সংযোগ সড়ক না থাকায় কাজে আসছে না সেতু, দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৪ ফুটের কংক্রিটের সেতু। কিন্তু তার দুই পাশে নেই কোনো সড়ক। সেতুটি পার হতে স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে বালির বস্তা ফেলে কোনোমতে ওঠানামার ব্যবস্থা করেছেন। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সরফভাটা ছনাগাজী এলাকা থেকে মৌলানা গ্রামমুখী সড়কে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অর্থায়নে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নির্মাণের এক দশক পেরিয়ে গেলেও সেতুটির দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক তৈরি হয়নি।

শুধু সংযোগ সড়কই নয়, এলাকার দীর্ঘ ৩০ বছরের অবহেলিত প্রধান তিনটি সড়ক সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। এই জনদুর্ভোগ লাঘবে এবং এলাকার ঐতিহাসিক মাওলানা নেছার উল্লাহ শাহ জামে মসজিদ পুনর্র্নিমাণের দাবি জানিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী। সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম কন্ট্রাক্টর এই লিখিত আবেদন জানান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরফভাটা ২ নম্বর ওয়ার্ডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি রাস্তা- মাওলানা বাজার রোড, দরবারে নেছারিয়া রোড এবং পাইট্টেলীকুল রোড গত ৩০ বছরেও উন্নয়ন বা সংস্কারের মুখ দেখেনি। দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি জরাজীর্ণ ও বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে রাস্তাগুলো।

সড়কগুলোর অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, স্থানীয় পশ্চিম সরফভাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আব্দুল কাদের জিলানী মাদরাসা ও নেছারিয়া মাদরাসার শত শত ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয় ঘটে কোনো মানুষ মারা গেলে; রাস্তা ভাঙা ও সরু হওয়ায় জানাজার পর লাশ বহনের খাটিয়াটি কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার মতো ন্যূনতম পরিবেশ নেই। কোনো ধরনের যানবাহন প্রবেশ করতে না পারায় মুমূর্ষু রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছনাগাজী থেকে মৌলানা গ্রামমুখী সড়কটির মাঝ বরাবর সেতুটি নির্মাণ করা হলেও এর দুই পাশের সড়কের অস্তিত্ব এখন বিলীন হওয়ার পথে। সংযোগ সড়ক না থাকায় পাশের খালের ভাঙনে ইতোমধ্যেই বিদ্যমান কাঁচা সড়কটির অর্ধেক অংশ ভেঙে পড়েছে। বর্ষাকালে খালের পানি উপচে পুরো রাস্তা কোমর সমান পানিতে প্লাবিত হয়। পথচারীরা প্রায়শই সড়কে চলতে গিয়ে পাশের খালে পড়ে যায়।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতু হওয়ার ১০ বছর পার হয়ে গেল, কিন্তু আমাদের সড়কের ভাগ্যবদল হলো না। শুনলাম দুইবার টেন্ডার হয়েছে, কিন্তু মাত্র ৩০০ মিটারের এই সড়কটুকু কেন করা হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।

সংযোগ সড়ক না হওয়ার পেছনে এক অদ্ভুত জটিলতার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, সড়কটি নির্মাণের জন্য কয়েকবার টেন্ডার প্রক্রিয়া আহ্বান করা হলেও ভৌগোলিক ও দুরূহ পরিস্থিতির কারণে কোনো ঠিকাদার কাজটি করার আগ্রহ দেখাননি। তবে কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে, নতুন করে আবারও টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার ও সংযোগ সড়ক সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী প্রচারণার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী নিজে এই অবহেলিত জনপদ ঘুরে মানুষের কষ্ট সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। দুঃখ-কষ্টে সবসময় পাশে থাকা জনপ্রতিনিধির ওপর আস্থা রেখে এই তিনটি সড়ক আরসিসি ঢালাইকরণ, সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ মসজিদটি পুনর্র্নিমাণের জন্য দ্রুত বরাদ্দের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মো. সিরাজুল ইসলাম কন্ট্রাক্টর আশা প্রকাশ করে বলেন, পাইট্টেলিকুল নৌঘাট চালু অবস্থায় এই সড়কগুলোই ছিল প্রধান সড়ক। কিন্তু অবহেলিত সড়কগুলো এত বছরেও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। এতে চরম দুর্ভোগে চলছে মানুষ। আশা করি, জননেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী এমপি মহোদয় অতি দ্রুত মানবিক আবেদনটি বিবেচনা করে এই দীর্ঘমেয়াদি জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান জানান, সড়কগুলো সংস্কারে প্রয়োজনীয় সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সংযোগ সড়ক না থাকায় কাজে আসছে না সেতু, দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

সংযোগ সড়ক না থাকায় কাজে আসছে না সেতু, দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

প্রকাশের সময় : ০৪:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৪ ফুটের কংক্রিটের সেতু। কিন্তু তার দুই পাশে নেই কোনো সড়ক। সেতুটি পার হতে স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে বালির বস্তা ফেলে কোনোমতে ওঠানামার ব্যবস্থা করেছেন। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সরফভাটা ছনাগাজী এলাকা থেকে মৌলানা গ্রামমুখী সড়কে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অর্থায়নে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নির্মাণের এক দশক পেরিয়ে গেলেও সেতুটির দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক তৈরি হয়নি।

শুধু সংযোগ সড়কই নয়, এলাকার দীর্ঘ ৩০ বছরের অবহেলিত প্রধান তিনটি সড়ক সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। এই জনদুর্ভোগ লাঘবে এবং এলাকার ঐতিহাসিক মাওলানা নেছার উল্লাহ শাহ জামে মসজিদ পুনর্র্নিমাণের দাবি জানিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী। সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম কন্ট্রাক্টর এই লিখিত আবেদন জানান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরফভাটা ২ নম্বর ওয়ার্ডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি রাস্তা- মাওলানা বাজার রোড, দরবারে নেছারিয়া রোড এবং পাইট্টেলীকুল রোড গত ৩০ বছরেও উন্নয়ন বা সংস্কারের মুখ দেখেনি। দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি জরাজীর্ণ ও বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে রাস্তাগুলো।

সড়কগুলোর অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, স্থানীয় পশ্চিম সরফভাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আব্দুল কাদের জিলানী মাদরাসা ও নেছারিয়া মাদরাসার শত শত ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয় ঘটে কোনো মানুষ মারা গেলে; রাস্তা ভাঙা ও সরু হওয়ায় জানাজার পর লাশ বহনের খাটিয়াটি কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার মতো ন্যূনতম পরিবেশ নেই। কোনো ধরনের যানবাহন প্রবেশ করতে না পারায় মুমূর্ষু রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছনাগাজী থেকে মৌলানা গ্রামমুখী সড়কটির মাঝ বরাবর সেতুটি নির্মাণ করা হলেও এর দুই পাশের সড়কের অস্তিত্ব এখন বিলীন হওয়ার পথে। সংযোগ সড়ক না থাকায় পাশের খালের ভাঙনে ইতোমধ্যেই বিদ্যমান কাঁচা সড়কটির অর্ধেক অংশ ভেঙে পড়েছে। বর্ষাকালে খালের পানি উপচে পুরো রাস্তা কোমর সমান পানিতে প্লাবিত হয়। পথচারীরা প্রায়শই সড়কে চলতে গিয়ে পাশের খালে পড়ে যায়।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতু হওয়ার ১০ বছর পার হয়ে গেল, কিন্তু আমাদের সড়কের ভাগ্যবদল হলো না। শুনলাম দুইবার টেন্ডার হয়েছে, কিন্তু মাত্র ৩০০ মিটারের এই সড়কটুকু কেন করা হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।

সংযোগ সড়ক না হওয়ার পেছনে এক অদ্ভুত জটিলতার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, সড়কটি নির্মাণের জন্য কয়েকবার টেন্ডার প্রক্রিয়া আহ্বান করা হলেও ভৌগোলিক ও দুরূহ পরিস্থিতির কারণে কোনো ঠিকাদার কাজটি করার আগ্রহ দেখাননি। তবে কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে, নতুন করে আবারও টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার ও সংযোগ সড়ক সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী প্রচারণার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী নিজে এই অবহেলিত জনপদ ঘুরে মানুষের কষ্ট সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। দুঃখ-কষ্টে সবসময় পাশে থাকা জনপ্রতিনিধির ওপর আস্থা রেখে এই তিনটি সড়ক আরসিসি ঢালাইকরণ, সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ মসজিদটি পুনর্র্নিমাণের জন্য দ্রুত বরাদ্দের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মো. সিরাজুল ইসলাম কন্ট্রাক্টর আশা প্রকাশ করে বলেন, পাইট্টেলিকুল নৌঘাট চালু অবস্থায় এই সড়কগুলোই ছিল প্রধান সড়ক। কিন্তু অবহেলিত সড়কগুলো এত বছরেও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। এতে চরম দুর্ভোগে চলছে মানুষ। আশা করি, জননেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী এমপি মহোদয় অতি দ্রুত মানবিক আবেদনটি বিবেচনা করে এই দীর্ঘমেয়াদি জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান জানান, সড়কগুলো সংস্কারে প্রয়োজনীয় সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।