স্পোর্টস ডেস্ক :
সবকিছু চূড়ান্তই ছিল। বাকি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। এবার সেটিও চলে এলো। নানান হিসাব-নিকাশের পর সেটাই এখন আনুষ্ঠানিক রূপ পেল। ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি থেকে রদ্রিকে দলে ভেড়ানোর বিষয়টি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। রদ্রিকে পেতে ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৭৩ কোটি টাকা) খরচ করতে হয়েছে বার্সাকে।
বার্সার জানানো তথ্য অনুযায়ী, দুই ক্লাবের মধ্যকার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ফলে নতুন সমঝোতায় ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চার বছরের চুক্তিতে কাতালান ক্লাবটির জার্সিতেই দেখা যাবে এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে।
বিশ্বমানের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত রদ্রি মূলত তার ট্যাকটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড, ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত এবং দুর্দান্ত পাসিং অ্যাবিলিটির জন্য ফুটবল বিশ্বে সমাদৃত। মাঠের খেলা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে বল ছিনিয়ে নেওয়ায় তাকে এই সময়ের অন্যতম সেরা বিবেচনা করা হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি গত রোববারই জানিয়েছিল, সাড়ে ছয় কোটি পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে রদ্রিকে দলে নিতে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে বার্সেলোনা।
পরদিন রাতে বার্সেলোনায় পৌঁছান ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলার। বার্সেলোনার এল প্রাত বিমানবন্দরে নেমে তিনি বলেন, বার্সেলোনার হয়ে খেলাটা একটা স্বপ্নের মতো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অন্যান্য শিরোপা জয়ের লক্ষ্যেরও কথাও বলেন তিনি।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রেয়াল মাদ্রিদকে পেছনে ফেলে এই মিডফিল্ডারকে দলে নিয়েছে বার্সেলোনা। চুক্তি স্বাক্ষরের পর রদ্রি বলেন, কাতালান ক্লাবটিই ছিল তার প্রথম পছন্দ। সিটির প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
“আমি বলতে চাই, এখানে এসে আমি খুব খুশি। এটি বিশেষ একটি দিন, আমার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায়। সিদ্ধান্তটি কঠিন ছিল। প্রথমত, সিটি ছেড়ে আসার কারণে, যারা আমাকে সবকিছু দিয়েছে। তাদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আমার এই যাত্রাকে সহজ করে দেওয়ার জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।
ফুটবল সম্পর্কে তাদের বোঝাপড়া ও মূল্যবোধের জন্য বার্সেলোনা সবসময়ই আমার কাছে বিশ্বের মানদণ্ড ছিল। এটা সত্যি যে, আমার কাছে অন্য একটি প্রস্তাবও ছিল, কিন্তু বার্সাই ছিল আমার প্রথম পছন্দ এবং বোর্ডকে সে কথাই আমি জানিয়েছিলাম।”
মাদ্রিদে জন্ম নেওয়া এই স্প্যানিশ তারকা তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন আতলেতিকো মাদ্রিদের একাডেমি থেকে। পরবর্তীতে ভিয়ারিয়ালে খেলার পর ২০১৮ সালে তাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনে আতলেতিকো। দিয়েগো সিমিওনের অধীনে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানোর পর ২০১৯ সালে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন তিনি।
ম্যানচেস্টার সিটিতে সাতটি মৌসুমে প্রায় ৩০০ ম্যাচ খেলে জয়ের নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছেন রদ্রি। ক্লাবটির হয়ে একাধিক প্রিমিয়ার লিগ ও এফএ কাপসহ ১২টি বড় শিরোপার পাশাপাশি ২০২৩ সালে সিটিকে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতেও ভূমিকা রাখেন তিনি। সেই ফাইনালে তার করা একমাত্র গোলটিই ক্লাবটিকে এনে দিয়েছিল প্রথম ইউরোপিয়ান মুকুট।
জাতীয় দলের হয়েও সমান উজ্জ্বল রদ্রি। ২০২৪ সালে স্পেনকে ইউরো জেতাতে তিনি অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন, যা তাকে সেই বছরই ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মাননা ব্যালন ডি’অর এনে দেয়। সাম্প্রতিক সময়েও আটজন বার্সা তারকাকে সঙ্গে নিয়ে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে তিনি ছিলেন মূল কাণ্ডারি, যেখানে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে পেয়েছেন ‘গোল্ডেন বল’।
মাঠে রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণে উঠে এসে গুরুত্বপূর্ণ গোল করার দারুণ এক ক্ষমতা আছে রদ্রির। তবে তার সবচেয়ে বড় গুণ হলো ম্যাচের পরিস্থিতি অনুধাবন করার ক্ষমতা, যা তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তারকাখ্যাতি পেলেও তার পেশাদারত্ব ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা যেকোনো দলের জন্যই বড় এক সম্পদ।
হাঁটুর গুরুতর চোটের কারণে ২০২৪-২৫ মৌসুমে অধিকাংশ সময় এবং হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় গত মৌসুমেও অনেকটা সময় তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন।
তবে সব সমস্যা পেছনে ফেলে, গত মাসে শেষ হওয়া বিশ্বকাপে সেরা ফর্মে আবির্ভুত হন রদ্রি এবং স্পেনের বিশ্বকাপে জয়ে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বলও জয় করেন তিনি।
বিশ্বকাপের পর রদ্রির পিঠে ছোট একটি অস্ত্রোপচার হয়। ফলে বার্সেলোনার হয়ে তার অভিষেক বিলম্বিত হতে পারে।
আগামী রোববার এলচের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লা লিগা শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে হান্সি ফ্লিকের দল।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























