যমুনা সেতু সংযোগ মহাসড়কে তীব্র যানজট, যাত্রীদের দুর্ভোগ

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে অন্তত ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা।

শনিবার (৬ জুন) ভোর থেকে যমুনা সেতু গোলচত্বর থেকে কোনাবাড়ি ওভার ব্রিজ পর্যন্ত মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে কখনো স্থবির, কখনো বা ধীরগতিতে চলছে যানবাহন।

অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যমুনা সেতুর ওপর ও সেতুর সংযোগ সড়কে রাতে একাধিক গাড়ি বিকল ও দুর্ঘটনার কারণে এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপের মধ্যেই যমুনা সেতুতে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২০ থেকে ২৫টি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে। এসব যানবাহন রেকারের মাধ্যমে সরিয়ে নিতে গিয়ে বারবার ব্যাহত হয় যান চলাচল। এর মধ্যে শুক্রবার রাতে যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে এক বাসের পেছনে আরেক বাস ধাক্কা দিলে একজন নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য সেতুতে যান চলাচল বন্ধ থাকে। সব মিলিয়ে ঈদ-পরবর্তী সময়ে বাড়ি ফেরা মানুষের জন্য এটি বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতুর উপরে ৪০ হাজার ৫৮০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ১৪ লাখ ২৭ হাজার ২৫০ টাকা। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ১৫ হাজার ৪৪৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা। অপরদিকে, ঢাকাগামী ২৫ হাজার ১৩২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় ১ কোটি ৭৮ লাখ ৬৮ হাজার ৪৫০ টাকা।

পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার বিকেল থেকেই যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে যানবাহনের প্রচুর চাপ রয়েছে। ফলে সেতুর পশ্চিমপাড় থেকে ঝাঐল ওভারব্রিজ পার হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে ধীরগতিতে চলাচল করছে যানবাহনগুলো। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে যমুনা সেতুর ওপরে ৭ নম্বর পিলারের কাছে ঢাকামুখী লেনে বাসের পেছনে আরেকটি বাস ধাক্কা দেয়। এতে একজন নিহত হয়েছেন। এসময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরে সেতু কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনা কবলিত বাস রেকার দিয়ে সরিয়ে নিলেও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় আরও যানজট ও ধীরগতির সৃষ্টি হয়। এ যানজট ছড়িয়ে পড়ে যমুনা সেতুর পূর্বপাড় টাঙ্গাইলে। এতে করে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের পৌলি পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়।

গাজীপুর থেকে নাটোরগামী একটি বাসের চালক মাহবুবুর রহমান বলেন, টাঙ্গাইল এলাকা থেকেই যানজট শুরু হয়েছে। এলেঙ্গা এলাকায় এসে পুরোপুরি আটকে থাকতে হচ্ছে। গরমে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

ঢাকা থেকে নাটোরগামী প্রাইভেটকারের চালক মোহাম্মদ আলম বলেন, টাঙ্গাইল থেকে ধীরগতিতে চলার পর এলেঙ্গা এলাকায় এসে যানজটে আটকা পড়েছি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে চরম ভোগান্তির মধ্যে আছি।

এ ব্যাপারে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরিফ বলেন, শনিবার প্রায় গার্মেন্টসই খোলা হবে। এর ফলে গতকাল থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ বাড়তে থাকে। তবে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যমুনা সেতুর উপর ও সেতুর সংযোগ সড়কে রাতে একাধিক গাড়ি বিকল হওয়ায় কারণে যানজটে সৃষ্টি হয়। যমুনা সেতুর দুই পাশ দিয়ে ৯টি করে মোট ১৮ বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হয়। এর মধ্যে আলাদা করে দুইটি করে বুথ দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জুয়েল মিয়া বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ রয়েছে। দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

যমুনা সেতু সংযোগ মহাসড়কে তীব্র যানজট, যাত্রীদের দুর্ভোগ

প্রকাশের সময় : ১২:০১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে অন্তত ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা।

শনিবার (৬ জুন) ভোর থেকে যমুনা সেতু গোলচত্বর থেকে কোনাবাড়ি ওভার ব্রিজ পর্যন্ত মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে কখনো স্থবির, কখনো বা ধীরগতিতে চলছে যানবাহন।

অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যমুনা সেতুর ওপর ও সেতুর সংযোগ সড়কে রাতে একাধিক গাড়ি বিকল ও দুর্ঘটনার কারণে এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপের মধ্যেই যমুনা সেতুতে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২০ থেকে ২৫টি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে। এসব যানবাহন রেকারের মাধ্যমে সরিয়ে নিতে গিয়ে বারবার ব্যাহত হয় যান চলাচল। এর মধ্যে শুক্রবার রাতে যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে এক বাসের পেছনে আরেক বাস ধাক্কা দিলে একজন নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য সেতুতে যান চলাচল বন্ধ থাকে। সব মিলিয়ে ঈদ-পরবর্তী সময়ে বাড়ি ফেরা মানুষের জন্য এটি বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতুর উপরে ৪০ হাজার ৫৮০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ১৪ লাখ ২৭ হাজার ২৫০ টাকা। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ১৫ হাজার ৪৪৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা। অপরদিকে, ঢাকাগামী ২৫ হাজার ১৩২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় ১ কোটি ৭৮ লাখ ৬৮ হাজার ৪৫০ টাকা।

পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার বিকেল থেকেই যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে যানবাহনের প্রচুর চাপ রয়েছে। ফলে সেতুর পশ্চিমপাড় থেকে ঝাঐল ওভারব্রিজ পার হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে ধীরগতিতে চলাচল করছে যানবাহনগুলো। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে যমুনা সেতুর ওপরে ৭ নম্বর পিলারের কাছে ঢাকামুখী লেনে বাসের পেছনে আরেকটি বাস ধাক্কা দেয়। এতে একজন নিহত হয়েছেন। এসময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরে সেতু কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনা কবলিত বাস রেকার দিয়ে সরিয়ে নিলেও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় আরও যানজট ও ধীরগতির সৃষ্টি হয়। এ যানজট ছড়িয়ে পড়ে যমুনা সেতুর পূর্বপাড় টাঙ্গাইলে। এতে করে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের পৌলি পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়।

গাজীপুর থেকে নাটোরগামী একটি বাসের চালক মাহবুবুর রহমান বলেন, টাঙ্গাইল এলাকা থেকেই যানজট শুরু হয়েছে। এলেঙ্গা এলাকায় এসে পুরোপুরি আটকে থাকতে হচ্ছে। গরমে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

ঢাকা থেকে নাটোরগামী প্রাইভেটকারের চালক মোহাম্মদ আলম বলেন, টাঙ্গাইল থেকে ধীরগতিতে চলার পর এলেঙ্গা এলাকায় এসে যানজটে আটকা পড়েছি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে চরম ভোগান্তির মধ্যে আছি।

এ ব্যাপারে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরিফ বলেন, শনিবার প্রায় গার্মেন্টসই খোলা হবে। এর ফলে গতকাল থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ বাড়তে থাকে। তবে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যমুনা সেতুর উপর ও সেতুর সংযোগ সড়কে রাতে একাধিক গাড়ি বিকল হওয়ায় কারণে যানজটে সৃষ্টি হয়। যমুনা সেতুর দুই পাশ দিয়ে ৯টি করে মোট ১৮ বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হয়। এর মধ্যে আলাদা করে দুইটি করে বুথ দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জুয়েল মিয়া বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ রয়েছে। দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।