৮ জানুয়ারি শুরু বিশ্ব ইজতেমা, দ্বিতীয় পর্ব ১৫ জানুয়ারি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০২:২০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮১ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক  : 

আগামী বছরের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমার প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন নিয়ে বৈঠক শেষে ব্রিফিং তিনি এ কথা বলেন ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই পর্বে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ইজতেমার প্রথম পর্ব আগামী ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

একনজরে সময়সূচি—

প্রথম পর্ব: ৮, ৯ ও ১০ জানুয়ারি (২০২৭)

দ্বিতীয় পর্ব: ১৫, ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি (২০২৭)

এসময় তিনি বলেন, সা’দ পন্থী মুরুব্বিদের সঙ্গে আজ বৈঠক হয়েছে, এর আগে জুবায়ের পন্থীদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

বিশ্ব ইজতেমার বিষয়ে তিনি বলেন, দুই পক্ষ তাদের প্রস্তাব দিয়েছে, সবার সঙ্গে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত জানাবে সরকার।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিগত বছরের তুলনায় ভালো। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আরেকটু সময় লাগবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় করতে কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের কারণে এক বছর তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা হয়নি। আজকে দুই অংশের একটি পক্ষ (মওলানা সাদপন্থি) নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে বেশ কিছুদিন আগে জুবায়েরপন্থি হিসেবে যারা পরিচিত তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাদেরকেও বলেছিলাম আমরা দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলব।

মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই এবং গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলব। সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। আমরা চাই যাতে কোনো ধরনের সংঘর্ষ না হয়। কারণ এর আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এজন্য আমরা বিষয়টি লক্ষ্য রেখে সিদ্ধান্ত নেব। যেহেতু আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেইনি, এর বেশি এই মুহূর্তে আমরা বলতে পারছি না।

তিনি বলেন, জুবায়েরপন্থিদের দাবি প্রথম পর্ব এবং দ্বিতীয় পর্ব তারা করতে চান। আর সাদপন্থিদের দাবি হচ্ছে রমজানের আগে এবং ওই দুই পর্বের পরে এর মধ্যবর্তী সময়ে এক পর্বে ইজতেমা করা। অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে প্রস্তাবিত এই দুই পর্ব শুরুর আগেই সাদপন্থিরা ইজতেমা করতে চান।

জুবায়ের অংশের প্রস্তাব দিয়েছিল সাদপন্থিরা যেন অন্য কোথাও ইজতেমা করে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরাও বলেছিলাম আমার এতে যা সহযোগিতা করার করব। কিন্তু এতে মাওলানা সাদের অনুসারীরা সম্মত হননি। আমরা দুই পক্ষকেই একত্রে ইজতেমা করার আহ্বান জানিয়েছি।

মাওলানা সাদ সাহেবের আগমনের বিষয়টি ধর্ম অনুসারে ধর্ম মন্ত্রণালয় দেখবে সেই হিসেবে তারা সিদ্ধান্ত নেবে। এটা ভিসানীতি অনুসারে দেখা হবে। এ বিষয়ে এখন আমরা চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব না। ভিসানীতি অনুসারে যেভাবে ক্লিয়ারেন্স নিতে হয় সেভাবে নেবে, তারপরে দেখা যাবে, বলেন তিনি।

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা গেছে, বিগত সময়ের তুলনায় দেশের সামগ্রিক অপরাধ চিত্র অনেক নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রাপ্ত কেন্দ্রভিত্তিক ও জেলাভিত্তিক সংকলিত তথ্যানুযায়ী হত্যা, অপহরণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের হার অনেক হ্রাস পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় জনগণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরে মন্ত্রী সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রাজধানীতে এক শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেফতার, ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং অপরাধীদের ব্যবহৃত মালামাল জব্দ করে আদালতের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরের গোয়েন্দা মনিটরিং ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাহিনীর কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা বা গাফিলতির কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়মিত তথ্য মনিটর করছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত ও টেকসই করতে সরকারের প্রচেষ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।

ছিনতাই ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ

সম্প্রতি ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছিনতাই প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সম্প্রতি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে এক শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় পুলিশ দ্রুত তৎপরতা দেখিয়েছে। ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে আরও কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল জব্দ করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কঠোর ও তাৎক্ষণিক অভিযানের কারণে দেশজুড়ে ছিনতাইয়ের প্রবণতা কমছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও কমবে।

পুলিশের ভেতরেও নজরদারি

পুলিশ বাহিনীর ভেতরে থেকে যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে অসহযোগিতা করছেন বা গোপনে সরকারের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছেন, তাদের চিহ্নিত করতে বিশেষ তদারকি চলছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রতিটি বাহিনীতেই নিজস্ব ‘ইন্টারনাল ইন্টেলিজেন্স’ বা অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। অসহযোগিতাকারী কর্মকর্তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। একইসঙ্গে সাধারণ জনগণের কাছেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। সভায় স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তাবলিগ জামাতের (সাদপন্থি) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার পাবে প্রাথমিকের ১ কোটি ১০ লাখ শিশু : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

৮ জানুয়ারি শুরু বিশ্ব ইজতেমা, দ্বিতীয় পর্ব ১৫ জানুয়ারি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০২:২০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক  : 

আগামী বছরের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমার প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন নিয়ে বৈঠক শেষে ব্রিফিং তিনি এ কথা বলেন ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই পর্বে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ইজতেমার প্রথম পর্ব আগামী ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

একনজরে সময়সূচি—

প্রথম পর্ব: ৮, ৯ ও ১০ জানুয়ারি (২০২৭)

দ্বিতীয় পর্ব: ১৫, ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি (২০২৭)

এসময় তিনি বলেন, সা’দ পন্থী মুরুব্বিদের সঙ্গে আজ বৈঠক হয়েছে, এর আগে জুবায়ের পন্থীদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

বিশ্ব ইজতেমার বিষয়ে তিনি বলেন, দুই পক্ষ তাদের প্রস্তাব দিয়েছে, সবার সঙ্গে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত জানাবে সরকার।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিগত বছরের তুলনায় ভালো। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আরেকটু সময় লাগবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় করতে কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের কারণে এক বছর তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা হয়নি। আজকে দুই অংশের একটি পক্ষ (মওলানা সাদপন্থি) নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে বেশ কিছুদিন আগে জুবায়েরপন্থি হিসেবে যারা পরিচিত তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাদেরকেও বলেছিলাম আমরা দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলব।

মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই এবং গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলব। সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। আমরা চাই যাতে কোনো ধরনের সংঘর্ষ না হয়। কারণ এর আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এজন্য আমরা বিষয়টি লক্ষ্য রেখে সিদ্ধান্ত নেব। যেহেতু আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেইনি, এর বেশি এই মুহূর্তে আমরা বলতে পারছি না।

তিনি বলেন, জুবায়েরপন্থিদের দাবি প্রথম পর্ব এবং দ্বিতীয় পর্ব তারা করতে চান। আর সাদপন্থিদের দাবি হচ্ছে রমজানের আগে এবং ওই দুই পর্বের পরে এর মধ্যবর্তী সময়ে এক পর্বে ইজতেমা করা। অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে প্রস্তাবিত এই দুই পর্ব শুরুর আগেই সাদপন্থিরা ইজতেমা করতে চান।

জুবায়ের অংশের প্রস্তাব দিয়েছিল সাদপন্থিরা যেন অন্য কোথাও ইজতেমা করে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরাও বলেছিলাম আমার এতে যা সহযোগিতা করার করব। কিন্তু এতে মাওলানা সাদের অনুসারীরা সম্মত হননি। আমরা দুই পক্ষকেই একত্রে ইজতেমা করার আহ্বান জানিয়েছি।

মাওলানা সাদ সাহেবের আগমনের বিষয়টি ধর্ম অনুসারে ধর্ম মন্ত্রণালয় দেখবে সেই হিসেবে তারা সিদ্ধান্ত নেবে। এটা ভিসানীতি অনুসারে দেখা হবে। এ বিষয়ে এখন আমরা চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব না। ভিসানীতি অনুসারে যেভাবে ক্লিয়ারেন্স নিতে হয় সেভাবে নেবে, তারপরে দেখা যাবে, বলেন তিনি।

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা গেছে, বিগত সময়ের তুলনায় দেশের সামগ্রিক অপরাধ চিত্র অনেক নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রাপ্ত কেন্দ্রভিত্তিক ও জেলাভিত্তিক সংকলিত তথ্যানুযায়ী হত্যা, অপহরণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের হার অনেক হ্রাস পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় জনগণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরে মন্ত্রী সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রাজধানীতে এক শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেফতার, ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং অপরাধীদের ব্যবহৃত মালামাল জব্দ করে আদালতের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরের গোয়েন্দা মনিটরিং ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাহিনীর কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা বা গাফিলতির কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়মিত তথ্য মনিটর করছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত ও টেকসই করতে সরকারের প্রচেষ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।

ছিনতাই ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ

সম্প্রতি ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছিনতাই প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সম্প্রতি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে এক শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় পুলিশ দ্রুত তৎপরতা দেখিয়েছে। ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে আরও কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল জব্দ করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কঠোর ও তাৎক্ষণিক অভিযানের কারণে দেশজুড়ে ছিনতাইয়ের প্রবণতা কমছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও কমবে।

পুলিশের ভেতরেও নজরদারি

পুলিশ বাহিনীর ভেতরে থেকে যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে অসহযোগিতা করছেন বা গোপনে সরকারের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছেন, তাদের চিহ্নিত করতে বিশেষ তদারকি চলছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রতিটি বাহিনীতেই নিজস্ব ‘ইন্টারনাল ইন্টেলিজেন্স’ বা অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। অসহযোগিতাকারী কর্মকর্তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। একইসঙ্গে সাধারণ জনগণের কাছেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। সভায় স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তাবলিগ জামাতের (সাদপন্থি) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।