নিজস্ব প্রতিবেদক :
মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো শক্তিকে দেশের জনগণ আর সুযোগ দেবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার কবর জিয়ারত ও দোয়া শেষে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করে পতিত স্বৈরাচার সরকারকে সুবিধা দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। তবে কোনোভাবেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ছোট করার সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান এদেশের বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার সন্তানসহ বন্দি সেই সময়, তিনিও একজন মহান মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের এই পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনা এমন কোনো কাজ করেননি। কারণ মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের অবদান নাই। না তার পিতার, না তার নিজের। তারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছে। এই কারণেই প্রতিহিংসা, কেন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করল।
বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কোনোদিনই বরদাস্ত করতে পারেনি বলেও মনে করেন রিজভী। তিনি বলেন, তাই একের পর এক যন্ত্রণা দিয়েছে। তার জ্যেষ্ঠপুত্র আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শারীরিকভাবে অত্যাচার করেছে। আজকে কি হয়েছে? জনগণের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। আজকে সেই তারেক রহমান শহীদ জিয়া এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মরহুমা তার জ্যেষ্ঠ পুত্র আজ প্রধানমন্ত্রী। অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমানে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল একাত্তরকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে’ বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে আমি হাসিনার কথা বললাম। কিন্তু আজকে প্রকারান্তরে একাত্তরকে ছোট করার জন্য একাত্তরকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার জন্য বর্তমানে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এবং এই একাত্তর, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যে নামটি অবিচ্ছেদ্ধভাবে অবিচ্ছিন্নভাবে জড়িত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক; তাকে মুছে ফেলার একটা খুব গভীর চক্রান্তের প্রচেষ্টা চলছে।
সেসব ‘চক্রান্তকারীদের’ উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, কাকে খুশি করতে চাচ্ছেন? নিশ্চয়ই পলাতক ফ্যাসিস্টকে খুশি করার জন্যই কি আপনারা এই কাজগুলো করছেন? এই প্রশ্ন তো আজকে জনগণের। এ প্রশ্ন আজকে মানুষের মুখে মুখে। একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন সাতচল্লিশ থেকে শুরু করে জুলাই পর্যন্ত। সেখানে শেখ মুজিবের সাতই মার্চের ভাষণ আছে, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা নেই। তাদেরই ছাত্র সংগঠনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেখানে দেখানো হচ্ছে যে, একাত্তর হালকা। দাড়িপাল্লা দিয়ে একাত্তরের পাল্লাটা উপরের দিকে চলে যায় আর জুলাইকে নিচের দিকে নিয়ে আসা হয়। এগুলো হচ্ছে ছোটলোকি, কারণ আপনাদের প্রতিটি মুহূর্তে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের ক্ষেত্রে আপনারা জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করেছেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মায়ের কোলে সন্তানের লাশ’ এর চেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা তার মনে পড়ে না। আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর সময়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বিয়োগান্তক ঘটনা।
তিনি বলেন, এই কর্মসূচি একেবারেই অরাজনৈতিকভাবে করা হয়। যদিও বিএনপির অনেক নেতা এতে যুক্ত রয়েছেন। আরাফাত রহমান কোকো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ ছেলে।
কোকোর মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, এমন এক পরিবেশে, এমন এক পরিস্থিতিতে তিনি পৃথিবী থেকে চলে গেলেন। এই যাওয়াটাও ফ্যাসিবাদের এক চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশের মুখেই। তিনি আর নিজেকে ধাতস্থ করতে পারেননি, নিজেকে আর সামলাতে পারেননি। হৃদরোগের রোগী ছিলেন, অসুস্থতা ছিল। হৃদরোগের এই পরিস্থিতিতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি পৃথিবী থেকে চলে গেলেন।
কোকোর মরদেহ দেশে আসার সময় খালেদা জিয়ার বন্দিত্বের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, বন্দিনী মা, তাকে বালির ট্রাক, কাঠের ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তার চোখে ক্ষত ছিল, চোখের অপারেশন করা হয়েছিল। ঠিক ওই মুহূর্তে গোলমরিচের স্প্রে করে তাকে আরও অসুস্থ করে বন্দি করে রাখা হয়েছে। ঠিক ওই মুহূর্তে আপন সন্তানের লাশ তার কোলে তুলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এই হৃদয়বিদারক ঘটনা, এই মর্মান্তিক ঘটনা, এই ট্র্যাজেডি, এই বিয়োগান্তক ঘটনার কথা আমার মনে হয় কোনো মহাকাব্যে লেখা আছে কি না। পৃথিবীর কোনো বিয়োগান্তক ঘটনার সঙ্গে এটার মিল আছে বলে আমার মনে নেই। সব বিয়োগান্তক ঘটনা, ট্র্যাজেডিকে অতিক্রম করে গেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা, মায়ের কোলে সন্তানের লাশ। এটি ছিল প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, একটি পরিবারকে নানাভাবে পর্যদস্তু করার জন্য, জনগণের মধ্যে সেই পরিবারের যে উপস্থিতি এবং যে জনপ্রিয়তা, সেটিকে মুছে দেওয়ার জন্য এমন কোনো কৌশল নেই যেটা করেননি সাবেক পলাতক স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা। কলঙ্ক লেপন করেছেন, অপপ্রচার করেছেন, মিথ্যাচার করেছেন, যার একটিও তিনি প্রমাণ করতে পারেননি।
রিজভী বলেন, কেন করেছেন? তার একচ্ছত্র আধিপত্য এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার বাসনাকে চরিতার্থ করার জন্য তিনি এই কাজগুলো করেছেন।
আরাফাত রহমান কোকোর ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে ভূমিকার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, এই যে আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন ক্রীড়া সংগঠক। ক্রীড়ার জন্য তিনি যে কাজগুলো করেছেন, সেটা হচ্ছে যারা ক্রীড়াবিদ হবে, এটাই তার পেশা হবে, এটা দিয়েই তার জীবন-জীবিকা হবে-এই ধরনের ব্যবস্থা রাষ্ট্র করবে, সরকার করবে।
রিজভী বলেন, আজকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এখানে আছেন। আজকে আমি মনে করি যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার একজন একান্ত সহকর্মী হিসেবে, সতীর্থ হিসেবে অত্যন্ত যোগ্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এখানে তার যে কাজগুলো, সেই কাজগুলো সুসম্পন্ন করবেন। সময়ের মধ্যেই করতে পারবেন। এটা সুসম্পন্ন হলেই আরাফাত রহমান কোকোর আত্মা শান্তি পাবে।
এরপর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকার সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, আজকে আমি হাসিনার কথা বললাম। কিন্তু আজকে প্রকারান্তরে ৭১-কে ছোট করার জন্য, ৭১-এর ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার জন্য বর্তমানে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
রিজভী বলেন, এই ৭১, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যে নামটি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষক তাকে মুছে ফেলার একটা খুব গভীর চক্রান্তের প্রচেষ্টা চলছে। আমি বলি, কাকে খুশি করতে চাচ্ছেন? পলাতক ফ্যাসিস্টকে খুশি করার জন্যই কি আপনারা এই কাজগুলো করছেন? এই প্রশ্ন তো আজ ঘুরে। এই প্রশ্ন আজ মানুষের মুখে মুখে।
একটি চিত্র প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন ৭১, ৪৭ থেকে শুরু করে জুলাই পর্যন্ত। সেখানে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ আছে, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা… অনেক ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তো দেখেছি সেই উপস্থিতি, মানে তাদের সেই প্রদর্শনীর যে ধরন আমরা দেখেছি, তাদেরই ছাত্র সংগঠনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেখানে দেখানো হচ্ছে যে-হালকা দাঁড়িপাল্লা দিয়ে ৭১ হালকা, পাল্লাটা উপরের দিকে চলে যায় আর জুলাইকে নিচের দিকে নিয়ে আসা এগুলো করে। এগুলো হচ্ছে ছোট লোক।
রিজভীর অভিযোগ, ‘আপনাদের প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনারা জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করেছেন, জনগণের বিরুদ্ধে ছিলেন। ৭১-এ ছিলেন, ৯০-এ ছিলেন, ৮৬-তে ছিলেন সব সময় আপনারা সেই ভূমিকা রেখেছেন। এখন জুলাইকে আপনারা ক্যাপিটাল করতে চাচ্ছেন, পুঁজি করতে চাচ্ছেন।
জুলাই আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কি ভূমিকা ছিল আপনাদের? আমরা তো প্রকাশ্যভাবে তারেক রহমানের নির্দেশে বারবার ছাত্রনেতাদের কমপ্লিট শাটডাউন, বাংলা ব্লকেড-প্রত্যেকটি কর্মসূচিকে সমর্থন করা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। তারেক রহমান তখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি লন্ডন থেকে বারবার ছাত্র-জনতার সেই আন্দোলনে সমর্থন দিচ্ছেন এবং সবাইকে সেই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে বলেছেন। তো এটা তো ইতিহাস। এটা তো ডকুমেন্টেড।
রিজভী বলেন, আমরা ৭১-কেও যেমন সুমহান, মহিমান্বিত আমাদের ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, ৯০ আমাদের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, জুলাইও আমাদের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির সব মিলিয়ে ছাত্রনেতা, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, শ্রমিক, বিএনপির নেতাসহ ৪০০ মানুষ মারা গেছে এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে।’
তিনি বলেন, এটা আপনারা যদি মুছে ফেলার চেষ্টা করেন, মানুষের হৃদয়ের মধ্যে যে ইতিহাস লেখা আছে, মানুষের মনের মধ্যে যে ইতিহাস লেখা আছে, সেই ইতিহাসকে আপনারা বুঝতে পারবেন না।
রিজভী বলেন, আমরা সশ্রদ্ধ চিত্তে সম্মান করি ৭১-এর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। আমরা সম্মান করি সব গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক আপসহীন সেনাপতি হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৮০-এর দশকের যে সংগ্রাম, সেই সংগ্রামে যারা মারা গেছে-সেলিম, দেলোয়ার, তাজুল, দীপালী সাহাসহ তাদের।’
জুলাইয়ের শহীদদেরও সম্মান জানানোর কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আমরা সম্মান করি জুলাইয়ের মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরাম, আবু সাঈদসহ আহনাফসহ যারা আত্মদান করেছে, প্রত্যেকটিই মহিমান্বিত। আমরা কাউকে ছোট করি না, কোনোটাকে বড় করি না।
তিনি আরও বলেন, এইসব অর্জনের পেছনে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীর, বিএনপির অঙ্গসংগঠনের রক্ত আছে। রক্ত ঝরিয়েছে। রক্তস্রাত পিচ্ছিল পথেই আপনার সেই বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।
১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ‘আজকে আমি অনেক গুম-খুনের সেই ১৭ বছরের সংগ্রাম, সেই ১৭ বছরের সংগ্রামের একটি চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ জুলাই।
আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনা করে রিজভী বলেন, আমরা এই কবর, আরাফাত রহমান কোকোর কবরে ফাতেহা পাঠ করেছি, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেছি। আমি আল্লাহর কাছে তাঁর মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসিব করেন।
এ সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য রেজাউর করিম ফাহিম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ইসরাফিল খসরু, বিএনপি নেতা কামাল জামাল মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























