আওয়ামী লীগকে আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না : প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি : 

আওয়ামী লীগকে আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় করার অপচেষ্টা চালানো হতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কিছু গোষ্ঠী স্বৈরাচারকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সাধারণ মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য যে নাটকীয়তা ও ষড়যন্ত্র চলছে, তা থেকে চোখ সরিয়ে আমাদের উন্নয়নের কথা বলতে হবে। নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করে সেই স্বৈরাচারকে যেন আমরা আবার ফিরে আসার সুযোগ করে না দিই।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম হাসপাতালটির পরিধি ও শয্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বলেন, বর্তমানে এ হাসপাতালটি ৬ তলা বিশিষ্ট, এটিকে ৮ তলায় রূপান্তরিত করা হবে। এছাড়া হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইচ্ছা অনুযায়ী- পাশের যে জায়গাটিতে এখন ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে, সেটি সরকারি হলে সরকারিভাবে আর ব্যক্তি মালিকানাধীন হলে প্রয়োজনে অধিগ্রহণ করে হাসপাতালের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে ৫০ শয্যার এ শিশু হাসপাতালটিকে ১০১ বা ১৫০ শয্যায় রূপান্তরিত করতে আগামী মাসেই পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, আজই মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন নীতিগত অনুমোদনের জন্য অ্যাজেন্ডাভুক্ত রয়েছে এবং বিগত একনেক বৈঠকে করতোয়া নদী খনন প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অলাভজনক ও ফ্রি থাকবে, শুধু প্রকৃত খরচটুকু নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচিবের ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি ওষুধ কোম্পানি থেকে এখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে।

চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের পরিকল্পিত ছয়তলা ভবনকে আটতলায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের পাশের একটি বহুতল ভবন অধিগ্রহণ করে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের আওতায় আনার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

বগুড়া-৬ (বগুড়া সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩৮ বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন এবং নবঘোষিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। পুরো আয়োজনের আমন্ত্রণে ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল।

বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের নতুন বেড ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামসহ সামগ্রিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতাল পরিচালনার জন্য সব ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

কাঁঠাল নিয়ে বিরোধে ছেলে-পুত্রবধূর মারধরে বাবার মৃত্যু

আওয়ামী লীগকে আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না : প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

প্রকাশের সময় : ০৩:১১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি : 

আওয়ামী লীগকে আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় করার অপচেষ্টা চালানো হতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কিছু গোষ্ঠী স্বৈরাচারকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সাধারণ মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য যে নাটকীয়তা ও ষড়যন্ত্র চলছে, তা থেকে চোখ সরিয়ে আমাদের উন্নয়নের কথা বলতে হবে। নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করে সেই স্বৈরাচারকে যেন আমরা আবার ফিরে আসার সুযোগ করে না দিই।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম হাসপাতালটির পরিধি ও শয্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বলেন, বর্তমানে এ হাসপাতালটি ৬ তলা বিশিষ্ট, এটিকে ৮ তলায় রূপান্তরিত করা হবে। এছাড়া হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইচ্ছা অনুযায়ী- পাশের যে জায়গাটিতে এখন ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে, সেটি সরকারি হলে সরকারিভাবে আর ব্যক্তি মালিকানাধীন হলে প্রয়োজনে অধিগ্রহণ করে হাসপাতালের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে ৫০ শয্যার এ শিশু হাসপাতালটিকে ১০১ বা ১৫০ শয্যায় রূপান্তরিত করতে আগামী মাসেই পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, আজই মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন নীতিগত অনুমোদনের জন্য অ্যাজেন্ডাভুক্ত রয়েছে এবং বিগত একনেক বৈঠকে করতোয়া নদী খনন প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অলাভজনক ও ফ্রি থাকবে, শুধু প্রকৃত খরচটুকু নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচিবের ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি ওষুধ কোম্পানি থেকে এখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে।

চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের পরিকল্পিত ছয়তলা ভবনকে আটতলায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের পাশের একটি বহুতল ভবন অধিগ্রহণ করে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের আওতায় আনার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

বগুড়া-৬ (বগুড়া সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩৮ বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন এবং নবঘোষিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। পুরো আয়োজনের আমন্ত্রণে ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল।

বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের নতুন বেড ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামসহ সামগ্রিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতাল পরিচালনার জন্য সব ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।