পিরোজপুরে কচা নদীতে ডুবন্ত জাহাজ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি : 

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় কচা নদীতে ডুবন্ত জাহাজের ভেতর থেকে মো. আব্দুল্লাহ পশারী (২২) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

রোববার (১৪ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরসংলগ্ন কচা নদীতে ডুবে থাকা এমভি গ্রীন এসট্রল-১ নামের একটি জাহাজের ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ পাড়েরহাট ইউনিয়নের উমেদপুর গ্রামের আলাল পশারীর ছেলে।

থানা ও ফায়ারসার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আকিজ গ্রুপের এমভি গ্রিন এসট্রল-১ নামের একটি কার্গো উমেদপুর এলাকার পাড়েরহাট মৎস্যবন্দর সংলগ্ন কচা নদীর চরে এসে দুর্ঘটনার স্বীকার হয়। এ সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কার্গোচালক, হেলপার ও কর্তৃপক্ষ নিরাপদে চলে যান। একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহত আব্দুল্লাহ বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরদিন পরিবারের লোকজন তাকে নানা জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে। এরপর জাহাজের পাশে ছোট ডিঙ্গি নৌকায় নিহতের পায়ের একটি জুতা এবং কার্গো সিঁড়ির ওপর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দেখতে পেয়ে আব্দুল্লার বড় ভাই রানা পশারী ১৩ জুন জিয়ানগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

নিহতের বড় ভাই রানা পশারী বলেন, তিন দিন ধরে আমার ভাই নিখোঁজ ছিল। থানায় জিডিও করেছিলাম। সে ওই জাহাজের কাছে কেন এবং কীভাবে গিয়েছিল তা আমরা জানি না। এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বোঝা যাবে।

জিয়ানগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, আকিজ গ্রুপের একটি পণ্যবাহী কার্গো পাড়েরহাটে ১২ জুন দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে নদীর চরে ডুবে যায়। পরদিন ১৩ জুন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হলে আমাদেরকে ডুবুরি দলের জন্য চিঠি দেয়। পরে বরিশালে ডুবুরি দলকে খবর দিলে তারা গতকাল বিকেলে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আমরা কার্গোটির ইঞ্জিন থেকে লাশটি উদ্ধার করতে সক্ষম হই। ধারণা করছি চুরির উদ্দেশ্যে ওই যুবকসহ একাধিক লোক একটি নৌকা করে আসছিল। সেই নৌকায় নিহতের একটি জুতাও পাওয়া গেছে।

জিয়ানগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহাব্বত খান বলেন, নিহত আব্দুল্লার ভাই রানার সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে আব্দুল্লাহকে উদ্ধারের জন্য আমরা ফায়ার সার্ভিসকে চিঠি পাঠাই। ফায়ার সার্ভিস এবং আমাদের যৌথ অভিযানে আজ বিকেলে আব্দুল্লাহর মরদেহ অর্ধগলিত অবস্থায় জাহাজের ভেতর থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্যে মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বিশাল জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত করতে পারেন শিক্ষকেরাই : শিক্ষামন্ত্রী

পিরোজপুরে কচা নদীতে ডুবন্ত জাহাজ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশের সময় : ০২:১৭:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি : 

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় কচা নদীতে ডুবন্ত জাহাজের ভেতর থেকে মো. আব্দুল্লাহ পশারী (২২) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

রোববার (১৪ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরসংলগ্ন কচা নদীতে ডুবে থাকা এমভি গ্রীন এসট্রল-১ নামের একটি জাহাজের ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ পাড়েরহাট ইউনিয়নের উমেদপুর গ্রামের আলাল পশারীর ছেলে।

থানা ও ফায়ারসার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আকিজ গ্রুপের এমভি গ্রিন এসট্রল-১ নামের একটি কার্গো উমেদপুর এলাকার পাড়েরহাট মৎস্যবন্দর সংলগ্ন কচা নদীর চরে এসে দুর্ঘটনার স্বীকার হয়। এ সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কার্গোচালক, হেলপার ও কর্তৃপক্ষ নিরাপদে চলে যান। একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহত আব্দুল্লাহ বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরদিন পরিবারের লোকজন তাকে নানা জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে। এরপর জাহাজের পাশে ছোট ডিঙ্গি নৌকায় নিহতের পায়ের একটি জুতা এবং কার্গো সিঁড়ির ওপর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দেখতে পেয়ে আব্দুল্লার বড় ভাই রানা পশারী ১৩ জুন জিয়ানগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

নিহতের বড় ভাই রানা পশারী বলেন, তিন দিন ধরে আমার ভাই নিখোঁজ ছিল। থানায় জিডিও করেছিলাম। সে ওই জাহাজের কাছে কেন এবং কীভাবে গিয়েছিল তা আমরা জানি না। এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বোঝা যাবে।

জিয়ানগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, আকিজ গ্রুপের একটি পণ্যবাহী কার্গো পাড়েরহাটে ১২ জুন দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে নদীর চরে ডুবে যায়। পরদিন ১৩ জুন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হলে আমাদেরকে ডুবুরি দলের জন্য চিঠি দেয়। পরে বরিশালে ডুবুরি দলকে খবর দিলে তারা গতকাল বিকেলে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আমরা কার্গোটির ইঞ্জিন থেকে লাশটি উদ্ধার করতে সক্ষম হই। ধারণা করছি চুরির উদ্দেশ্যে ওই যুবকসহ একাধিক লোক একটি নৌকা করে আসছিল। সেই নৌকায় নিহতের একটি জুতাও পাওয়া গেছে।

জিয়ানগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহাব্বত খান বলেন, নিহত আব্দুল্লার ভাই রানার সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে আব্দুল্লাহকে উদ্ধারের জন্য আমরা ফায়ার সার্ভিসকে চিঠি পাঠাই। ফায়ার সার্ভিস এবং আমাদের যৌথ অভিযানে আজ বিকেলে আব্দুল্লাহর মরদেহ অর্ধগলিত অবস্থায় জাহাজের ভেতর থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্যে মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।