মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা যারা বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছি, প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা সেই দায়িত্ব পালনে কাজ করে যাচ্ছি। ব্যক্তি বা কোনো গোষ্ঠীর জন্য নয়, সামগ্রিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করছি।
শনিবার (২০ জুন) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বাংলাদেশকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, যেখানে বিশ্বের মানুষ বলবে, এই দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় আমরা সেই অগ্রগতির ধারা দেখেছিলাম।
তিনি বলেন, তারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরেছিলেন, সেদিনই তিনি বলেছিলেন তার একটা পরিকল্পনা আছে। তিনি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে সেই কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন। এটা সবাই পারেন না, এটা সেই নেতারাই পারেন যারা স্বপ্ন দেখেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমান স্বপ্ন দেখেন একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে। যেটা তার পিতা চেয়েছিলেন, যেটা তার মা চেয়েছিলেন। আমরা যারা তার সঙ্গে কাজ করছি, তারা দেখছি তিনি একজন কাজপাগল মানুষ। তিনি দিনরাত কাজ করেন। এই মানুষটি আজকে সমগ্র দেশে প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য হাত দিয়েছেন এবং তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, মুন্সীগঞ্জ অত্যন্ত প্রাচীন একটি জনপদ। এখানে অতীশ দীপঙ্কর, জগদীশচন্দ্র বসুর মতো মানুষের জন্ম হয়েছে। জগদীশচন্দ্র বসু একজন নোবেল পাওয়ার যোগ্য মানুষ ছিলেন। আমাদের অনেকেই হয়তো জানে না জগদীশচন্দ্রের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ। এমন অনেকেই আছে যাদেরকে নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। এসব মানুষকে আপনাদের সন্তানদের সামনে তুলে ধরবেন তাদের মধ্যে আকাঙ্ক্ষা জাগবে তারা সেইভাবে মানুষ হয়ে উঠবে।
সারা দেশের শিশুদের জন্য উদ্যোগ নেওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তারেক রহমনা দেশের সকল শিশুর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছেন। বাচ্চারা শুধু এখন বইয়ের বোঝা নিয়ে থাকবে না। তাদের মধ্যে যে মেধা আছে তা, বিকাশ ঘটানো হবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলা, সংগীতসহ বিভিন্নভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে খাল খনন শুরু করেছেন। আমাদের যে সমস্ত খালগুলো মরে গিয়েছিল, সে খালগুলো উদ্ধার শুরু করেছেন। নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করেছেন। কৃষকরা যেন কৃষি উপকরণ, সার, বীজ এগুলো ন্যায্যমূল্যে পান সে জন্য কৃষক কার্ড করেছেন। তিনি আরও একটা কাজে হাত দিয়েছেন, যা কেউ কোনদিন চিন্তা করিনি। ইমাম ও পুরোহিত সাহেবদের ভাতা দেওয়া শুরু করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, আমরা আজকে এই নেতার নেতৃত্বে আশাবাদী। তিনি তার পিতার মতই চিন্তা করেন। বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমাদের যাদের বিভিন্ন দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা কাজ করছি। কাজ করার চেষ্টা করছি। কোনো ব্যক্তির জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠীর জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে কল্যাণের জন্য কাজ করছি। বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে আমরা এমন একটি জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, যে জায়গা থেকে বাংলাদেশকে দেখে অন্তত বিশ্বের মানুষ বলবে- এই দেশটা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। যেটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়, খালেদা জিয়ার সময় দেখেছিলাম।
মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন সমস্যা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে মুন্সীগঞ্জে আমরা অনেকগুলো সমস্যা দেখেছি। আমরা চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা তাকে দেখেয়েছি, আপনাদের যে অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, রাস্তা ব্রিজ-কালভার্ট আমরা এমন একটি প্রকল্প তৈরি করতে পারি যার মধ্য দিয়ে আমরা মুন্সীগঞ্জের সমস্যার সমাধান করবো। আমি আশা করবো আপনাদের সকলের সহযোগিতা নিয়ে এ কাজগুলো করতে সক্ষম হবো।
জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার, ফাহিমা নাসরিন, মাহমুদা হাবিবা, মমতাজ আলো, সানজিদা ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম ইরাদত মানু।
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 




















