছে।

এ ব্যাপারে যমুনা সেতুর পূর্ব থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান বলেন, নিহত ১৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রাকের চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। একই সঙ্গে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মোহন্ত জানান, নিহত প্রত্যেককে সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার এবং আহত আটজনকে চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। এছাড়া নিহতদের লাশ তাদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য যাবতীয় খরচ বহন করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।