চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের একটি মসজিদের ভেতর থেকে মো. আমির হোসেন (৪৩) নামে ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার রাজা মিয়া সওদাগর জামে মসজিদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মো. আমির হোসেন ১৩ বছর ধরে ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। মসজিদের দোতলার একটি কক্ষে থাকতেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে আসরের নামাজে ইমামতি করেছেন মো. আমির হোসেন। তবে মাগরিবের নামাজের সময় মুসল্লিরা গিয়ে দেখেন ইমাম নেই, মসজিদে তালা লাগানো। পরে রাতে এশার নামাজের সময়ও মসজিদ তালাবদ্ধ দেখেন মুসল্লিরা। এতে সন্দেহবশত মসজিদের দোতলার জানালা দিয়ে ভেতরে উঁকি দেন। পরে তারা দেখতে পান, মসজিদের দোতলায় সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে ইমামের লাশ ঝুলছে। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মোতোয়াল্লি মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ বলেন, আসরের সময় মুসল্লিদের নিয়ে মসজিদে নামাজ পড়েন ইমাম আমির হোসেন। কিন্তু মাগরিব ও এশার নামাজের সময় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। বাইরে কাজের কারণে তিনি আসতে পারেননি বলে আমরা ধারণা করেছিলাম। দীর্ঘ সময় পরও না আসায় স্থানীয়রা তাকে খুঁজেছেন। পরে মসজিদের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে তাকে ঝুলতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তার কক্ষে নিজের হাতে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া যায়। চিরকুটে তিনি পারিবারিক কলহের কথা লিখেছেন।
মোতোয়াল্লি মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ বলেন, ইমাম আমির হোসেন মৃত্যুর আগে তার ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লিখেন, ‘যার জীবনে দুঃখ ছাড়া কিছু নাই, তাকে দেখায় কষ্টের ভয়’।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া চিরকুটটি তার লেখা কি না, যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি 























