নিজস্ব প্রতিবেদক :
স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশে তৃণমূলের রাজনীতির সূচনা করেছেন। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সারা বাংলাদেশের হাটে-মাঠে গিয়ে তরুণ সমাজকে সংগঠিত করেছেন তিনি। যার ফলশ্রুতিতে আজকের এই বিএনপি রূপান্তরিত হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার উদ্যেগে আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’-এর আজকের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
দেশের প্রয়োজনে ছাত্রসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তবে দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে লেখাপড়া ও ক্লাস থেকে সরে যাওয়া যাবে না। একইসঙ্গে বই ও পাঠাগারকে শিক্ষার্থীদের জীবনের অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ছাত্র সমাজ সবকিছু করবে দেশের বিপদে তারা এগিয়ে আসবে। যেমন তারা এগিয়ে এসেছিল জুলাই ২০২৪-এ। তারা দেশকে নতুন দিকদর্শন দিয়েছে। অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন ও স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেছে।
ছাত্রসমাজকে উদ্দেশে তিনি বলেন, এই কাজটি আপনারা করবেন, এটা ছাত্ররাই করতে পারে। আমরা হয়তো পারব না। তবে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে নয়। ক্লাস ছেড়ে দিয়ে আমি অন্য কিছু করব, সেটা হতে পারে না। আমি সবকিছু করব, কিন্তু আমি ক্লাসের লেখাপড়া কোনোদিন ছেড়ে দেব না।
বই ও পাঠাগারের গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বইয়ের সঙ্গে পাঠাগারের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্ম মোবাইল ফোনে পড়ুক, ই-বুক পড়ুক কিংবা লাইব্রেরিতে গিয়ে পড়ুক—পড়ার চর্চা ধরে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা এই পড়ার যে চর্চা, সে পড়ার চর্চাকে যদি আমরা হারিয়ে ফেলি, লেখাপড়াতে কিন্তু ফিরে আসতে হবে। লেখাপড়া ব্যতিরেকে বিশ্বের বুকে কোনো জাতি গৌরব অর্জন করতে পারে না।
নতুন প্রযুক্তি প্রসঙ্গে মঈন খান বলেন, মোবাইল ফোনে সবকিছু খারাপ নয়। মোবাইল ফোনে অনেক ভালো জিনিসও পাওয়া যায়। নতুন প্রজন্ম ও শিশুদের সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারলে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে যারা নেতৃত্ব দেবেন, তাদের নতুন সমাজ, তরুণ সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে। পাঠাগারকে জ্ঞানের সন্ধানের স্থান উল্লেখ করে তিনি জিয়া স্মৃতি পাঠাগার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্তদের প্রতি ধন্যবাদ ও শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বই ও লাইব্রেরির গুরুত্ব মানবসমাজের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি তিনটি গুণের ধারক ও বাহক ছিলেন-শৃঙ্খলা, সততা ও জনগণের সেবা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যদি সাহস করে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন, তবে এই বাংলাদেশ স্বাধীন হতো কি না-তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। সেই জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদের ধারক-বাহক হিসেবে আমরা মানুষের সেবা করে যাব।
বইয়ের ইতিহাস সম্পর্কে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বইয়ের ইতিহাস খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ সালে। যখন সর্বপ্রথম পাথর ও কাদার উপর লেখার সৃষ্টি হয়েছে। সেটিই ছিল বইয়ের সৃষ্টির ইতিহাস। সেখান থেকে বই আসলো দ্বিতীয় পর্যায়ে। সেটি হলো খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ সালে। এরপর, মিশর, চীন ও রোম-বিশ্বের এই তিনটি স্থানে বইয়ের রূপান্তর হয়েছে। তখন বইয়ের যে রূপ ছিল সেটাকে বলা হয় স্ক্রল। তৃতীয় পর্যায়ের যে বই আমরা দেখি সেটাকে বলা হয় কোডেক্স।
তিনি বলেন, আজকের দিনের এই বইয়ের ধারণা রোম থেকে সৃষ্টি হয়েছে। বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর হয়েছে জার্মানিতে। যখন জার্মানিতে ছাপাখানার সৃষ্টি হয়েছে ১৪৪০ সালে। এটি প্রাচীন বইয়ের ইতিহাস। এরপর আসলো ই-বুক এর ধারণা।
তিনি আরও বলেন, যারা নেতৃত্ব দেবেন তাদেরকে নতুন প্রজন্মকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে হবে। নতুন প্রযুক্তির কারণে অনেক বুকশপ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বলেন, লাইব্রেরি হলো জ্ঞানের সম্ভার। সেই কারণে মঙ্গলরা যখন কোন অঞ্চল জয় করতো তারা সেখানকার সভ্যতা ধ্বংস করার জন্য লাইব্রেরি পুড়িয়ে দিত। মানব সমাজে বইয়ের গুরুত্ব এই ইতিহাস থেকে অনুধাবন করা যাবে।
ড. আবদুল মঈন খান আরও বলেন, পড়ার চর্চা হারিয়ে ফেলা যাবে না। লেখাপড়া ব্যতীত কোন জাতি গৌরব অর্জন করতে পারে না। এই সত্য প্রতিটি মানুষকে বুঝতে হবে।
আলোচনা সভায় জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের আহ্বায়ক সৈয়দা ফাতেমা সালামের সভাপতিত্বে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনিসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















