মক্কা প্যাক্টকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, মক্কা প্যাক্টকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে এনসিপি। তবে, এ বিষয়ে দলের উপকমিটি বিশেষভাবে নজর রাখছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে ঢাকায় ফিরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা মক্কা প্যাক্টে যুক্ত হওয়া নিয়ে সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত স্বাধীনতা ও ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের অবশ্যই সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার যে দরজাটা, সেটা খোলা রেখেই যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক কিংবা সামরিক চুক্তিতে যাওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এমন হতে হবে, যাতে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে গিয়ে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

দেশের বর্তমান তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, অতিরিক্ত দাম ও বিভিন্ন ভুতুড়ে বিল পরিশোধের পরও নাগরিকরা পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। এতে দেশের পরিস্থিতি ২০০৫ সালের আগের সময়ের মতো সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।

সরকারি দল বিএনপির সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সৌদি আরবের টিকিটের দাম কমে গিয়েছিল। বিএনপি আসার পর আবারও সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে টিকিটের দামও বেড়েছে।

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর প্রতিটি সেক্টরে মূল্য বৃদ্ধি ও চাঁদাবাজির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নাভিশ্বাস অবস্থা জনগণের। দ্রুতই এ থেকে পরিত্রাণে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

প্রবাসী শ্রমবাজারে অনিয়ম এবং বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সৌদি আরবের বিমান টিকিটের দাম প্রায় ৩৫০ ডলার বা প্রায় ৪০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমানে একই টিকিটের দাম সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে ৬০-৭০ হাজার টাকা, এমনকি ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন খাতে নতুন করে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের উদাহরণ তুলে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, অন্যান্য দেশের কর্মীদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় যেতে প্রায় ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে যা কোনোভাবেই একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা ন্যায্য পরিস্থিতি নয়।

প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার ব্যয় কমাতে এবং শ্রমবাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান আসিফ মাহমুদ।

এদিকে ১১ দলীয় জোট ঘোষিত লংমার্চ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক শক্তি মূলত তাদের প্রতিবাদের সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করে। লংমার্চের মাধ্যমে আমরা মূলত জনগণের কষ্টগুলো তুলে ধরতে চাই। এটি আমাদের সংস্কারের প্রতিশ্রুতির অংশই নয়, বরং বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

মক্কা প্যাক্টকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ

প্রকাশের সময় : ০১:১৩:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, মক্কা প্যাক্টকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে এনসিপি। তবে, এ বিষয়ে দলের উপকমিটি বিশেষভাবে নজর রাখছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে ঢাকায় ফিরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা মক্কা প্যাক্টে যুক্ত হওয়া নিয়ে সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত স্বাধীনতা ও ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের অবশ্যই সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার যে দরজাটা, সেটা খোলা রেখেই যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক কিংবা সামরিক চুক্তিতে যাওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এমন হতে হবে, যাতে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে গিয়ে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

দেশের বর্তমান তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, অতিরিক্ত দাম ও বিভিন্ন ভুতুড়ে বিল পরিশোধের পরও নাগরিকরা পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। এতে দেশের পরিস্থিতি ২০০৫ সালের আগের সময়ের মতো সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।

সরকারি দল বিএনপির সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সৌদি আরবের টিকিটের দাম কমে গিয়েছিল। বিএনপি আসার পর আবারও সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে টিকিটের দামও বেড়েছে।

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর প্রতিটি সেক্টরে মূল্য বৃদ্ধি ও চাঁদাবাজির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নাভিশ্বাস অবস্থা জনগণের। দ্রুতই এ থেকে পরিত্রাণে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

প্রবাসী শ্রমবাজারে অনিয়ম এবং বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সৌদি আরবের বিমান টিকিটের দাম প্রায় ৩৫০ ডলার বা প্রায় ৪০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমানে একই টিকিটের দাম সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে ৬০-৭০ হাজার টাকা, এমনকি ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন খাতে নতুন করে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের উদাহরণ তুলে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, অন্যান্য দেশের কর্মীদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় যেতে প্রায় ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে যা কোনোভাবেই একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা ন্যায্য পরিস্থিতি নয়।

প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার ব্যয় কমাতে এবং শ্রমবাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান আসিফ মাহমুদ।

এদিকে ১১ দলীয় জোট ঘোষিত লংমার্চ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক শক্তি মূলত তাদের প্রতিবাদের সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করে। লংমার্চের মাধ্যমে আমরা মূলত জনগণের কষ্টগুলো তুলে ধরতে চাই। এটি আমাদের সংস্কারের প্রতিশ্রুতির অংশই নয়, বরং বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ।