রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৫২ নেতাকর্মী কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানীর বসুন্ধরার আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৫২ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া কিশোর হওয়ায় দুজনকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

১৫ আগস্টকে সামনে রেখে একত্রিত হয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও নাশকতার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে ভাটারা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৭/৮/৯(৩)/১০/১১/১২/১৩ ধারার অভিযোগ এনে ভাটারা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

সেই মামলায় আজ তাদের আদালতে হাজির করে ৫২ জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাদের কারাগারে আটক রাখার আদেশ দেন।

সিএমএম আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- যুবলীগ নেতা মোতালিব (৩৫), যুবলীগ মহিলা লীগ নেত্রী মেহেজাবীন আক্তার মালা (২৭), মো. রুবেল (৩২), জি কে মাসুদ (২৮), অন্তর মিয়া (১৯), মো. রমজান (৪৫), মামুন (২৯), মিঠু ওরফে আমির হোসেন (৩০), আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ (১৯), মো. সুমন মিয়া (৩৩), আরিফ মিয়া (২২), মোস্তাক মিয়া (২০), সাইম হোসেন (২০), জাহিদ হাসান (১৯), শাহিন হোসেন ইমন (২০), লিমন খান (২৪), দেওয়ান ইসমাইল (২১), মো. ফাহিম মিয়া (২২), রতন (২২), রাব্বি ওরফে রাফি (১৯), রাতুল শীল (২১), মিনারুল মিয়া (২২), মাসুদ রানা ওরফে লিমু (৩৬), জিহাদ হাসান (২০), আবু সাইম ওরফে সায়েম বাবু (৪৫), ফাহিম (১৯), শাকিল মিয়া (১৯), রাজিব (১৯), সানি (১৯), রাজন মিয়া (১৯), মো. তারেক (২২), তারেক (২০), শাহিন (১৯), ফয়সাল (১৯), মামুন মিয়া (২৪), মুন্না (১৯), তামজিদ মিয়া নয়ন (১৯), মো. ইয়াছিন (১৯), জামিল (১৯), রাকিবুল হাসান রাতুল (২০), ফয়সাল (৩০), সিয়াম (২২), শরিফ (৪০), সাদিকুর রহমান পায়েল (২৩), শাহিন আলম (২১), আব্দুল আলী বাবু (৪৪), অনিক (২০), তারিকুল ইসলাম (২২), আ. রহমান (২৩), মো. ইয়ামিন মিয়া (২২), আতিক (২৮) ও আশিক (২০)।

এছাড়া একই ঘটনায় ঈশান (১৬) ও হাবিব (১৭) নামে দুই কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ১৩ আগস্ট রাত ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও নাশকতা করার পরিকল্পনাসহ নাশকতার জন্য ১৫ আগস্ট উপলক্ষ্যে একত্রিত হয়েছিল। তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী। আসামিদের তল্লাশিতে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসহ বাংলায় ১৫ আগস্ট ৫১তম জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও মিলাদ, সৌজন্যে দাউদপুর ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগ লেখা শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা যুবলীগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের কার্যক্রমকে গতিশীল ও সমর্থকদের উৎসাহিত, ১৫ আগস্ট উপলক্ষ্যে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও নাশকতার পরিকল্পনার জন্য একত্রিত হয়েছিল। উপস্থিত সবাই স্বেচ্ছায় সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত আছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে জানায়।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

স্বৈরাচারকে আর কখনও ফেরত আসতে দেওয়া হবে না : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৫২ নেতাকর্মী কারাগারে

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানীর বসুন্ধরার আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৫২ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া কিশোর হওয়ায় দুজনকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

১৫ আগস্টকে সামনে রেখে একত্রিত হয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও নাশকতার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে ভাটারা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৭/৮/৯(৩)/১০/১১/১২/১৩ ধারার অভিযোগ এনে ভাটারা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

সেই মামলায় আজ তাদের আদালতে হাজির করে ৫২ জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাদের কারাগারে আটক রাখার আদেশ দেন।

সিএমএম আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- যুবলীগ নেতা মোতালিব (৩৫), যুবলীগ মহিলা লীগ নেত্রী মেহেজাবীন আক্তার মালা (২৭), মো. রুবেল (৩২), জি কে মাসুদ (২৮), অন্তর মিয়া (১৯), মো. রমজান (৪৫), মামুন (২৯), মিঠু ওরফে আমির হোসেন (৩০), আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ (১৯), মো. সুমন মিয়া (৩৩), আরিফ মিয়া (২২), মোস্তাক মিয়া (২০), সাইম হোসেন (২০), জাহিদ হাসান (১৯), শাহিন হোসেন ইমন (২০), লিমন খান (২৪), দেওয়ান ইসমাইল (২১), মো. ফাহিম মিয়া (২২), রতন (২২), রাব্বি ওরফে রাফি (১৯), রাতুল শীল (২১), মিনারুল মিয়া (২২), মাসুদ রানা ওরফে লিমু (৩৬), জিহাদ হাসান (২০), আবু সাইম ওরফে সায়েম বাবু (৪৫), ফাহিম (১৯), শাকিল মিয়া (১৯), রাজিব (১৯), সানি (১৯), রাজন মিয়া (১৯), মো. তারেক (২২), তারেক (২০), শাহিন (১৯), ফয়সাল (১৯), মামুন মিয়া (২৪), মুন্না (১৯), তামজিদ মিয়া নয়ন (১৯), মো. ইয়াছিন (১৯), জামিল (১৯), রাকিবুল হাসান রাতুল (২০), ফয়সাল (৩০), সিয়াম (২২), শরিফ (৪০), সাদিকুর রহমান পায়েল (২৩), শাহিন আলম (২১), আব্দুল আলী বাবু (৪৪), অনিক (২০), তারিকুল ইসলাম (২২), আ. রহমান (২৩), মো. ইয়ামিন মিয়া (২২), আতিক (২৮) ও আশিক (২০)।

এছাড়া একই ঘটনায় ঈশান (১৬) ও হাবিব (১৭) নামে দুই কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ১৩ আগস্ট রাত ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও নাশকতা করার পরিকল্পনাসহ নাশকতার জন্য ১৫ আগস্ট উপলক্ষ্যে একত্রিত হয়েছিল। তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী। আসামিদের তল্লাশিতে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসহ বাংলায় ১৫ আগস্ট ৫১তম জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও মিলাদ, সৌজন্যে দাউদপুর ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগ লেখা শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা যুবলীগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের কার্যক্রমকে গতিশীল ও সমর্থকদের উৎসাহিত, ১৫ আগস্ট উপলক্ষ্যে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও নাশকতার পরিকল্পনার জন্য একত্রিত হয়েছিল। উপস্থিত সবাই স্বেচ্ছায় সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত আছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে জানায়।