অল্প দিনেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে : পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার নদ-নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে চিলমারী বন্দর এলাকায় সাংবাদিকদেও তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার নদ-নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে চিলমারী বন্দর এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তা একটি বড় প্রকল্প। একটি প্রকল্প এক দিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমাদের সরকারের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। আমাদের কিছুদিন সময় দিন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করব।

কুড়িগ্রামের নদীভাঙন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চিলমারী বন্দরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। কুড়িগ্রামে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ ও নদীভাঙন রোধে দুটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো মানুষের ঘরবাড়ি, হাট-বাজার, মসজিদ, মন্দির কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন নদীতে বিলীন হয়ে না যায়, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে আমরা মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করছি।

নদীভাঙন রোধে কোনো ধরনের দলীয় বিবেচনা করা হবে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে সরকার রয়েছে। ইতোমধ্যে কুড়িগ্রামের প্রায় ১০০টি ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। যেখানে আরও কাজের প্রয়োজন রয়েছে, সেখানেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।

স্থানীয়দের উদ্দেশে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, হামার সরকারের মেয়াদ কেবল ৫ মাস। ৫ মাসে (রিপ্যায়ার) সংস্কার করা যায়? বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি। ‘আর ওমরা (আ’লীগ) গত ১৭ বছরে দেশটাকে শেষ করছে।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার চায় না ঘর-বাড়ি নদীতে বিলীন হোক। এজন্য বন্যার পূর্বে আমরা জরুরিভাবে কাজ শুরু করেছি। যেহেতু আমি এই অঞ্চলের মানুষ, সেক্ষেত্রে আমার টান আছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ব্রহ্মপুত্রের তীরে কোন কোন প্রকল্প চলমান আছে, সেগুলো পরিদর্শন করে স্থায়ী প্রকল্প নিতে হবে। ইতোমধ্যে এখানে আমরা কিছু জরুরি প্রকল্পে কাজ শুরু করেছি। ব্রহ্মপুত্রে যে দুটি প্রকল্প চলমান রয়েছে, একটি প্রায় ৯০০ কোটি, অপরটি ৮০০ কোটি টাকার। সেটি যদি আমরা ব্লক দিয়ে করতে পারি, তাহলে আর ভাঙন হবে না।

জরুরি ভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ এবং স্থায়ী প্রকল্পের জন্য ব্লকের কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতির প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলছেন, আমরা দুর্নীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসব, তারপর জিরো পর্যায়ে নিয়ে আসব। বস্তা ফেলবে ১০০টা আর গুনবে ২০০টা, সেই সুযোগ আর নেই। বস্তার ওজন কমানোর সুযোগ নেই। এগুলো আপনারা বুঝে বুঝে নেবেন। এগুলোর প্রত্যেকটা জিনিস আপনাদের টাকার, ইঞ্জিনিয়ার আর ঠিকাদারের ওপর ছেড়ে দেবেন না।

প্রকল্প পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব, শফিকুল ইসলাম বেবু ও জেলা বিএনপির সদস্য সাইয়েদ আহমেদ বাবুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

১০ আগস্ট চালু হচ্ছে ঢাকা-গোপালগঞ্জ ‘অভিযাত্রী কমিউটার’

অল্প দিনেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে : পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০২:২৫:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার নদ-নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে চিলমারী বন্দর এলাকায় সাংবাদিকদেও তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার নদ-নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে চিলমারী বন্দর এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তা একটি বড় প্রকল্প। একটি প্রকল্প এক দিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমাদের সরকারের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। আমাদের কিছুদিন সময় দিন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করব।

কুড়িগ্রামের নদীভাঙন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চিলমারী বন্দরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। কুড়িগ্রামে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ ও নদীভাঙন রোধে দুটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো মানুষের ঘরবাড়ি, হাট-বাজার, মসজিদ, মন্দির কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন নদীতে বিলীন হয়ে না যায়, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে আমরা মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করছি।

নদীভাঙন রোধে কোনো ধরনের দলীয় বিবেচনা করা হবে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে সরকার রয়েছে। ইতোমধ্যে কুড়িগ্রামের প্রায় ১০০টি ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। যেখানে আরও কাজের প্রয়োজন রয়েছে, সেখানেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।

স্থানীয়দের উদ্দেশে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, হামার সরকারের মেয়াদ কেবল ৫ মাস। ৫ মাসে (রিপ্যায়ার) সংস্কার করা যায়? বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি। ‘আর ওমরা (আ’লীগ) গত ১৭ বছরে দেশটাকে শেষ করছে।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার চায় না ঘর-বাড়ি নদীতে বিলীন হোক। এজন্য বন্যার পূর্বে আমরা জরুরিভাবে কাজ শুরু করেছি। যেহেতু আমি এই অঞ্চলের মানুষ, সেক্ষেত্রে আমার টান আছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ব্রহ্মপুত্রের তীরে কোন কোন প্রকল্প চলমান আছে, সেগুলো পরিদর্শন করে স্থায়ী প্রকল্প নিতে হবে। ইতোমধ্যে এখানে আমরা কিছু জরুরি প্রকল্পে কাজ শুরু করেছি। ব্রহ্মপুত্রে যে দুটি প্রকল্প চলমান রয়েছে, একটি প্রায় ৯০০ কোটি, অপরটি ৮০০ কোটি টাকার। সেটি যদি আমরা ব্লক দিয়ে করতে পারি, তাহলে আর ভাঙন হবে না।

জরুরি ভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ এবং স্থায়ী প্রকল্পের জন্য ব্লকের কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতির প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলছেন, আমরা দুর্নীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসব, তারপর জিরো পর্যায়ে নিয়ে আসব। বস্তা ফেলবে ১০০টা আর গুনবে ২০০টা, সেই সুযোগ আর নেই। বস্তার ওজন কমানোর সুযোগ নেই। এগুলো আপনারা বুঝে বুঝে নেবেন। এগুলোর প্রত্যেকটা জিনিস আপনাদের টাকার, ইঞ্জিনিয়ার আর ঠিকাদারের ওপর ছেড়ে দেবেন না।

প্রকল্প পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব, শফিকুল ইসলাম বেবু ও জেলা বিএনপির সদস্য সাইয়েদ আহমেদ বাবুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।