এ সরকারের অধীনে পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবসা চলবে না : অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবসা চলবে না। যত বড় মন্ত্রী হোক, যত বড়ই পাওয়ারফুল লোক হোক—এ সরকারের আমলে পৃষ্ঠপোষকতার কোনো সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) চট্টগ্রামে কাস্টমস ও বন্দরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের অধীনে কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষণমূলক বা স্বজনপ্রীতিভিত্তিক ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। এখানে কে কার সঙ্গে পরিচিত, এই সরকারের অধীনে এগুলো চলবে না। সে যে পদেরই মন্ত্রী হোক বা যত প্রভাবশালী লোকই হোক না কেন, কোনো পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ নেই।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে প্রথমে স্থিতিশীলতা এবং পরবর্তীতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, জনগণের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, আমাদের রপ্তানি ও শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসার জন্য একটি নিরাপদ ও সুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো বাধা ছাড়া তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা সহজ করার জন্য অর্থাৎ ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ নিশ্চিত করতে বিগত দিনে যেসব সমস্যা ও নানা ধরনের রেগুলেশনের মাধ্যমে বাধা তৈরি করা হয়েছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বাজেটেই ডিরেগুলেশনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ডিরেগুলেশনকে বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার জন্য অনেকগুলো উদ্যোগের একটি হচ্ছে চট্টগ্রামের আজকের এই যৌথ সভা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাওয়া এবং অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছে। এরমধ্যে একটি পদক্ষেপ হচ্ছে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা।

তিনি বলেন, অর্থনীতি চাঙ্গা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, রপ্তানি ও শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসার জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের লক্ষ্য। যেন ব্যবসায়ীরা কোনো বাধা ছাড়াই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, বিগত দিনে ব্যবসা কার্যক্রমকে বিভিন্ন দিক থেকে বাধাগ্রস্ত করা হতো। বিভিন্ন রেগুলেশনের মাধ্যমে ব্যবসাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে ডিরেগুলেশন কার্যকর করার জন্য ঘোষিত বাজেটে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ডিরেগুলেশনকে আরও কার্যকর ও বাস্তবায়নের জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপের মধ্যে একটি আজকে এ সভা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা বন্দর ও কাস্টমস সেবা আরও সহজ করতে চাই। কোনো বাধা ছাড়াই যেন চলতে পারে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের খরচ কমবে। সাধারণ দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে বন্দরের অতিরিক্ত খরচ। এছাড়া কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টিও বারবার উঠে এসেছে।

খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা একসাথে বসেছি। প্রায় অনেক সমাধান হয়ে গেছে। এগুলো কার্যকর হয়ে যাবে। পোর্ট কাস্টম মিলে আগামী দিনে আমি মনে করে নতুন ধারা সৃষ্টি হবে। যার মাধ্যমে ব্যবসায়ী, সরকার, দেশের জনগণ লাভবান হবে। আগামী ২০৩৪ সালে আমরা যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কথা বলছি সেটির পথ সুগম হবে। কাস্টম এবং পোর্টের মধ্যে জয়েন্ট কমিটি হতে যাচ্ছে। উনারা যেকোনো সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মূলত বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল অর্থনীতিতে নিয়ে যাওয়া, পরবর্তীতে অর্থনীতি যাতে টেকঅফ করতে পারে সেই জায়গায় যাওয়ার জন্য অনেক পদক্ষেপের মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙা করা। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙা করে জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, আমাদের রপ্তানি বাড়ানো, আমাদের শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসার জন্য একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো বাধাগ্রস্ত না হয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। এ জন্য আমরা ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বা ব্যবসাকে সহজ করার জন্য, বিগত দিনে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা, বিভিন্ন রেগুলেশনের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করা এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ইতিমধ্যে আমাদের বাজেটে ডিরেগুলেশনের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ডিরেগুলেশন আরও কার্যকর করার জন্য, এটা বাস্তবায়ন করার জন্য অনেক পদক্ষেপের মধ্যে একটি হচ্ছে আজকের সভা।

তিনি বলেন, এ সভাতে যেটি আমরা করেছি, কাস্টমসের ব্যাপারে, পোর্টের ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম যাতে নিবিড়ভাবে, বাধা ছাড়া চলতে পারে, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের খরচ কমবে, সাধারণ মানুষের যে দ্রব্যমূল্য উচ্চ এর অনেকটা কারণ পোর্টে অতিরিক্ত খরচ হয়, কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি বার বার উঠে এসেছে, আজ এনবিআরের চেয়ারম্যান সাহেব এসেছেন, বন্দরের চেয়ারম্যান সাহেব আছেন। আমরা জয়েন্টলি সবাইকে নিয়ে বসে কোথায় কোথায় সমস্যাগুলো আছে, প্রত্যেকটি সমস্যা চিহ্নিত করেছি, প্রত্যেকটি সমস্যার সমাধান কী হওয়া দরকার সিদ্ধান্তও নিয়েছি এবং সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করেছি। কত সময়ের মধ্যে কোন কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে সেটারও সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে করে আগামী দিনে পোর্ট কাস্টম একসাথে কাজ করতে পারে। উনাদের একসাথে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা অনেক দিন আগে ছিল। আমরা প্রথমবারের মতো জয়েন্ট পোর্ট কাস্টম যাতে কাজ করতে পারে, পোর্টের সমস্যা আছে, কাস্টমসের সমস্যা আছে, উনারা একসাথে বসে সমাধান করতে পারে। এ সিদ্ধান্ত দুই পক্ষ মিলে নেওয়া হয়েছে। এগুলো খুব সহসা কার্যকর হবে আমি বিশ্বাস করি। যার ফলে চট্টগ্রাম পোর্ট ও কাস্টমসের কার্যক্রম অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে, অনেক বেশি কার্যকর হবে। কম সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস ও রপ্তানি কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে। এর ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ওপর বিদেশিদের যারা বিনিয়োগকারী আছে, যারা বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে তাদের আস্থা যাতে বাড়ে। সাথে সাথে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের খরচ কমতে থাকবে, দক্ষতা বাড়তে থাকবে। এর মাধ্যমে আমরা যে কর্মসংস্থানের কথা বলছি তা বাড়তে থাকবে। দেশের অর্থনীতি ভালো হতে থাকবে। মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। সাপ্লাইচেন যখন বাধাগ্রস্ত হয়, তখন খরচ বেড়ে যায়, সেটি আলটিমেটলি দেশের জনগণকে দিতে হয়। পোর্টে খরচ বাড়লে সেটি জনগণকে দিতে হয়, কাস্টমসের কারণে খরচ বাড়লে জনগণকে দিতে হয়। এ খরচগুলো যাতে আগামী দিনে জনগণের ওপর না চাপাতে হয়, ব্যবসায়ীদের ওপর না চাপাতে হয়। এমনকি আমাদের বিশ্বের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে। প্রতিযোগিতায় না থাকলে আগামী দিনের বিশ্বের প্রতিযোগিতায় আমরা টিকে থাকতে পারব না। এ জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল আজকের বিষয়টি।

এনসিটি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারাই পোর্ট চালাক, তাদেরকে এগুলো মেনে জনগণের স্বার্থে, ব্যবসার স্বার্থে, ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে, বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বার্থে একই পথে চালিত হতে হবে। পোর্ট কে চালাবে না চালাবে এটি আমাদের বিষয় নয়। যখন যার হাতে পোর্ট থাকবে সেটি দেশি হোক বা বিদেশি হোক তাদের এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।

বন্ধ কারখানা চালু প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে অর্থনীতিকে সরলীকরণ করা হয়েছে, ডিরেগুলেশন করা হয়েছে, কর কমানো হয়েছে যাতে শিল্পগুলো উঠে আসতে পারে। অনেক উদ্যোগ এ সরকার নিয়েছে। অনেক বড় আকারে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কে কার সাথে পরিচিত, এ সরকারের অধীনে এগুলো চলবে না। এসব পৃষ্ঠপোষকতার কোনো ব্যবসা আমরা করতে দেব না, সুযোগ নেই। যে যত বড় মন্ত্রী হোক, পাওয়ারফুল লোক হোক সুযোগ নেই।

এডিবির বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম শুধু লজিস্টিকস হাব হবে না আগামী দিনে উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে তারা দেখতে চায়। কারণ এখানে পোর্ট আছে, লজিস্টিকস হাব হবে, অন্যান্য উন্নয়নগুলো গড়ে উঠবে। এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিলিপাইন থেকে এসেছেন। স্টেক হোল্ডারদের ডাকা হয়েছে, সবার কথা শুনবেন। এ অঞ্চলে এডিবির বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভূমিকা ও চট্টগ্রামকে ঘিরে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজে ফিলিপাইন থেকে চট্টগ্রামে এসে অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন, এর মানে চট্টগ্রাম নিয়ে তাদের বিশাল পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রামকে তারা কেবল একটি লজিস্টিকস হাব হিসেবে নয়, বরং আগামী দিনে পুরো বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে দেখতে চান।’

তিনি আরও বলেন, বন্দরকে কেন্দ্র করে লজিস্টিকস হাব গড়ে ওঠার পাশাপাশি অন্যান্য আঞ্চলিক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই লক্ষ্যেই এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে বিকেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় অংশীজনদের কথা শুনে তাদের বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে। চট্টগ্রামের আগামী দিনের উন্নয়নের জন্য এটি এক বিশাল সুখবর বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

তারেক রহমানকে ব্রিকস ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আমন্ত্রণ ভারতের

এ সরকারের অধীনে পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবসা চলবে না : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৭:১২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবসা চলবে না। যত বড় মন্ত্রী হোক, যত বড়ই পাওয়ারফুল লোক হোক—এ সরকারের আমলে পৃষ্ঠপোষকতার কোনো সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) চট্টগ্রামে কাস্টমস ও বন্দরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের অধীনে কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষণমূলক বা স্বজনপ্রীতিভিত্তিক ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। এখানে কে কার সঙ্গে পরিচিত, এই সরকারের অধীনে এগুলো চলবে না। সে যে পদেরই মন্ত্রী হোক বা যত প্রভাবশালী লোকই হোক না কেন, কোনো পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ নেই।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে প্রথমে স্থিতিশীলতা এবং পরবর্তীতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, জনগণের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, আমাদের রপ্তানি ও শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসার জন্য একটি নিরাপদ ও সুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো বাধা ছাড়া তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা সহজ করার জন্য অর্থাৎ ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ নিশ্চিত করতে বিগত দিনে যেসব সমস্যা ও নানা ধরনের রেগুলেশনের মাধ্যমে বাধা তৈরি করা হয়েছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বাজেটেই ডিরেগুলেশনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ডিরেগুলেশনকে বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার জন্য অনেকগুলো উদ্যোগের একটি হচ্ছে চট্টগ্রামের আজকের এই যৌথ সভা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাওয়া এবং অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছে। এরমধ্যে একটি পদক্ষেপ হচ্ছে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা।

তিনি বলেন, অর্থনীতি চাঙ্গা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, রপ্তানি ও শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসার জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের লক্ষ্য। যেন ব্যবসায়ীরা কোনো বাধা ছাড়াই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, বিগত দিনে ব্যবসা কার্যক্রমকে বিভিন্ন দিক থেকে বাধাগ্রস্ত করা হতো। বিভিন্ন রেগুলেশনের মাধ্যমে ব্যবসাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে ডিরেগুলেশন কার্যকর করার জন্য ঘোষিত বাজেটে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ডিরেগুলেশনকে আরও কার্যকর ও বাস্তবায়নের জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপের মধ্যে একটি আজকে এ সভা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা বন্দর ও কাস্টমস সেবা আরও সহজ করতে চাই। কোনো বাধা ছাড়াই যেন চলতে পারে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের খরচ কমবে। সাধারণ দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে বন্দরের অতিরিক্ত খরচ। এছাড়া কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টিও বারবার উঠে এসেছে।

খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা একসাথে বসেছি। প্রায় অনেক সমাধান হয়ে গেছে। এগুলো কার্যকর হয়ে যাবে। পোর্ট কাস্টম মিলে আগামী দিনে আমি মনে করে নতুন ধারা সৃষ্টি হবে। যার মাধ্যমে ব্যবসায়ী, সরকার, দেশের জনগণ লাভবান হবে। আগামী ২০৩৪ সালে আমরা যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কথা বলছি সেটির পথ সুগম হবে। কাস্টম এবং পোর্টের মধ্যে জয়েন্ট কমিটি হতে যাচ্ছে। উনারা যেকোনো সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মূলত বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল অর্থনীতিতে নিয়ে যাওয়া, পরবর্তীতে অর্থনীতি যাতে টেকঅফ করতে পারে সেই জায়গায় যাওয়ার জন্য অনেক পদক্ষেপের মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙা করা। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙা করে জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, আমাদের রপ্তানি বাড়ানো, আমাদের শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসার জন্য একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো বাধাগ্রস্ত না হয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। এ জন্য আমরা ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বা ব্যবসাকে সহজ করার জন্য, বিগত দিনে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা, বিভিন্ন রেগুলেশনের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করা এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ইতিমধ্যে আমাদের বাজেটে ডিরেগুলেশনের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ডিরেগুলেশন আরও কার্যকর করার জন্য, এটা বাস্তবায়ন করার জন্য অনেক পদক্ষেপের মধ্যে একটি হচ্ছে আজকের সভা।

তিনি বলেন, এ সভাতে যেটি আমরা করেছি, কাস্টমসের ব্যাপারে, পোর্টের ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম যাতে নিবিড়ভাবে, বাধা ছাড়া চলতে পারে, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের খরচ কমবে, সাধারণ মানুষের যে দ্রব্যমূল্য উচ্চ এর অনেকটা কারণ পোর্টে অতিরিক্ত খরচ হয়, কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি বার বার উঠে এসেছে, আজ এনবিআরের চেয়ারম্যান সাহেব এসেছেন, বন্দরের চেয়ারম্যান সাহেব আছেন। আমরা জয়েন্টলি সবাইকে নিয়ে বসে কোথায় কোথায় সমস্যাগুলো আছে, প্রত্যেকটি সমস্যা চিহ্নিত করেছি, প্রত্যেকটি সমস্যার সমাধান কী হওয়া দরকার সিদ্ধান্তও নিয়েছি এবং সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করেছি। কত সময়ের মধ্যে কোন কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে সেটারও সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে করে আগামী দিনে পোর্ট কাস্টম একসাথে কাজ করতে পারে। উনাদের একসাথে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা অনেক দিন আগে ছিল। আমরা প্রথমবারের মতো জয়েন্ট পোর্ট কাস্টম যাতে কাজ করতে পারে, পোর্টের সমস্যা আছে, কাস্টমসের সমস্যা আছে, উনারা একসাথে বসে সমাধান করতে পারে। এ সিদ্ধান্ত দুই পক্ষ মিলে নেওয়া হয়েছে। এগুলো খুব সহসা কার্যকর হবে আমি বিশ্বাস করি। যার ফলে চট্টগ্রাম পোর্ট ও কাস্টমসের কার্যক্রম অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে, অনেক বেশি কার্যকর হবে। কম সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস ও রপ্তানি কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে। এর ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ওপর বিদেশিদের যারা বিনিয়োগকারী আছে, যারা বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে তাদের আস্থা যাতে বাড়ে। সাথে সাথে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের খরচ কমতে থাকবে, দক্ষতা বাড়তে থাকবে। এর মাধ্যমে আমরা যে কর্মসংস্থানের কথা বলছি তা বাড়তে থাকবে। দেশের অর্থনীতি ভালো হতে থাকবে। মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। সাপ্লাইচেন যখন বাধাগ্রস্ত হয়, তখন খরচ বেড়ে যায়, সেটি আলটিমেটলি দেশের জনগণকে দিতে হয়। পোর্টে খরচ বাড়লে সেটি জনগণকে দিতে হয়, কাস্টমসের কারণে খরচ বাড়লে জনগণকে দিতে হয়। এ খরচগুলো যাতে আগামী দিনে জনগণের ওপর না চাপাতে হয়, ব্যবসায়ীদের ওপর না চাপাতে হয়। এমনকি আমাদের বিশ্বের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে। প্রতিযোগিতায় না থাকলে আগামী দিনের বিশ্বের প্রতিযোগিতায় আমরা টিকে থাকতে পারব না। এ জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল আজকের বিষয়টি।

এনসিটি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারাই পোর্ট চালাক, তাদেরকে এগুলো মেনে জনগণের স্বার্থে, ব্যবসার স্বার্থে, ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে, বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বার্থে একই পথে চালিত হতে হবে। পোর্ট কে চালাবে না চালাবে এটি আমাদের বিষয় নয়। যখন যার হাতে পোর্ট থাকবে সেটি দেশি হোক বা বিদেশি হোক তাদের এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।

বন্ধ কারখানা চালু প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে অর্থনীতিকে সরলীকরণ করা হয়েছে, ডিরেগুলেশন করা হয়েছে, কর কমানো হয়েছে যাতে শিল্পগুলো উঠে আসতে পারে। অনেক উদ্যোগ এ সরকার নিয়েছে। অনেক বড় আকারে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কে কার সাথে পরিচিত, এ সরকারের অধীনে এগুলো চলবে না। এসব পৃষ্ঠপোষকতার কোনো ব্যবসা আমরা করতে দেব না, সুযোগ নেই। যে যত বড় মন্ত্রী হোক, পাওয়ারফুল লোক হোক সুযোগ নেই।

এডিবির বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম শুধু লজিস্টিকস হাব হবে না আগামী দিনে উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে তারা দেখতে চায়। কারণ এখানে পোর্ট আছে, লজিস্টিকস হাব হবে, অন্যান্য উন্নয়নগুলো গড়ে উঠবে। এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিলিপাইন থেকে এসেছেন। স্টেক হোল্ডারদের ডাকা হয়েছে, সবার কথা শুনবেন। এ অঞ্চলে এডিবির বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভূমিকা ও চট্টগ্রামকে ঘিরে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজে ফিলিপাইন থেকে চট্টগ্রামে এসে অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন, এর মানে চট্টগ্রাম নিয়ে তাদের বিশাল পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রামকে তারা কেবল একটি লজিস্টিকস হাব হিসেবে নয়, বরং আগামী দিনে পুরো বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে দেখতে চান।’

তিনি আরও বলেন, বন্দরকে কেন্দ্র করে লজিস্টিকস হাব গড়ে ওঠার পাশাপাশি অন্যান্য আঞ্চলিক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই লক্ষ্যেই এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে বিকেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় অংশীজনদের কথা শুনে তাদের বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে। চট্টগ্রামের আগামী দিনের উন্নয়নের জন্য এটি এক বিশাল সুখবর বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।