মালয়েশিয়াকে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৮০ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

শাহরিয়ার সাকিব যখন এলবিডাব্লিউ হয়ে ফিরলেন, দল তখন টালমাটাল। ইনিংসের বয়স ১২ ওভার হওয়ার আগেই প্যাভিলিয়নে শীর্ষ চার ব্যাটসম্যান। বিব্রতকর অবস্থায় পড়া দলের হাল ধরলেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। দারুণ খেলে এগিয়ে নিলেন দলকে। একটুর জন্য অবশ্য সেঞ্চুরি পেলেন না। তবে তার ইনিংসের সঙ্গে আহরার আমিনের ফিফটি ও শেখ পারভেজ হোসেনের দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে বড় জয় পেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

বুধবার (১২ আগস্ট) বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচে মালয়েশিয়া জাতীয় দলকে ১৫৩ রানে হারাল বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-২৩ দল।

বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে বুধবার বাংলাদেশের ৯ উইকেটে ২৯০ রানের জবাবে মালয়েশিয়ার ইনিংস থামে ১৩৭ রানে। ১০০ বলে ৯৪ রান করে আউট হন আব্দুল্লাহ, ৬১ রানে আহরার।

ইনিংসের শেষদিকে দুই চার ও তিন ছয়ে ১৮ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলার পাশাপাশি বোলিংয়ে ১৬ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ পারভেজ।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ওভারে হারায় ওপেনার জাওয়াদ আবরারকে। কাভারে দারুণ ক্যাচ নেন শারভিন মুনিয়ান্দি। অস্বস্তিময় ব্যাটিংয়ে ৫ রান করে আউট হন তিনি। তার সঙ্গী ইকবাল হোসেন (০) ফেরেন ওই ওভারেই। দুই ওপেনারকে ফেরানোর পর চারে নামা রিজান হোসেনকেও (০) দ্রুত বিদায় করে দেন আরিফ উল্লাহ।

১১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে নড়বড়ে দলকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন সাকিব ও কালাম সিদ্দিকি। চতুর্থ উইকেটে ৪৯ বলে ৪০ রানের জুটি গড়েন তারা। দুই চারে ২৬ বলে ২১ রান করে ফেরেন সাকিব।

পঞ্চম উইকেটে আব্দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ৪৯ রান যোগ করেন কালাম। তার (৫৬ বলে ৩৪) ইনিংসটিও বড় হয়নি। ১০০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দল তখন শঙ্কায় অল্পতে গুটিয়ে যাওয়ার।

সেই শঙ্কা দূর করে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেন আব্দুল্লাহ ও আহরার। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনে ১০৯ বলে যোগ করেন ১০৩ রান। চারটি চার ও পাঁচ ছক্কায় ৬২ বলে ৬১ রানে আহরার ফিরলে ভাঙে এই জুটি।

৬৬ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়া আব্দুল্লাহ এরপর রানের গতি বাড়িয়ে দ্রুত ছুটে যান শতরানের পথে। কিন্তু অফ স্পিনার সাইফ উল্লাহ মালিকের স্টাম্প সোজা ডেলিভারির লাইন পড়তে ভুল করে বোল্ড হয়ে যান সেঞ্চুরি থেকে ৬ রান দূরে। আউট হয়ে হতাশায় মাথা নুইয়ে বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকেন তিনি। বাঁহাতি কিপার-ব্যাটারের ইনিংসে চার সাতটি, ছক্কায় চারটি।

শেষ দিকে ১৮ বলে ১৪ রান করেছেন মাহফুজুর রহমান রাব্বি। ঝড় তোলেন শেখ পারভেজ জীবন। ১৮ বলে ৩৫ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন তিনি। নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৯০ রান করে থেমেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। মালয়েশিয়ার হয়ে ৪ উইকেট শিকার করেছেন আরিফ উল্লাহ। ২ উইকেট নেন বিজয় উনি। ১টি করে উইকেট তোলেন সাইফ উল্লাহ মালিক এবং মুহাম্মদ আমির।

জবাব দিতে নামা মালয়েশিয়াকে শুরু থেকেই চাপে রেখেছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক উইকেট হারিয়েছে মালয়েশিয়া। আসলাম খান বিন মালিককে ফেরান মাহফুজুর রাব্বি। পরে শারভিন মুনিয়ান্ডিকে বিদায় করেছেন মারুফ মৃধা। এরা কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। টিকে থাকা সাইফ উল্লাহ মালিক ৩৮ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন। তাকে ফেরান শেখ পারভেজ জীবন।

চারে নেমেছিলেন বিজয় উনি, ৩৮ বলে ১২ রান করেছেন তিনি। মাঝে সবাই যোগ দিয়েছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। ৩ বলে ৪ রান করেন আমির। অধিনায়ক সৈয়দ আজিজ ১৫ বলে করেছেন ৯ রান। ১২ বলে ৪ রান করেছেন আজাব খান। শেষ দিকে আহমেদ জুবাইদি জুলকিফলে দলের হাল ধরেছেন। এক প্রান্ত আগলে রেখে রানও বের করেছেন।

জুবাইদি ফিফটির খুব কাছে চলে যান। তবে ফিফটিটা ছুঁতে পারেননি। ৬৬ বলে ৪২ রান করে থেমেছেন তিনি। তাকে ফিরিয়েছেন শেখ পারভেজ জীবন। শেষ দিকে জীবন ও মারুফ মৃধা মিলে গুঁড়িয়ে দেন মালয়েশিয়ার ইনিংস। প্রশান্ত মাধুকার খেলেছেন ১৪ বলে ৬ রানের ইনিংস। ২৬ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলেন সৈয়দ জুনাইদ খান। ধুঁকতে ধুঁকতে ১৩৭ রান করে অলআউট হয়েছে মালয়েশিয়া।

বাংলাদেশের হয়ে মাত্র ১৬ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেছেন শেখ পারভেজ জীবন। ২টি করে উইকেট নেন মারুফ মৃধা এবং স্বাধীন ইসলাম। ১ উইকেট তোলেন মাহফুজুর রাব্বি। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ১৪ আগস্ট, তৃতীয় ওয়ানডে ১৬ আগস্ট। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

যখন ‘খারাপ মানুষ’ হিসেবে আখ্যা দেয়, তখন সত্যিই খুব কষ্ট হয় : প্রভা

মালয়েশিয়াকে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ০৯:০৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

শাহরিয়ার সাকিব যখন এলবিডাব্লিউ হয়ে ফিরলেন, দল তখন টালমাটাল। ইনিংসের বয়স ১২ ওভার হওয়ার আগেই প্যাভিলিয়নে শীর্ষ চার ব্যাটসম্যান। বিব্রতকর অবস্থায় পড়া দলের হাল ধরলেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। দারুণ খেলে এগিয়ে নিলেন দলকে। একটুর জন্য অবশ্য সেঞ্চুরি পেলেন না। তবে তার ইনিংসের সঙ্গে আহরার আমিনের ফিফটি ও শেখ পারভেজ হোসেনের দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে বড় জয় পেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

বুধবার (১২ আগস্ট) বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচে মালয়েশিয়া জাতীয় দলকে ১৫৩ রানে হারাল বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-২৩ দল।

বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে বুধবার বাংলাদেশের ৯ উইকেটে ২৯০ রানের জবাবে মালয়েশিয়ার ইনিংস থামে ১৩৭ রানে। ১০০ বলে ৯৪ রান করে আউট হন আব্দুল্লাহ, ৬১ রানে আহরার।

ইনিংসের শেষদিকে দুই চার ও তিন ছয়ে ১৮ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলার পাশাপাশি বোলিংয়ে ১৬ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ পারভেজ।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ওভারে হারায় ওপেনার জাওয়াদ আবরারকে। কাভারে দারুণ ক্যাচ নেন শারভিন মুনিয়ান্দি। অস্বস্তিময় ব্যাটিংয়ে ৫ রান করে আউট হন তিনি। তার সঙ্গী ইকবাল হোসেন (০) ফেরেন ওই ওভারেই। দুই ওপেনারকে ফেরানোর পর চারে নামা রিজান হোসেনকেও (০) দ্রুত বিদায় করে দেন আরিফ উল্লাহ।

১১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে নড়বড়ে দলকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন সাকিব ও কালাম সিদ্দিকি। চতুর্থ উইকেটে ৪৯ বলে ৪০ রানের জুটি গড়েন তারা। দুই চারে ২৬ বলে ২১ রান করে ফেরেন সাকিব।

পঞ্চম উইকেটে আব্দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ৪৯ রান যোগ করেন কালাম। তার (৫৬ বলে ৩৪) ইনিংসটিও বড় হয়নি। ১০০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দল তখন শঙ্কায় অল্পতে গুটিয়ে যাওয়ার।

সেই শঙ্কা দূর করে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেন আব্দুল্লাহ ও আহরার। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনে ১০৯ বলে যোগ করেন ১০৩ রান। চারটি চার ও পাঁচ ছক্কায় ৬২ বলে ৬১ রানে আহরার ফিরলে ভাঙে এই জুটি।

৬৬ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়া আব্দুল্লাহ এরপর রানের গতি বাড়িয়ে দ্রুত ছুটে যান শতরানের পথে। কিন্তু অফ স্পিনার সাইফ উল্লাহ মালিকের স্টাম্প সোজা ডেলিভারির লাইন পড়তে ভুল করে বোল্ড হয়ে যান সেঞ্চুরি থেকে ৬ রান দূরে। আউট হয়ে হতাশায় মাথা নুইয়ে বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকেন তিনি। বাঁহাতি কিপার-ব্যাটারের ইনিংসে চার সাতটি, ছক্কায় চারটি।

শেষ দিকে ১৮ বলে ১৪ রান করেছেন মাহফুজুর রহমান রাব্বি। ঝড় তোলেন শেখ পারভেজ জীবন। ১৮ বলে ৩৫ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন তিনি। নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৯০ রান করে থেমেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। মালয়েশিয়ার হয়ে ৪ উইকেট শিকার করেছেন আরিফ উল্লাহ। ২ উইকেট নেন বিজয় উনি। ১টি করে উইকেট তোলেন সাইফ উল্লাহ মালিক এবং মুহাম্মদ আমির।

জবাব দিতে নামা মালয়েশিয়াকে শুরু থেকেই চাপে রেখেছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক উইকেট হারিয়েছে মালয়েশিয়া। আসলাম খান বিন মালিককে ফেরান মাহফুজুর রাব্বি। পরে শারভিন মুনিয়ান্ডিকে বিদায় করেছেন মারুফ মৃধা। এরা কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। টিকে থাকা সাইফ উল্লাহ মালিক ৩৮ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন। তাকে ফেরান শেখ পারভেজ জীবন।

চারে নেমেছিলেন বিজয় উনি, ৩৮ বলে ১২ রান করেছেন তিনি। মাঝে সবাই যোগ দিয়েছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। ৩ বলে ৪ রান করেন আমির। অধিনায়ক সৈয়দ আজিজ ১৫ বলে করেছেন ৯ রান। ১২ বলে ৪ রান করেছেন আজাব খান। শেষ দিকে আহমেদ জুবাইদি জুলকিফলে দলের হাল ধরেছেন। এক প্রান্ত আগলে রেখে রানও বের করেছেন।

জুবাইদি ফিফটির খুব কাছে চলে যান। তবে ফিফটিটা ছুঁতে পারেননি। ৬৬ বলে ৪২ রান করে থেমেছেন তিনি। তাকে ফিরিয়েছেন শেখ পারভেজ জীবন। শেষ দিকে জীবন ও মারুফ মৃধা মিলে গুঁড়িয়ে দেন মালয়েশিয়ার ইনিংস। প্রশান্ত মাধুকার খেলেছেন ১৪ বলে ৬ রানের ইনিংস। ২৬ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলেন সৈয়দ জুনাইদ খান। ধুঁকতে ধুঁকতে ১৩৭ রান করে অলআউট হয়েছে মালয়েশিয়া।

বাংলাদেশের হয়ে মাত্র ১৬ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেছেন শেখ পারভেজ জীবন। ২টি করে উইকেট নেন মারুফ মৃধা এবং স্বাধীন ইসলাম। ১ উইকেট তোলেন মাহফুজুর রাব্বি। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ১৪ আগস্ট, তৃতীয় ওয়ানডে ১৬ আগস্ট। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।