স্পোর্টস ডেস্ক :
চলতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গেল দুই আসরের লোকসানের বিষয়গুলো বিবেচনার মাধ্যমে তাড়াহুড়ো করে এবার টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চাইছে না বোর্ড। সবকিছু নতুন করে গুছিয়ে আগামী বছর বিপিএল ফেরানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিপিএল নিয়ে আলোচনায় বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, এ বছর বিপিএল হচ্ছে না। আমরা একটা ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি।
বিপিএল আয়োজনকে একটি গোছানো প্রক্রিয়ার মধ্যে আনতে চান তামিম। এর আগের বছরগুলোতে কোনো আসরেই কোনোকিছুই ঠিকঠাক হয়নি। তিনি এভাবে বিপিএল আয়োজন করতে চান না। সে কারণে এবার এই আসর বন্ধ রেখে পরবর্তী আসর থেকে নতুন আঙ্গিকে বিপিএল আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তামিম বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বিসিবির লাভ করার কথা, লোকসান করার কথা নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই সমস্যাগুলো ঠিক করতে পারছি না, ততক্ষণ লোকসান করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা গুরুত্বপূর্ণ নয়।
বিপিএল আয়োজন করার মত যথেষ্ট সময় বোর্ডের কাছে আছে কি না জানতে চাইলে তামিম বলেন, আই ডোন্ট থিংক সো। এ বছর বিপিএল হবে না।
বিপিএল না হলে ক্রিকেটাররা হতাশ হবে জানলেও এ বছর আয়োজন করতে চান না তিনি। তামিম বলেন, আমি খেলোয়াড় থাকলে নিজেও হতাশ হতাম। তাদের আর্থিক ক্ষতি হবে এটা আমি অস্বীকার করি না। কিন্তু তারাও বোঝে যে এই টুর্নামেন্টটা এমন হওয়া উচিত, যা নিয়ে বিসিবি গর্ব করতে পারে। গত কয়েক বছরে যা হয়েছে তা নিয়ে কি আমরা গর্বিত? হয়তো না।
তিনি বলেন, খেলোয়াড়রাও একমত যে জিনিসটা সুন্দরভাবে হওয়া উচিত। যুক্তি আলাদা হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে মূল বিষয় হলো টুর্নামেন্টটা ঠিকঠাক চালানো। বিপিএল একটা গ্রেট প্রোডাক্ট আর এটা নিয়ে প্রচুর আগ্রহ আছে। এটাকে ঠিকঠাক করতে পারলে আগ্রহ আরও বাড়বে।
তবে বিপিএল বন্ধ করে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বিসিবির। বরং দীর্ঘমেয়াদে আরও ভালোভাবে আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চান তামিম। এ প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি বলেন, আমাদের এটা করার ইচ্ছা শতভাগ আছে। কিন্তু আমি তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আমি সবকিছু সঠিকভাবে করতে চাই। এতে যদি ছয় মাস বা ১২ মাস সময়ও লাগে, আমি সেটা নেব।
গত দুই বছরে বিপিএল আয়োজন করতে গিয়ে প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বিসিবির। তামিম বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বিসিবির লাভ করার কথা, লোকসান করার কথা নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই সমস্যাগুলো ঠিক করতে পারছি না, ততক্ষণ লোকসান করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা গুরুত্বপূর্ণ নয়।
ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে এরই মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। যেসব দলের বকেয়া, ব্যাংক গ্যারান্টি কিংবা অন্যান্য জটিলতা রয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে আগামী আসরের জন্য যথেষ্ট সময় হাতে রেখে ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করতে চায় বোর্ড।
বিসিবি সভাপতি বলেন, আমরা আগামী বছর এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে সব ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রক্রিয়া শেষ করতে চাই। আগে যেটা হতো, একেবারে শেষ মুহূর্তে সবকিছু করা হতো। এবার আমরা যথেষ্ট সময় নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করতে চাই, যাতে কেউ শেষ মুহূর্তে সরে গেলে আমাদের বিকল্প খোঁজার সময় থাকে।
বিপিএল আয়োজনের জন্য চাইলে দ্রুত কয়েকটি দল দাঁড় করানো সম্ভব হলেও সেটি করতে চান না তামিম, আমি চাইলে কালকেই পাঁচটা দল দাঁড় করিয়ে দিতে পারি, কিন্তু আমি সেটা করব না। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষ্ঠু ক্রিকেট এবং বিসিবির মর্যাদা বজায় রাখা। এ জন্য যদি সমালোচনাও শুনতে হয়, আমি প্রস্তুত।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























