নিজস্ব প্রতিবেদক :
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে আমরা এই সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চরম অবনতি, চাঁদাবাজির দখলদার ও বিরোধী দলের ওপর দমন পীড়ন বন্ধের দাবিতে গণসমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা একটি কথা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, জাতীয় নাগরিক পার্টি দেশের পরিবর্তন ও সংস্কারের জন্য গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল এবং আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। আমরা আপনাদের বলেছিলাম, গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিন। হ্যাঁ ভোট দিলে দেশের সংস্কার হবে। পুলিশের সংস্কার হবে। বিচার ব্যবস্থার সংস্কার হবে। স্থানীয় সরকারের সংস্কার হবে। মিডিয়ার সংস্কার হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই সরকার যদি গণভোটের গণনায় বাস্তবায়ন না করে, আমরা এই সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না।
তিনি বলেন, এই সরকারকে আমরা একটি প্রতারক সরকার বলতে পারি। একটি বিশ্বাসঘাতক সরকার বলতে পারি। যারা এই দেশের জনগণের সঙ্গে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে, হাজারো শহিদের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছে।
গণসমাবেশে নির্বাচিত সরকার আসার পর থেকেই দেশে আইনশৃঙ্খলা খারাপ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, দুর্নীতি বেড়েছে। বাবা-মায়ের দোয়া কমিটি হচ্ছে। সরকারের অব্যবস্থার কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার পরও রায় বাস্তবায়ন করেনি তারা। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমরা এই সরকারকে বিশ্বাসঘাতক বলতে পারি।
এই সরকার জনগণ নয়, ব্যবসায়ী-মাফিয়াদের সরকার বলে মন্তব্য করেন নাহিদ আরও বলেন, যাদের টাকা নিয়ে নির্বাচন করেছিল, তাদের হাতে দেশ তুলে দিচ্ছে। যারা নির্বাচনে হেরেছে, তাদের প্রশাসক বানিয়েছে। সকল জায়গায় দলীয়করণ শুরু করেছে। ইউএনওদের সারা দেশে মারধর করছে। তাদের চাপ দিচ্ছে। জনগণ এই সরকারকে লাল কার্ড দেখিয়ে দেবে। আগামী দিনে আন্দোলন আসছে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, এই সরকার যদি গ্যাস সরবরাহ করতে না পারে, গ্যাসের দাম যদি কমাতে না পারে, বিদ্যুৎ যদি সরবরাহ করতে না পারে, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চাঁদাবাজির কারণে কেউ ব্যবসা করতে পারছে না। এই সব পরিস্থিতি যদি পরিবর্তন করতে না পারে, আমরা সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না। তোমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে, লুটপাট করার জন্য নয়। জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ যেন নিশ্চিত করতে পারো, সে জন্যই ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। আপনারা ক্ষমতায় বসে থাকবেন আর আপনাদের সন্তানরা লুটপাট করবে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে টেন্ডারবাজি করবে এজন্য কেউ আপনাদের ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখবে না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, নগরবাসী এখনো ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছে। যাত্রাবাড়ীতে বিদ্যুৎ থাকে না, গ্যাস থাকে না। অথচ আমরা জানি, যাত্রাবাড়ী গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম ‘হটস্পট’ ছিল। আজকে মঞ্চে আমাদের শহীদ পরিবারের সদস্যরা বসে রয়েছেন। এখানে জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধারা, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা চোখ হারিয়েছেন, তারা বসে আছেন। মাদরাসার ছাত্র ও অন্যান্য ভাইয়েরা এসেছেন। আপনারা অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আপনাদের ভূমিকার কারণেই এই অভ্যুত্থান সংঘটিত ও সফল হয়েছে। কিন্তু সেই অপরাধের বিচার আমরা এখনো পাইনি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যেটুকু কাজ হয়েছিল, বিচার ততটুকুই থেমে আছে; এরপর এই সরকার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল গ্যাস বিদ্যুৎসহ দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধিসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও বিরোধীদরের উপড় দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে এ গণসমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। এতে উপস্থিত ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরাসহ এনসিপির শীর্ষ নেতারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























