ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে ইলেকট্রিক ট্রেন : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মাণ এবং ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নকশাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক তার প্রশ্নে জানতে চেয়েছিলেন- ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনতে ইলেকট্রিক (বুলেট ট্রেন) ট্রেন চালু করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না এবং থাকলে তা কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে।

জবাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোর নিয়ে সরকারের তিন স্তরের মহাপরিকল্পনার কথা সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই করিডোরে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন (নকশা) প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

কবে নাগাদ এটি চালু হবে— এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। অর্থায়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে এই রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা সম্ভব হবে, ফলে ট্রেনের গড় গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমে আসবে।

রেলপথের দূরত্ব কমানোর বিষয়ে সংসদ নেতা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব কমাতে ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত সরাসরি ‘কর্ডলাইন’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই কর্ডলাইনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুই শহরের দূরত্ব কমার পাশাপাশি ট্রেনের গড় গতি বৃদ্ধি পাবে। ফলে অল্প সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত করা যাবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের আওতায় টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত অংশের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইনের কাজ শেষ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এর মধ্যে লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া টঙ্গী-আখাউড়া অংশের প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নও শেষ পর্যায়ে। আশা করা যাচ্ছে, এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

গভীর সমুদ্রে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি নতুন কূপ খননের বিশাল পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সমুদ্র অঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে, যার দরপত্র দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

এছাড়া স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নারী আসন-১৭ এর সদস্য সুলতানা আহমেদ এবং মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের পৃথক দুটি প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের নেওয়া এসব স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের কথা জানান।

এসময় জরুরি জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পের ধারাবাহিক উৎপাদন নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়ে গঠিত সরকারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ তার প্রশ্নে জুলাই ২০২৬-এ একটি এলএনজি টার্মিনাল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্যাস সরবরাহে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি ও শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি জানতে চান, ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক সংকটে শিল্পখাত যেন বড় ক্ষতির মুখে না পড়ে, সেজন্য গ্যাস সরবরাহের বিকল্প উৎস, এলএনজি রিজার্ভ সক্ষমতা, শিল্পাঞ্চলভিত্তিক অগ্রাধিকার সরবরাহ এবং জরুরি জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে কি না।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আকস্মিক বা সাময়িক সংকটকালে শিল্পখাত যেন গ্যাস সংকটের সম্মুখীন না হয়, সেজন্য সরকার ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মোট ৪,৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বি-মাত্রিক (২ডি) এবং ৪,২০০ বর্গ কিলোমিটার ত্রি-মাত্রিক (৩ডি) সাইসমিক সার্ভে পরিচালনা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে গ্যাসের ঘাটতি পূরণ ও এলএনজি অবকাঠামো জোরদার করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে বিদ্যমান দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে বর্তমানে গড়ে দৈনিক প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়। ভবিষ্যতে আকস্মিক সংকট সামাল দিতে মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

তিনি জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী কুতুবজোম ভাসমান টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং ল্যান্ড-বেইজড টার্মিনাল থেকে ২০৩০ নাগাদ রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূল বিবেচনায় গভীর সমুদ্রে সুবিধাজনক স্থান নির্বাচন করে জরুরি ভিত্তিতে একটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

একই সঙ্গে ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মেইনল্যান্ডে এনে আগ্রহী শিল্পে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলসমূহ অগ্রাধিকার পাবে বলে জানান সরকারপ্রধান।

অন্য এক প্রশ্নে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খান দেশের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিকল্প উৎসের সমন্বিত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।

এসময় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন ও আগামী দিনের লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের বিশাল চাহিদা মেটাতে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সরকারের সবচেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জ্বালানি খাতের রূপান্তর নিশ্চিত করতে সরকার এরই মধ্যে ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণয়ন করেছে।

তিনি জানান, কৌশলপত্র অনুযায়ী, সার্বিক সম্ভাবনা ও বর্তমান বাস্তবতাকে মাথায় রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের সুনির্দিষ্ট জাতীয় লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। এ লক্ষ্যের অংশ হিসেবে ২০৩০ সাল নাগাদ বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে একক প্রযুক্তি হিসেবে সর্বাধিক জোর দেওয়া হয়েছে সৌরবিদ্যুতের ওপর।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিকল্পনা অনুসারে, দেশের বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫,৫০০ মেগাওয়াট এবং বিশালাকার ভূমিভিত্তিক সৌরপ্রকল্প থেকে আরও ৪,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সংস্থান রাখা হয়েছে। বাকি ঘাটতি পূরণে বায়ু বিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সোলার ও কৃষিভিত্তিক অ্যাগ্রিভোলটেইক্সের মতো আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করা হবে।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ বিশাল লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করে তুলতে সরকার আমদানিনীতি ও শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো তৈরির জন্য অতীব জরুরি উপাদান যেমন—সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, বিশেষায়িত ব্যাটারি ও স্ট্রাকচার আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমুদয় কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং দুই শতাংশের অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগের গতি আরও ত্বরান্বিত করতে এবং সাধারণ গ্রাহকদের সম্পৃক্ত করতে সম্প্রতি একটি বিশেষ মূল্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ সরকারি প্রণোদনা হিসেবে এই উৎপাদন ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম হিসাব করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা স্থির করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ সুবিধার আওতায় নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুসরণ করে যেসব সাধারণ বা বাণিজ্যিক গ্রাহক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ তারিখের মধ্যে ছাদভিত্তিক ব্যবস্থা স্থাপন করবেন, তারা নিজস্ব প্রয়োজন মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে টানা ৩ বছর, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত ইউনিট প্রতি নির্ধারিত এই ১০ টাকা ৫০ পয়সা হার সুবিধা পাবেন।

সরকারপ্রধান জানান, সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগকে সুনির্দিষ্ট আইনি ও নীতিগত কাঠামোয় আনতে সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা কার্যকর করেছে। সরকারি মালিকানাধীন ভূমিতে পিপিপি পদ্ধতিতে প্রকল্প তৈরির নির্দেশিকা ২০২৬, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিশেষ নীতিমালা ২০২৫, সার্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫ এবং হালনাগাদ নেট মিটারিং গাইডলাইন ২০২৫ এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, পাশাপাশি টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গ্রহণ করা হয়েছে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ২০২৫, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমন্বিত সমন্বিত ব্যবসায়িক মডেল, অনশোর উইন্ড গাইডলাইন এবং কার্বন ক্রেডিট প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত পথনির্দেশিকা, যা দেশের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ নিরাপত্তায় মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) সুলতানা আহমেদ জানতে চান, শিল্প ও রপ্তানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন ধরে রাখতে ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডের পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত করা কিংবা জরুরি ভিত্তিতে ভাসমান প্রযুক্তির মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের কোনো ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ কর্মসূচি বা পরিকল্পনা রয়েছে কিনা।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোলার যে গ্যাসটি আছে, এই গ্যাসটিকে যদি আমরা পাইপলাইনের মাধ্যমে মেইন ল্যান্ডে নিয়ে আসতে চাই, তাহলে সেই পরিকল্পনা যদি আমরা গ্রহণ করি, অন্তত সাত বছরের মতো সময় লাগবে।’

তিনি বলেন, সরকার ভোলায় শিল্পকারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায়। এরই মধ্যে কিছু শিল্প উদ্যোক্তা সেখানে গ্যাসনির্ভর শিল্প স্থাপনের চেষ্টা করছেন। এর ফলে সেখানে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির আকারও বৃদ্ধি পাবে।

ভোলার গ্যাস দেশের মানুষের স্বার্থে সঠিকভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ৫০০ মেগাওয়াটের আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

এরপর মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা সম্পূরক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তার পরিকল্পনা ও বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া এবং অন্যায়-অবিচার ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের করণীয় জানতে চান।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য, আপনার প্রশ্নটি আমার কাছে খুব পরিষ্কার নয়। আপনি যদি আমাকে একটু নোটিশ দেন, আমি প্রপারলি প্রিপেয়ারড হয়ে আপনার এই প্রশ্নের উত্তর দিব।

তিনি বলেন, দেশ ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যে পরিকল্পনা, তা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনের আগে তাদের নির্বাচনি ম্যানিফেস্টোতে তুলে ধরেছিল। সরকার গঠনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাওয়ায় আরও বেশি তথ্য পাওয়ার কারণে পরিকল্পনাগুলোকে বিস্তারিতভাবে বাস্তবায়ন ও আরও উন্নত করার সুযোগ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এত ডিটেইল পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হলে কিছুদিন সময় প্রয়োজন হয়।’ শিক্ষা, শিল্প ও চিকিৎসাসহ সব ক্ষেত্রেই পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা আমরা আগে গ্রহণ করছি, এখন আরও ডিটেইল, আরও ইমপ্রুভ করছি। এবং স্বাভাবিকভাবেই যখন আমরা কাজগুলো শুরু করবো তখন নিশ্চয়ই সমগ্র দেশের মানুষ, সকল পর্যায়ের মানুষ ধীরে ধীরে সকল বিষয়গুলো জানতে পারবেন।’

চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন খাল ও ড্রেন পরিষ্কার, খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি সড়ক, কালভার্ট, ফুটওভার ব্রিজ ও খেলার মাঠ উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে নগরের ২৫টি খাল থেকে আবর্জনা ও মাটি উত্তোলনসহ ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সার্ভিস ড্রেন পরিষ্কার এবং ড্রেনে জমে থাকা মাটি ও আবর্জনা অপসারণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

এ ছাড়া নগরের আরও ৩২টি খাল থেকে আবর্জনা ও মাটি উত্তোলন এবং অপসারণের কার্যক্রম চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে বাস্তবায়নাধীন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতাভুক্ত ৩৬টি খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের বাইরে আরও ২১টি খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৪৮ কিলোমিটার রাস্তা, দুটি কালভার্ট ও ছয়টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দুটি খেলার মাঠের উন্নয়নকাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ছয়টি খেলার মাঠের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, যথাযথ ব্যয় প্রাক্কলন না করা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল মনিটরিং ও জবাবদিহির ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটি মাত্র কারণে হয় না; বরং প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যা তৈরি করে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতার বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুত করার উদ্যোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনসংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে সংশোধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি বাড়ানো হয়েছে।

ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

যেসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি, সেগুলোর বিলম্ব, অনিয়ম, ব্যয় বৃদ্ধি ও সংশোধনের কারণ পর্যালোচনা করে বিলম্বের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, যে সব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সে সব প্রকল্পের উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে প্রকল্পগুলো পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন কিংবা চলমান রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়/ বিভাগ কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণ না করে সমন্বিত কর্মসূচির অধীনে গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপি ব্যবহারের সম্প্রসারণের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদের কার্যক্রম চলছে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে প্রকল্প গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ক্রয় আরও প্রতিযোগিতামূলক ও জবাবদিহিমূলক করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী।

মহিলা আসন-১৭ আসনের সদস্য সুলতানা আহমেদের করা সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, ভোলা থেকে সরাসরি মূল ভূখণ্ডে গ্যাস নিতে পাইপলাইন নির্মাণ করতে অন্তত সাত বছর সময় লাগবে। তাই মূল ভূখণ্ডে গ্যাস নেওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষায় না থেকে ভোলাতেই সরাসরি শিল্প-কারখানা স্থাপন, সার কারখানা গড়ে তোলা এবং নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে বা মেইনল্যান্ডে নিয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে তা বাস্তবায়নে অন্তত সাত বছরের মতো সময় লেগে যাবে। তাই সরকার বিকল্প ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। ভোলায় যাতে বিপুল পরিমাণ শিল্প-কারখানা স্থাপন করা যায়, সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। অনেক শিল্প উদ্যোক্তা সেখানে গ্যাসভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আন্তরিক চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে এই গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পায়ন হলে একদিকে যেমন ভোলায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতির আকারও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

ভোলার গ্যাসকে দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে ও জাতীয় স্বার্থে ব্যবহারের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, সেখানে একটি বড় সার (ফার্টিলাইজার) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এর পাশাপাশি একই স্থানে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলার গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

জাতীয় সংসদে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি বিশেষ কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদি এই উন্নয়ন পরিকল্পনায় দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ভোলার আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য, স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ, সাধারণ মানুষের চাহিদা, উপকূলীয় জলবায়ু ঝুঁকি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে বিবেচনায় নিয়েই সাজানো হচ্ছে এই সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান।

ভোলার বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদকে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যবহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা জানানো হয় সংসদে। ভোলা জেলায় একটি নতুন ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর পাশাপাশি ভোলার ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজি-তে রূপান্তর করে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে সরবরাহের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পগুলো চালু হলে ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদের কার্যকর অবদান বাড়াতে প্রণীত বিশেষ বিন্যাসে ভোলাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। নতুন কৌশলগত কাঠামোর অধীনে ভোলা জেলা এবং এর আশেপাশের দ্বীপগুলোকে ব্লু ইকোনমির সেন্ট্রাল জোনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিশেষ জোনের আওতায় জাতীয় রূপালী সম্পদ ইলিশ ও অন্যান্য মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, উপকূলীয় বিস্তৃত চরাঞ্চলের সমন্বিত কৃষি বিকাশ, জলবায়ু সহনশীল সুরক্ষিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ভোলার বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থান, গ্যাস ক্ষেত্র, উর্বর কৃষি জমি এবং বিপুল উপকূলীয় মৎস্যসম্পদের কথা বিবেচনায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে সরকার। এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী দিনে দ্বীপ জেলা ভোলার সার্বিক অর্থনীতিতে এক নতুন বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

মিঠামইনে বর্ষার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে ইলেকট্রিক ট্রেন : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মাণ এবং ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নকশাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক তার প্রশ্নে জানতে চেয়েছিলেন- ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনতে ইলেকট্রিক (বুলেট ট্রেন) ট্রেন চালু করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না এবং থাকলে তা কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে।

জবাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোর নিয়ে সরকারের তিন স্তরের মহাপরিকল্পনার কথা সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই করিডোরে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন (নকশা) প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

কবে নাগাদ এটি চালু হবে— এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। অর্থায়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে এই রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা সম্ভব হবে, ফলে ট্রেনের গড় গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমে আসবে।

রেলপথের দূরত্ব কমানোর বিষয়ে সংসদ নেতা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব কমাতে ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত সরাসরি ‘কর্ডলাইন’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই কর্ডলাইনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুই শহরের দূরত্ব কমার পাশাপাশি ট্রেনের গড় গতি বৃদ্ধি পাবে। ফলে অল্প সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত করা যাবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের আওতায় টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত অংশের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইনের কাজ শেষ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এর মধ্যে লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া টঙ্গী-আখাউড়া অংশের প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নও শেষ পর্যায়ে। আশা করা যাচ্ছে, এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

গভীর সমুদ্রে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি নতুন কূপ খননের বিশাল পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সমুদ্র অঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে, যার দরপত্র দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

এছাড়া স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নারী আসন-১৭ এর সদস্য সুলতানা আহমেদ এবং মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের পৃথক দুটি প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের নেওয়া এসব স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের কথা জানান।

এসময় জরুরি জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পের ধারাবাহিক উৎপাদন নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়ে গঠিত সরকারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ তার প্রশ্নে জুলাই ২০২৬-এ একটি এলএনজি টার্মিনাল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্যাস সরবরাহে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি ও শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি জানতে চান, ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক সংকটে শিল্পখাত যেন বড় ক্ষতির মুখে না পড়ে, সেজন্য গ্যাস সরবরাহের বিকল্প উৎস, এলএনজি রিজার্ভ সক্ষমতা, শিল্পাঞ্চলভিত্তিক অগ্রাধিকার সরবরাহ এবং জরুরি জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে কি না।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আকস্মিক বা সাময়িক সংকটকালে শিল্পখাত যেন গ্যাস সংকটের সম্মুখীন না হয়, সেজন্য সরকার ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মোট ৪,৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বি-মাত্রিক (২ডি) এবং ৪,২০০ বর্গ কিলোমিটার ত্রি-মাত্রিক (৩ডি) সাইসমিক সার্ভে পরিচালনা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে গ্যাসের ঘাটতি পূরণ ও এলএনজি অবকাঠামো জোরদার করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে বিদ্যমান দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে বর্তমানে গড়ে দৈনিক প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়। ভবিষ্যতে আকস্মিক সংকট সামাল দিতে মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

তিনি জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী কুতুবজোম ভাসমান টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং ল্যান্ড-বেইজড টার্মিনাল থেকে ২০৩০ নাগাদ রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূল বিবেচনায় গভীর সমুদ্রে সুবিধাজনক স্থান নির্বাচন করে জরুরি ভিত্তিতে একটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

একই সঙ্গে ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মেইনল্যান্ডে এনে আগ্রহী শিল্পে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলসমূহ অগ্রাধিকার পাবে বলে জানান সরকারপ্রধান।

অন্য এক প্রশ্নে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খান দেশের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিকল্প উৎসের সমন্বিত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।

এসময় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন ও আগামী দিনের লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের বিশাল চাহিদা মেটাতে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সরকারের সবচেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জ্বালানি খাতের রূপান্তর নিশ্চিত করতে সরকার এরই মধ্যে ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণয়ন করেছে।

তিনি জানান, কৌশলপত্র অনুযায়ী, সার্বিক সম্ভাবনা ও বর্তমান বাস্তবতাকে মাথায় রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের সুনির্দিষ্ট জাতীয় লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। এ লক্ষ্যের অংশ হিসেবে ২০৩০ সাল নাগাদ বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে একক প্রযুক্তি হিসেবে সর্বাধিক জোর দেওয়া হয়েছে সৌরবিদ্যুতের ওপর।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিকল্পনা অনুসারে, দেশের বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫,৫০০ মেগাওয়াট এবং বিশালাকার ভূমিভিত্তিক সৌরপ্রকল্প থেকে আরও ৪,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সংস্থান রাখা হয়েছে। বাকি ঘাটতি পূরণে বায়ু বিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সোলার ও কৃষিভিত্তিক অ্যাগ্রিভোলটেইক্সের মতো আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করা হবে।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ বিশাল লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করে তুলতে সরকার আমদানিনীতি ও শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো তৈরির জন্য অতীব জরুরি উপাদান যেমন—সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, বিশেষায়িত ব্যাটারি ও স্ট্রাকচার আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমুদয় কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং দুই শতাংশের অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগের গতি আরও ত্বরান্বিত করতে এবং সাধারণ গ্রাহকদের সম্পৃক্ত করতে সম্প্রতি একটি বিশেষ মূল্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ সরকারি প্রণোদনা হিসেবে এই উৎপাদন ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম হিসাব করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা স্থির করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ সুবিধার আওতায় নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুসরণ করে যেসব সাধারণ বা বাণিজ্যিক গ্রাহক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ তারিখের মধ্যে ছাদভিত্তিক ব্যবস্থা স্থাপন করবেন, তারা নিজস্ব প্রয়োজন মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে টানা ৩ বছর, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত ইউনিট প্রতি নির্ধারিত এই ১০ টাকা ৫০ পয়সা হার সুবিধা পাবেন।

সরকারপ্রধান জানান, সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগকে সুনির্দিষ্ট আইনি ও নীতিগত কাঠামোয় আনতে সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা কার্যকর করেছে। সরকারি মালিকানাধীন ভূমিতে পিপিপি পদ্ধতিতে প্রকল্প তৈরির নির্দেশিকা ২০২৬, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিশেষ নীতিমালা ২০২৫, সার্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫ এবং হালনাগাদ নেট মিটারিং গাইডলাইন ২০২৫ এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, পাশাপাশি টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গ্রহণ করা হয়েছে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ২০২৫, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমন্বিত সমন্বিত ব্যবসায়িক মডেল, অনশোর উইন্ড গাইডলাইন এবং কার্বন ক্রেডিট প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত পথনির্দেশিকা, যা দেশের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ নিরাপত্তায় মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) সুলতানা আহমেদ জানতে চান, শিল্প ও রপ্তানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন ধরে রাখতে ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডের পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত করা কিংবা জরুরি ভিত্তিতে ভাসমান প্রযুক্তির মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের কোনো ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ কর্মসূচি বা পরিকল্পনা রয়েছে কিনা।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোলার যে গ্যাসটি আছে, এই গ্যাসটিকে যদি আমরা পাইপলাইনের মাধ্যমে মেইন ল্যান্ডে নিয়ে আসতে চাই, তাহলে সেই পরিকল্পনা যদি আমরা গ্রহণ করি, অন্তত সাত বছরের মতো সময় লাগবে।’

তিনি বলেন, সরকার ভোলায় শিল্পকারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায়। এরই মধ্যে কিছু শিল্প উদ্যোক্তা সেখানে গ্যাসনির্ভর শিল্প স্থাপনের চেষ্টা করছেন। এর ফলে সেখানে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির আকারও বৃদ্ধি পাবে।

ভোলার গ্যাস দেশের মানুষের স্বার্থে সঠিকভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ৫০০ মেগাওয়াটের আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

এরপর মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা সম্পূরক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তার পরিকল্পনা ও বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া এবং অন্যায়-অবিচার ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের করণীয় জানতে চান।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য, আপনার প্রশ্নটি আমার কাছে খুব পরিষ্কার নয়। আপনি যদি আমাকে একটু নোটিশ দেন, আমি প্রপারলি প্রিপেয়ারড হয়ে আপনার এই প্রশ্নের উত্তর দিব।

তিনি বলেন, দেশ ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যে পরিকল্পনা, তা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনের আগে তাদের নির্বাচনি ম্যানিফেস্টোতে তুলে ধরেছিল। সরকার গঠনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাওয়ায় আরও বেশি তথ্য পাওয়ার কারণে পরিকল্পনাগুলোকে বিস্তারিতভাবে বাস্তবায়ন ও আরও উন্নত করার সুযোগ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এত ডিটেইল পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হলে কিছুদিন সময় প্রয়োজন হয়।’ শিক্ষা, শিল্প ও চিকিৎসাসহ সব ক্ষেত্রেই পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা আমরা আগে গ্রহণ করছি, এখন আরও ডিটেইল, আরও ইমপ্রুভ করছি। এবং স্বাভাবিকভাবেই যখন আমরা কাজগুলো শুরু করবো তখন নিশ্চয়ই সমগ্র দেশের মানুষ, সকল পর্যায়ের মানুষ ধীরে ধীরে সকল বিষয়গুলো জানতে পারবেন।’

চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন খাল ও ড্রেন পরিষ্কার, খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি সড়ক, কালভার্ট, ফুটওভার ব্রিজ ও খেলার মাঠ উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে নগরের ২৫টি খাল থেকে আবর্জনা ও মাটি উত্তোলনসহ ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সার্ভিস ড্রেন পরিষ্কার এবং ড্রেনে জমে থাকা মাটি ও আবর্জনা অপসারণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

এ ছাড়া নগরের আরও ৩২টি খাল থেকে আবর্জনা ও মাটি উত্তোলন এবং অপসারণের কার্যক্রম চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে বাস্তবায়নাধীন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতাভুক্ত ৩৬টি খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের বাইরে আরও ২১টি খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৪৮ কিলোমিটার রাস্তা, দুটি কালভার্ট ও ছয়টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দুটি খেলার মাঠের উন্নয়নকাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ছয়টি খেলার মাঠের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, যথাযথ ব্যয় প্রাক্কলন না করা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল মনিটরিং ও জবাবদিহির ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটি মাত্র কারণে হয় না; বরং প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যা তৈরি করে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতার বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুত করার উদ্যোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনসংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে সংশোধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি বাড়ানো হয়েছে।

ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

যেসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি, সেগুলোর বিলম্ব, অনিয়ম, ব্যয় বৃদ্ধি ও সংশোধনের কারণ পর্যালোচনা করে বিলম্বের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, যে সব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সে সব প্রকল্পের উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে প্রকল্পগুলো পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন কিংবা চলমান রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়/ বিভাগ কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণ না করে সমন্বিত কর্মসূচির অধীনে গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপি ব্যবহারের সম্প্রসারণের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদের কার্যক্রম চলছে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে প্রকল্প গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ক্রয় আরও প্রতিযোগিতামূলক ও জবাবদিহিমূলক করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী।

মহিলা আসন-১৭ আসনের সদস্য সুলতানা আহমেদের করা সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, ভোলা থেকে সরাসরি মূল ভূখণ্ডে গ্যাস নিতে পাইপলাইন নির্মাণ করতে অন্তত সাত বছর সময় লাগবে। তাই মূল ভূখণ্ডে গ্যাস নেওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষায় না থেকে ভোলাতেই সরাসরি শিল্প-কারখানা স্থাপন, সার কারখানা গড়ে তোলা এবং নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে বা মেইনল্যান্ডে নিয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে তা বাস্তবায়নে অন্তত সাত বছরের মতো সময় লেগে যাবে। তাই সরকার বিকল্প ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। ভোলায় যাতে বিপুল পরিমাণ শিল্প-কারখানা স্থাপন করা যায়, সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। অনেক শিল্প উদ্যোক্তা সেখানে গ্যাসভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আন্তরিক চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে এই গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পায়ন হলে একদিকে যেমন ভোলায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতির আকারও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

ভোলার গ্যাসকে দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে ও জাতীয় স্বার্থে ব্যবহারের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, সেখানে একটি বড় সার (ফার্টিলাইজার) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এর পাশাপাশি একই স্থানে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলার গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

জাতীয় সংসদে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি বিশেষ কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদি এই উন্নয়ন পরিকল্পনায় দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ভোলার আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য, স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ, সাধারণ মানুষের চাহিদা, উপকূলীয় জলবায়ু ঝুঁকি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে বিবেচনায় নিয়েই সাজানো হচ্ছে এই সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান।

ভোলার বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদকে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যবহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা জানানো হয় সংসদে। ভোলা জেলায় একটি নতুন ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর পাশাপাশি ভোলার ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজি-তে রূপান্তর করে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে সরবরাহের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পগুলো চালু হলে ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদের কার্যকর অবদান বাড়াতে প্রণীত বিশেষ বিন্যাসে ভোলাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। নতুন কৌশলগত কাঠামোর অধীনে ভোলা জেলা এবং এর আশেপাশের দ্বীপগুলোকে ব্লু ইকোনমির সেন্ট্রাল জোনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিশেষ জোনের আওতায় জাতীয় রূপালী সম্পদ ইলিশ ও অন্যান্য মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, উপকূলীয় বিস্তৃত চরাঞ্চলের সমন্বিত কৃষি বিকাশ, জলবায়ু সহনশীল সুরক্ষিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ভোলার বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থান, গ্যাস ক্ষেত্র, উর্বর কৃষি জমি এবং বিপুল উপকূলীয় মৎস্যসম্পদের কথা বিবেচনায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে সরকার। এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী দিনে দ্বীপ জেলা ভোলার সার্বিক অর্থনীতিতে এক নতুন বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।