জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ‘জুলাই শেষ হয়নি’ : জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ‘জুলাই শেষ হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জুলাই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। কাজেই জুলাই শেষ হয়নি। জুলাই সেদিনই একটা ভালো পরিসমাপ্তি পাবে, যেদিন জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে। আমরা যেন ক্ষমতার লোভে অন্ধ না হই। বরঞ্চ আমরা যেন জনতার হয়ে থাকতে পারি। দেশসেবার সুযোগ পেলেও যেন জনতাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করতে পারি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল, তা যখন পূরণ হবে, তখনই জুলাই শেষ হওয়ার সার্থকতা হবে। আজ বিভিন্ন ধরনের কথা আছে। কিন্তু সেই চাঁদাবাজি আগের চেয়ে বেশি, সেই দুর্নীতি আগের চেয়ে বেশি, সেই দলীয়করণ আগের চেয়ে বেশি। এর জন্য কি এতগুলো জীবন গেল? এতগুলো মানুষ পঙ্গু হলো, এতগুলো মানুষ আহত হলো?

জামায়াত আমির বলেন, শুধু একটি দলকে সরিয়ে একই ধরনের আরেকটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য জুলাইয়ের এত প্রাণহানি ও ত্যাগ ছিল না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই ছিল আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা। সংসদের ভেতরে আমরা দাবি উত্থাপন করলাম—সংস্কার পরিষদ গঠন করুন, সভা আহ্বান করুন। এরপর আলোচনা হলো, কিন্তু ফলাফল পাইনি। আমরা প্রতিবাদে বেরিয়ে এসে জাতিকে বলেছি, সংসদে আমরা প্রতিকার পাইনি, ন্যায়বিচার পাইনি, আপনাদের অধিকার সংসদে তারা মেনে নেয়নি। এখন আপনাদের সঙ্গে নিয়েই সেই অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে আন্দোলন করব।

‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’- শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি কোনো সরকারের সফলতা তুলে ধরার আয়োজন নয়। বরং যুগে যুগে যারা ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী ছিল, তাদের চিত্র এবং তাদের শাসনামলে জনগণ কীভাবে নিগৃহীত ও অত্যাচারিত হয়েছে, তা তুলে ধরাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। জাতির প্রত্যাশা কী, শহীদদের প্রত্যাশা কী, শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা কী এগুলো তুলে ধরার জন্যই মূলত আমাদের এই আয়োজন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সাড়ে ১৫ বছর ধরে বিভিন্নভাবে মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে। এ সময় আন্দোলন করতে গিয়ে অনেকে জীবন দিয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন এবং মামলার ভার বহন করেছেন। তবে এতে আন্দোলন থেমে যায়নি। জুলাইয়ে আবারও মানুষ জেগে উঠেছে, ছাত্ররা রাজপথে নেমেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর হামলার পর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। একই সময়ে ঢাকায় দুজন ও চট্টগ্রামে তিনজন নিহত হন। ১৮ জুলাই থেকে ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ড চলতে থাকে।

জামায়াত আমির বলেন, ৩ আগস্ট জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সেনাবাহিনীর সাধারণ কর্মকর্তা ও জওয়ানরা জনগণের ওপর অস্ত্র ব্যবহার না করার অবস্থান নেন। ওই সময়ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ৩ ও ৪ আগস্ট হত্যাকাণ্ড চলেছে। এ সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে লাশ গায়েব করার অভিযোগও করেন তিনি। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিনও আশুলিয়ায় মানুষকে ট্রাকে ফেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

অন্তর্বর্তী সরকার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাময়িক শূন্যতা পূরণে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলেও সরকারের অনেক উপদেষ্টা দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে পারেননি।

জাতীয় সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘ আলোচনা শেষে একটি চার্টার তৈরি করা হয়েছে। ছোট ছোট বিষয়ে ৩১টি দল একমত হলেও নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। এসব মতভেদের বড় অংশ বর্তমান সরকারি দলের পক্ষ থেকে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ ও নির্বাচন কমিশন গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দলীয় কর্তৃত্বের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। এসব ক্ষেত্রে নির্দলীয় কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ ও গঠন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।

সংস্কার প্রস্তাবকে বৈধতা দিতে সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদ প্রয়োজন ছিল উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একসময় ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। এনসিপি গণপরিষদের দাবি জানিয়েছিল এবং বিএনপিও গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন ও সরকার গঠনের পর সেই অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘উইল অব দ্য পিপল ইজ দ্য সুপ্রিম ল—জনগণের অভিপ্রায় হচ্ছে সবচেয়ে বড় আইন।’ জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ছাড়া রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যকর করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থাকলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়টি কেন নেই- এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, প্রদর্শনীতে মূলত যারা কর্তৃত্ববাদী ও আগ্রাসী শাসক ছিলেন, তাদের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ব্যক্তির কল্যাণকর অবদানের প্রতিও তারা শ্রদ্ধাশীল বলে জানান তিনি।

আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, দেশের দায়িত্বে যারা আছেন, তারা যেন তাদের দায়িত্ব উপলব্ধি করেন এবং জনগণের প্রত্যাশার আলোকে দেশ পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে জনগণকে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন রাখাও এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। অতীতে দেশের সূর্যসন্তানেরা জীবন দিয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছেন। ভবিষ্যতে জনগণের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে চাইলে সেই অধিকার রক্ষার জন্য জনগণকে প্রস্তুত থাকার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে এ আয়োজনের মাধ্যমে।

আগামী দিনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘১১ দলের ভিত্তিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। ইনশাআল্লাহ, এক-দুই দিনের মধ্যে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যাবে।’
বর্তমান সরকার গঠনের পরও পুরোনো ব্যবস্থার পরিবর্তে একই ধরনের দুর্নীতি ও দলীয়করণ চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার প্রশ্ন, এত মানুষ আহত ও পঙ্গু হলো, এত মানুষ জীবন ঝুঁকিতে ফেলে আন্দোলনে অংশ নিল—এসব কি শুধু একটি দলকে সরিয়ে একই ধরনের আরেকটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য হয়েছিল?

তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তাই জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

‘সংসদে আমরা প্রতিকার পাইনি, ন্যায়বিচার পাইনি। আপনাদের অধিকার সংসদে তারা মেনে নেয়নি। এখন আপনাদের সঙ্গে নিয়েই সেই অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে আন্দোলন করব। সেই আন্দোলনে আমরা আছি,’ বলেন তিনি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের রানওয়ে স্পর্শ করল রিয়াদ এয়ার

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ‘জুলাই শেষ হয়নি’ : জামায়াত আমির

প্রকাশের সময় : ০২:০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ‘জুলাই শেষ হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জুলাই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। কাজেই জুলাই শেষ হয়নি। জুলাই সেদিনই একটা ভালো পরিসমাপ্তি পাবে, যেদিন জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে। আমরা যেন ক্ষমতার লোভে অন্ধ না হই। বরঞ্চ আমরা যেন জনতার হয়ে থাকতে পারি। দেশসেবার সুযোগ পেলেও যেন জনতাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করতে পারি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল, তা যখন পূরণ হবে, তখনই জুলাই শেষ হওয়ার সার্থকতা হবে। আজ বিভিন্ন ধরনের কথা আছে। কিন্তু সেই চাঁদাবাজি আগের চেয়ে বেশি, সেই দুর্নীতি আগের চেয়ে বেশি, সেই দলীয়করণ আগের চেয়ে বেশি। এর জন্য কি এতগুলো জীবন গেল? এতগুলো মানুষ পঙ্গু হলো, এতগুলো মানুষ আহত হলো?

জামায়াত আমির বলেন, শুধু একটি দলকে সরিয়ে একই ধরনের আরেকটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য জুলাইয়ের এত প্রাণহানি ও ত্যাগ ছিল না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই ছিল আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা। সংসদের ভেতরে আমরা দাবি উত্থাপন করলাম—সংস্কার পরিষদ গঠন করুন, সভা আহ্বান করুন। এরপর আলোচনা হলো, কিন্তু ফলাফল পাইনি। আমরা প্রতিবাদে বেরিয়ে এসে জাতিকে বলেছি, সংসদে আমরা প্রতিকার পাইনি, ন্যায়বিচার পাইনি, আপনাদের অধিকার সংসদে তারা মেনে নেয়নি। এখন আপনাদের সঙ্গে নিয়েই সেই অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে আন্দোলন করব।

‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’- শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি কোনো সরকারের সফলতা তুলে ধরার আয়োজন নয়। বরং যুগে যুগে যারা ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী ছিল, তাদের চিত্র এবং তাদের শাসনামলে জনগণ কীভাবে নিগৃহীত ও অত্যাচারিত হয়েছে, তা তুলে ধরাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। জাতির প্রত্যাশা কী, শহীদদের প্রত্যাশা কী, শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা কী এগুলো তুলে ধরার জন্যই মূলত আমাদের এই আয়োজন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সাড়ে ১৫ বছর ধরে বিভিন্নভাবে মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে। এ সময় আন্দোলন করতে গিয়ে অনেকে জীবন দিয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন এবং মামলার ভার বহন করেছেন। তবে এতে আন্দোলন থেমে যায়নি। জুলাইয়ে আবারও মানুষ জেগে উঠেছে, ছাত্ররা রাজপথে নেমেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর হামলার পর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। একই সময়ে ঢাকায় দুজন ও চট্টগ্রামে তিনজন নিহত হন। ১৮ জুলাই থেকে ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ড চলতে থাকে।

জামায়াত আমির বলেন, ৩ আগস্ট জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সেনাবাহিনীর সাধারণ কর্মকর্তা ও জওয়ানরা জনগণের ওপর অস্ত্র ব্যবহার না করার অবস্থান নেন। ওই সময়ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ৩ ও ৪ আগস্ট হত্যাকাণ্ড চলেছে। এ সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে লাশ গায়েব করার অভিযোগও করেন তিনি। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিনও আশুলিয়ায় মানুষকে ট্রাকে ফেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

অন্তর্বর্তী সরকার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাময়িক শূন্যতা পূরণে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলেও সরকারের অনেক উপদেষ্টা দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে পারেননি।

জাতীয় সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘ আলোচনা শেষে একটি চার্টার তৈরি করা হয়েছে। ছোট ছোট বিষয়ে ৩১টি দল একমত হলেও নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। এসব মতভেদের বড় অংশ বর্তমান সরকারি দলের পক্ষ থেকে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ ও নির্বাচন কমিশন গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দলীয় কর্তৃত্বের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। এসব ক্ষেত্রে নির্দলীয় কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ ও গঠন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।

সংস্কার প্রস্তাবকে বৈধতা দিতে সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদ প্রয়োজন ছিল উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একসময় ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। এনসিপি গণপরিষদের দাবি জানিয়েছিল এবং বিএনপিও গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন ও সরকার গঠনের পর সেই অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘উইল অব দ্য পিপল ইজ দ্য সুপ্রিম ল—জনগণের অভিপ্রায় হচ্ছে সবচেয়ে বড় আইন।’ জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ছাড়া রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যকর করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থাকলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়টি কেন নেই- এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, প্রদর্শনীতে মূলত যারা কর্তৃত্ববাদী ও আগ্রাসী শাসক ছিলেন, তাদের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ব্যক্তির কল্যাণকর অবদানের প্রতিও তারা শ্রদ্ধাশীল বলে জানান তিনি।

আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, দেশের দায়িত্বে যারা আছেন, তারা যেন তাদের দায়িত্ব উপলব্ধি করেন এবং জনগণের প্রত্যাশার আলোকে দেশ পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে জনগণকে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন রাখাও এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। অতীতে দেশের সূর্যসন্তানেরা জীবন দিয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছেন। ভবিষ্যতে জনগণের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে চাইলে সেই অধিকার রক্ষার জন্য জনগণকে প্রস্তুত থাকার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে এ আয়োজনের মাধ্যমে।

আগামী দিনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘১১ দলের ভিত্তিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। ইনশাআল্লাহ, এক-দুই দিনের মধ্যে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যাবে।’
বর্তমান সরকার গঠনের পরও পুরোনো ব্যবস্থার পরিবর্তে একই ধরনের দুর্নীতি ও দলীয়করণ চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার প্রশ্ন, এত মানুষ আহত ও পঙ্গু হলো, এত মানুষ জীবন ঝুঁকিতে ফেলে আন্দোলনে অংশ নিল—এসব কি শুধু একটি দলকে সরিয়ে একই ধরনের আরেকটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য হয়েছিল?

তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তাই জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

‘সংসদে আমরা প্রতিকার পাইনি, ন্যায়বিচার পাইনি। আপনাদের অধিকার সংসদে তারা মেনে নেয়নি। এখন আপনাদের সঙ্গে নিয়েই সেই অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে আন্দোলন করব। সেই আন্দোলনে আমরা আছি,’ বলেন তিনি।