Dhaka শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিচারকদের স্বাধীন থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিচারকদের স্বাধীন চিন্তা ও চেতনা বজায় রেখে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জনপ্রিয়তার চেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই একজন বিচারকের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্সে আয়োজিত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের ২০তম ওরিয়েন্টেশন কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়াতে হবে। বিচার বিভাগের ওপর সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও ভরসার জায়গা শক্তিশালী করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতির বাসভবন যেন মানুষের কাছে সম্মান ও আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে। সেটি কোনোভাবেই ক্ষোভ বা আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হোক এমন পরিস্থিতি আর দেখতে চায় না সরকার।

বিচারকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করবেন। আপনারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন, আমরা আপনাদের পাশে আছি।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই বিচারকদের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়ুক। জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই আপনাদের বলতে চাই, যে বিষয়গুলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় সেগুলো এড়িয়ে চলে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করুন। এ কাজে সরকারকে সবসময় আপনাদের পাশে পাবেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির কথাও তুলে ধরেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের একটা কথা সবসময় অনুসরণের চেষ্টা করা উচিত। তিনি প্রায়ই বলেন, আমাদের কাজের জায়গাটা দায়িত্ববোধের এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার; জনপ্রিয়তার নয়। তাই সব ধরনের অবস্থায় সবসময় সঠিক পথটিই বেছে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি প্রতি মুহূর্তে আমার সীমারেখা সম্পর্কে অবগত থাকি। যে দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে সেখানে কোনো কারণে কখনোই সঠিক সিদ্ধান্তের জায়গা থেকে পিছিয়ে আসিনি, আসবোও না।

কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে আমরা সজাগ থাকব, বিচারকদেরও সচেতন থাকতে হবে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এটি না পারলে এই প্রতিষ্ঠানকে সামনে এগিয়ে নেওয়া ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে দীর্ঘদিনের যে সংগ্রাম এবং আইনের শাসন ও মানবাধিকার-সবই ব্যর্থ হবে। আগামী প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে সেই দায়ভার আমরা নিতে চাই না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (জেএটিআই) মহাপরিচালক মো. এমদাদুল হক।

আরও উপস্থিত ছিলেন আইন কমিশনের সদস্য, কর্মশালার প্রশিক্ষণার্থী, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল এডমিনস্ট্রেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।

আবহাওয়া

টাঙ্গাইলে বাসযাত্রীর কাছে মিলল ৪০০ ইয়াবা

বিচারকদের স্বাধীন থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

প্রকাশের সময় : ০৯:০৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিচারকদের স্বাধীন চিন্তা ও চেতনা বজায় রেখে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জনপ্রিয়তার চেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই একজন বিচারকের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্সে আয়োজিত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের ২০তম ওরিয়েন্টেশন কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়াতে হবে। বিচার বিভাগের ওপর সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও ভরসার জায়গা শক্তিশালী করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতির বাসভবন যেন মানুষের কাছে সম্মান ও আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে। সেটি কোনোভাবেই ক্ষোভ বা আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হোক এমন পরিস্থিতি আর দেখতে চায় না সরকার।

বিচারকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করবেন। আপনারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন, আমরা আপনাদের পাশে আছি।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই বিচারকদের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়ুক। জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই আপনাদের বলতে চাই, যে বিষয়গুলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় সেগুলো এড়িয়ে চলে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করুন। এ কাজে সরকারকে সবসময় আপনাদের পাশে পাবেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির কথাও তুলে ধরেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের একটা কথা সবসময় অনুসরণের চেষ্টা করা উচিত। তিনি প্রায়ই বলেন, আমাদের কাজের জায়গাটা দায়িত্ববোধের এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার; জনপ্রিয়তার নয়। তাই সব ধরনের অবস্থায় সবসময় সঠিক পথটিই বেছে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি প্রতি মুহূর্তে আমার সীমারেখা সম্পর্কে অবগত থাকি। যে দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে সেখানে কোনো কারণে কখনোই সঠিক সিদ্ধান্তের জায়গা থেকে পিছিয়ে আসিনি, আসবোও না।

কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে আমরা সজাগ থাকব, বিচারকদেরও সচেতন থাকতে হবে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এটি না পারলে এই প্রতিষ্ঠানকে সামনে এগিয়ে নেওয়া ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে দীর্ঘদিনের যে সংগ্রাম এবং আইনের শাসন ও মানবাধিকার-সবই ব্যর্থ হবে। আগামী প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে সেই দায়ভার আমরা নিতে চাই না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (জেএটিআই) মহাপরিচালক মো. এমদাদুল হক।

আরও উপস্থিত ছিলেন আইন কমিশনের সদস্য, কর্মশালার প্রশিক্ষণার্থী, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল এডমিনস্ট্রেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।