পুলিশ সদরদপ্তর

ঢাকায় সিগন্যালে ত্রুটি, তিন ঘণ্টায় বিলম্বিত ১৮ ট্রেন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ১১:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮৪ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক  : 

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে কম্পিউটারভিত্তিক ইন্টারলকিং (সিবিআই) সিগন্যাল ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এ সময় স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ম্যানুয়াল সিগন্যাল দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করতে হয়েছে। এতে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ও ঢাকায় আসা অন্তত ১৮টি ট্রেন ২৫ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিলম্বে চলাচল করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ১০ মিনিটের দিকে কমলাপুরের সিবিআই সিগন্যাল সিস্টেমে হঠাৎ ত্রুটি দেখা দেয়। সিস্টেমে ‘আউট অব অর্ডার’ বার্তা দেখানোর পর স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কমলাপুর রেলস্টেশনের সিবিআই সিস্টেমে হঠাৎ ত্রুটি দেখা দেয়। সিস্টেমে ‘Out of order’ লেখা ওঠার পর স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ত্রুটি শনাক্ত করে কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। বেলা ১টার দিকে সিবিআই সিস্টেম সচল হয়।

সিবিআই ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ম্যানুয়াল সিগন্যাল দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করা হয়। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় ট্রেনের রুট নির্ধারণ ও সিগন্যাল দিতে বেশি সময় লাগে। ফলে কমলাপুর থেকে ট্রেন ছাড়তে ও বিভিন্ন রুট থেকে ঢাকায় ট্রেন প্রবেশে বিলম্ব হয়। এর প্রভাব পড়ে ঢাকার বাইরে চলাচলকারী ট্রেনেও।

রেলওয়ে সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিবিআই সিস্টেমে ত্রুটির সময়ে প্রায় ১৮টি ট্রেন বিলম্বে চলাচল করেছে। এসব ট্রেনের বিলম্ব ছিল সর্বনিম্ন ২৫ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন অনেকগুলো ট্রেন চলাচল করায় একটি ট্রেনের বিলম্বের প্রভাব পরবর্তী ট্রেনগুলোর ওপরও পড়ে। ফলে সারা দেশে ট্রেন চলাচলেও ঢাকার সিগন্যাল ত্রুটির প্রভাব পড়েছে।

সিবিআই সিস্টেমে ত্রুটির কারণে ট্রেন বিলম্বে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেলওয়ের বিভিন্ন ফ্যান গ্রুপে যাত্রীরা ট্রেন দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কথা জানান। বিশেষ করে, গাজীপুরসহ ঢাকার আশপাশের এলাকায় ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে যাত্রীরা পোস্ট করেন। কখন ট্রেন ছাড়বে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে না পারায় অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে সিগন্যাল বিভাগের সফটওয়্যারে ত্রুটির কারণে সিবিআই সিস্টেমে সমস্যা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে সফটওয়্যারটি পুনরায় ইনস্টল করে সিস্টেম সচল করা হয়। তবে ঠিক কী কারণে সফটওয়্যারে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, তা জানতে তদন্ত করা হচ্ছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, কমলাপুর দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশন হওয়ায় এখানকার সিগন্যাল ব্যবস্থায় সাময়িক ত্রুটির প্রভাব দ্রুতই বিভিন্ন রুটে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সিবিআই সিস্টেম সচল হওয়ার পরও বিলম্বের প্রভাব পরবর্তী কয়েকটি ট্রেনের চলাচলে থেকে যায়।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) এ বি এম কামরুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, সিগন্যাল ব্যবস্থায় সমস্যা হওয়ায় কিছু সময় ম্যানুয়াল ট্রেন চালাতে হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সিগন্যাল বিভাগের সফটওয়্যারে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। পরে সফটওয়্যারটি পুনরায় ইনস্টল করা হয়। এ কারণে ট্রেন চলাচলে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বিষয়টি বিস্তারিত জানতে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

পুলিশ সদরদপ্তর

ঢাকায় সিগন্যালে ত্রুটি, তিন ঘণ্টায় বিলম্বিত ১৮ ট্রেন

প্রকাশের সময় : ১১:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক  : 

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে কম্পিউটারভিত্তিক ইন্টারলকিং (সিবিআই) সিগন্যাল ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এ সময় স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ম্যানুয়াল সিগন্যাল দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করতে হয়েছে। এতে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ও ঢাকায় আসা অন্তত ১৮টি ট্রেন ২৫ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিলম্বে চলাচল করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ১০ মিনিটের দিকে কমলাপুরের সিবিআই সিগন্যাল সিস্টেমে হঠাৎ ত্রুটি দেখা দেয়। সিস্টেমে ‘আউট অব অর্ডার’ বার্তা দেখানোর পর স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কমলাপুর রেলস্টেশনের সিবিআই সিস্টেমে হঠাৎ ত্রুটি দেখা দেয়। সিস্টেমে ‘Out of order’ লেখা ওঠার পর স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ত্রুটি শনাক্ত করে কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। বেলা ১টার দিকে সিবিআই সিস্টেম সচল হয়।

সিবিআই ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ম্যানুয়াল সিগন্যাল দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করা হয়। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় ট্রেনের রুট নির্ধারণ ও সিগন্যাল দিতে বেশি সময় লাগে। ফলে কমলাপুর থেকে ট্রেন ছাড়তে ও বিভিন্ন রুট থেকে ঢাকায় ট্রেন প্রবেশে বিলম্ব হয়। এর প্রভাব পড়ে ঢাকার বাইরে চলাচলকারী ট্রেনেও।

রেলওয়ে সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিবিআই সিস্টেমে ত্রুটির সময়ে প্রায় ১৮টি ট্রেন বিলম্বে চলাচল করেছে। এসব ট্রেনের বিলম্ব ছিল সর্বনিম্ন ২৫ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন অনেকগুলো ট্রেন চলাচল করায় একটি ট্রেনের বিলম্বের প্রভাব পরবর্তী ট্রেনগুলোর ওপরও পড়ে। ফলে সারা দেশে ট্রেন চলাচলেও ঢাকার সিগন্যাল ত্রুটির প্রভাব পড়েছে।

সিবিআই সিস্টেমে ত্রুটির কারণে ট্রেন বিলম্বে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেলওয়ের বিভিন্ন ফ্যান গ্রুপে যাত্রীরা ট্রেন দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কথা জানান। বিশেষ করে, গাজীপুরসহ ঢাকার আশপাশের এলাকায় ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে যাত্রীরা পোস্ট করেন। কখন ট্রেন ছাড়বে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে না পারায় অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে সিগন্যাল বিভাগের সফটওয়্যারে ত্রুটির কারণে সিবিআই সিস্টেমে সমস্যা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে সফটওয়্যারটি পুনরায় ইনস্টল করে সিস্টেম সচল করা হয়। তবে ঠিক কী কারণে সফটওয়্যারে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, তা জানতে তদন্ত করা হচ্ছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, কমলাপুর দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশন হওয়ায় এখানকার সিগন্যাল ব্যবস্থায় সাময়িক ত্রুটির প্রভাব দ্রুতই বিভিন্ন রুটে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সিবিআই সিস্টেম সচল হওয়ার পরও বিলম্বের প্রভাব পরবর্তী কয়েকটি ট্রেনের চলাচলে থেকে যায়।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) এ বি এম কামরুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, সিগন্যাল ব্যবস্থায় সমস্যা হওয়ায় কিছু সময় ম্যানুয়াল ট্রেন চালাতে হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সিগন্যাল বিভাগের সফটওয়্যারে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। পরে সফটওয়্যারটি পুনরায় ইনস্টল করা হয়। এ কারণে ট্রেন চলাচলে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বিষয়টি বিস্তারিত জানতে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।