ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার জোড়া গোলে বার্সেলোনার হ্যাটট্রিক জয়

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০১:৩৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮০ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

গোলের বন্যায় নতুন মৌসুমে নিজেদের দাপটের জানান দিয়ে চলেছে বার্সেলোনা। এবার রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে পাঁচ গোলের উৎসবে মাতল হান্সি ফ্লিকের দল। যেখানে জোড়া গোল করে করেছেন লামিনে ইয়ামাল ও রাফিনিয়া। তাতে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে বড় জয় তুলে নিয়ে লা লিগায় টানা তৃতীয় জয় পেল বার্সেলোনা।

ক্যাম্প ন্যুতে সোমবার (৩১ আগস্ট) রায়ো ভায়েকানোকে ৫-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। ম্যাচটি ছিল ইয়ামালের জন্য আরও বিশেষ, বার্সার জার্সিতে ৫০ গোলের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন তিনি। ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার জোড়া গোল ছাড়া অপর গোলটি এসেছে আত্মঘাতীর সুবাধে।

শিরোপাধারীদের অন্য গোলটি প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী। ভাইয়েকানোর হয়ে জোড়া গোল করেন সের্হিও কামেয়ো। পিছিয়ে পড়া দলকে সমতায় ফেরান হাফিনিয়া। একটু পরই ইয়ামালের চোখধাঁধানো গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।

তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছে বার্সেলোনা। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে দুই নম্বরে নেমে গেছে রেয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠে এ দিন প্রায় ৬৭ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২৬টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখতে পারে বার্সেলোনা। ভাইয়েকানোর ১১ শটের পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল।

ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। ১২ মিনিটে আলভারো গার্সিয়ার বাড়ানো বল থেকে গোল করে রায়োকে এগিয়ে দেন সার্জিও কামেয়ো। তবে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় বার্সেলোনা। ১৯ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান রাফিনিয়া। দুই মিনিট পর দারুণ এক গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল। মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচেই বার্সেলোনা এখন ১২ গোল করেছে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিজেদের জালে বল পাঠিয়ে বসেন রায়োর ফ্লোরিয়ান লেজুন। এরপর কামেয়ো নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান কমালেও রাফিনিয়া ও ইয়ামালের আরও দুই গোলে শেষ পর্যন্ত সহজ জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।

প্রথম দুই ম্যাচে জয় না পাওয়া রায়ো শুরু থেকেই বার্সেলোনার ওপর আক্রমণাত্মক চাপ তৈরি করে। ১২ মিনিটে আলভারো গার্সিয়ার নিখুঁত পাস থেকে কামেয়োর গোলেই নু ক্যাম্পের দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয় তারা।

চলতি মৌসুমে এটাই ছিল বার্সেলোনার হজম করা প্রথম গোল। তবে গোল খেয়েই দ্রুত জেগে ওঠে স্বাগতিকরা।

রাফিনিয়ার শট সরাসরি রায়োর গোলরক্ষক দানি কার্দেনাসের হাতে জমা পড়ে। ইয়ামালও অল্পের জন্য গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর ১৯ মিনিটে রাফিনিয়া রায়োর রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকে নিচের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান।

এর মাত্র দুই মিনিট পরই ইয়ামাল নিজের প্রথম গোলটি করেন। বক্সের ভেতরে ঢুকে ওপরের কোণে দুর্দান্ত শটে বল পাঠিয়ে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন তিনি।

ইংল্যান্ডের উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনও বার্সেলোনার হয়ে বেশ সক্রিয় ছিলেন। তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন কার্দেনাস। এরপর মার্ক বার্নালের শটও ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন রায়োর গোলরক্ষক।

দ্বিতীয়ার্ধের ছয় মিনিটের মাথায় বার্সেলোনার তৃতীয় গোল আসে কিছুটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে। বল নিজেদের জালে পাঠিয়ে দেন রায়োর লেজুন। এরপর বার্সেলোনার জুল কুন্দের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।

তবে রায়ো হাল ছাড়েনি। ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগে উনাই লোপেসের কর্নার থেকে পায়ে বল লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন কামেয়ো।

গর্ডন এরপরও রায়োর রক্ষণে আতঙ্ক ছড়াতে থাকেন। একাধিক সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর, যার মধ্যে বক্সের ভেতরে ফেরমিন লোপেসের শট আটকে যাওয়াও ছিল, গর্ডনের দারুণ এক ব্যাকহিল পাস থেকে চতুর্থ গোলটি করেন রাফিনিয়া।

শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও রায়ো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ম্যাচের শেষ মিনিটে করিম আদেয়েমির বাড়ানো বল থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়ামাল। তাতেই ৫-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা এবং মৌসুমে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখে আবারও লা লিগার শীর্ষে উঠে যায় তারা।

স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী ইয়ামালের প্রথমার্ধের দুর্দান্ত গোলটি ছিল ২০২৬-২৭ মৌসুমে তাঁর প্রথম। তবে সেটিই শেষ নয়, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আরও একবার জালের দেখা পান তিনি।

ম্যাচটি গ্যালারি থেকে দেখেছেন আর্সেনালের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুস। দলবদলের শেষ মুহূর্তে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই ফরোয়ার্ডের সামনে এখন রাফিনিয়ার সঙ্গে মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াইও তৈরি হতে পারে।

জেসুসকে নিয়ে ফ্লিক বলেন, আমার কাছে সে একজন দুর্দান্ত স্ট্রাইকার। অবশ্যই সে আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। সে আমাদের অনেক কিছু দিতে পারবে। সে এখানে এসেছে দেখে আমরা খুব খুশি।

তবে পাঁচ গোলের জয় পেলেও দলের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন ফ্লিক। বিশেষ করে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর রায়োকে দ্বিতীয় গোল করার সুযোগ দেওয়াটা তাকে হতাশ করেছে।

ফ্লিক বলেন, বিশেষ করে ঘরের মাঠে ৩-১ এগিয়ে থাকার পর আমাদের ম্যাচটা আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত ছিল। আমাদের সেই মানের খেলোয়াড় আছে, যারা বল দখলে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু আমাদের দলের মানসিকতা এবং কিছু খেলোয়াড় সবসময় আক্রমণ করতে চায়।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

‘শিল্প কোনো পাপ নয়’—শিল্পীর মর্যাদা নিয়ে সোচ্চার প্রভা

ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার জোড়া গোলে বার্সেলোনার হ্যাটট্রিক জয়

প্রকাশের সময় : ০১:৩৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

গোলের বন্যায় নতুন মৌসুমে নিজেদের দাপটের জানান দিয়ে চলেছে বার্সেলোনা। এবার রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে পাঁচ গোলের উৎসবে মাতল হান্সি ফ্লিকের দল। যেখানে জোড়া গোল করে করেছেন লামিনে ইয়ামাল ও রাফিনিয়া। তাতে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে বড় জয় তুলে নিয়ে লা লিগায় টানা তৃতীয় জয় পেল বার্সেলোনা।

ক্যাম্প ন্যুতে সোমবার (৩১ আগস্ট) রায়ো ভায়েকানোকে ৫-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। ম্যাচটি ছিল ইয়ামালের জন্য আরও বিশেষ, বার্সার জার্সিতে ৫০ গোলের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন তিনি। ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার জোড়া গোল ছাড়া অপর গোলটি এসেছে আত্মঘাতীর সুবাধে।

শিরোপাধারীদের অন্য গোলটি প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী। ভাইয়েকানোর হয়ে জোড়া গোল করেন সের্হিও কামেয়ো। পিছিয়ে পড়া দলকে সমতায় ফেরান হাফিনিয়া। একটু পরই ইয়ামালের চোখধাঁধানো গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।

তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছে বার্সেলোনা। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে দুই নম্বরে নেমে গেছে রেয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠে এ দিন প্রায় ৬৭ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২৬টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখতে পারে বার্সেলোনা। ভাইয়েকানোর ১১ শটের পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল।

ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। ১২ মিনিটে আলভারো গার্সিয়ার বাড়ানো বল থেকে গোল করে রায়োকে এগিয়ে দেন সার্জিও কামেয়ো। তবে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় বার্সেলোনা। ১৯ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান রাফিনিয়া। দুই মিনিট পর দারুণ এক গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল। মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচেই বার্সেলোনা এখন ১২ গোল করেছে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিজেদের জালে বল পাঠিয়ে বসেন রায়োর ফ্লোরিয়ান লেজুন। এরপর কামেয়ো নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান কমালেও রাফিনিয়া ও ইয়ামালের আরও দুই গোলে শেষ পর্যন্ত সহজ জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।

প্রথম দুই ম্যাচে জয় না পাওয়া রায়ো শুরু থেকেই বার্সেলোনার ওপর আক্রমণাত্মক চাপ তৈরি করে। ১২ মিনিটে আলভারো গার্সিয়ার নিখুঁত পাস থেকে কামেয়োর গোলেই নু ক্যাম্পের দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয় তারা।

চলতি মৌসুমে এটাই ছিল বার্সেলোনার হজম করা প্রথম গোল। তবে গোল খেয়েই দ্রুত জেগে ওঠে স্বাগতিকরা।

রাফিনিয়ার শট সরাসরি রায়োর গোলরক্ষক দানি কার্দেনাসের হাতে জমা পড়ে। ইয়ামালও অল্পের জন্য গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর ১৯ মিনিটে রাফিনিয়া রায়োর রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকে নিচের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান।

এর মাত্র দুই মিনিট পরই ইয়ামাল নিজের প্রথম গোলটি করেন। বক্সের ভেতরে ঢুকে ওপরের কোণে দুর্দান্ত শটে বল পাঠিয়ে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন তিনি।

ইংল্যান্ডের উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনও বার্সেলোনার হয়ে বেশ সক্রিয় ছিলেন। তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন কার্দেনাস। এরপর মার্ক বার্নালের শটও ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন রায়োর গোলরক্ষক।

দ্বিতীয়ার্ধের ছয় মিনিটের মাথায় বার্সেলোনার তৃতীয় গোল আসে কিছুটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে। বল নিজেদের জালে পাঠিয়ে দেন রায়োর লেজুন। এরপর বার্সেলোনার জুল কুন্দের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।

তবে রায়ো হাল ছাড়েনি। ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগে উনাই লোপেসের কর্নার থেকে পায়ে বল লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন কামেয়ো।

গর্ডন এরপরও রায়োর রক্ষণে আতঙ্ক ছড়াতে থাকেন। একাধিক সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর, যার মধ্যে বক্সের ভেতরে ফেরমিন লোপেসের শট আটকে যাওয়াও ছিল, গর্ডনের দারুণ এক ব্যাকহিল পাস থেকে চতুর্থ গোলটি করেন রাফিনিয়া।

শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও রায়ো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ম্যাচের শেষ মিনিটে করিম আদেয়েমির বাড়ানো বল থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়ামাল। তাতেই ৫-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা এবং মৌসুমে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখে আবারও লা লিগার শীর্ষে উঠে যায় তারা।

স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী ইয়ামালের প্রথমার্ধের দুর্দান্ত গোলটি ছিল ২০২৬-২৭ মৌসুমে তাঁর প্রথম। তবে সেটিই শেষ নয়, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আরও একবার জালের দেখা পান তিনি।

ম্যাচটি গ্যালারি থেকে দেখেছেন আর্সেনালের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুস। দলবদলের শেষ মুহূর্তে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই ফরোয়ার্ডের সামনে এখন রাফিনিয়ার সঙ্গে মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াইও তৈরি হতে পারে।

জেসুসকে নিয়ে ফ্লিক বলেন, আমার কাছে সে একজন দুর্দান্ত স্ট্রাইকার। অবশ্যই সে আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। সে আমাদের অনেক কিছু দিতে পারবে। সে এখানে এসেছে দেখে আমরা খুব খুশি।

তবে পাঁচ গোলের জয় পেলেও দলের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন ফ্লিক। বিশেষ করে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর রায়োকে দ্বিতীয় গোল করার সুযোগ দেওয়াটা তাকে হতাশ করেছে।

ফ্লিক বলেন, বিশেষ করে ঘরের মাঠে ৩-১ এগিয়ে থাকার পর আমাদের ম্যাচটা আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত ছিল। আমাদের সেই মানের খেলোয়াড় আছে, যারা বল দখলে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু আমাদের দলের মানসিকতা এবং কিছু খেলোয়াড় সবসময় আক্রমণ করতে চায়।