নিজস্ব প্রতিবেদক :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দেশে ফেরা হাজিদের ১৫০টি লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে সচিবালয়ের তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, অভিযোগ ওঠার পর তাৎক্ষণিক তদন্তে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ও বডি অন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কোনো ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে দাবি করা হয়, হজ থেকে ফেরা যাত্রীদের প্রায় ১৫০টি লাগেজ কেটে মালামাল চুরি করা হয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে দ্রুত অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি জানান, তদন্তে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ও গ্রাউন্ড স্টাফদের ব্যবহৃত বডি ওর্ন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ওই ফ্লাইটে আসা মোট ৮৩৬টি লাগেজের মধ্যে মাত্র ২১টি ব্যাগ আগে থেকেই কাটা বা ছেঁড়া অবস্থায় ছিল। তবে ঢাকা বিমানবন্দরে কোনো লাগেজ কাটা, চুরি বা মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘লাগেজ নামানোর মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যে প্রথম ব্যাগ বেল্টে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সব লাগেজ যাত্রীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিমান চলাচল বিধি অনুযায়ী কোনো যাত্রী বা হাজি মূল চেক-ইন লাগেজে জমজমের পানি কিংবা সঠিকভাবে সিলগালা না করা প্রসাধনী বহন করতে পারেন না। স্ক্যানিংয়ের সময় এসব বস্তু শনাক্ত হলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী লাগেজ খুলে বা কেটে জব্দ করে থাকে। একইভাবে প্রয়োজনীয় ঘোষণা ছাড়া নগদ অর্থ বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে বহন করাও আন্তর্জাতিক নিয়মে নিষিদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় লাগেজ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অভিযোগটি বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ‘বিমান থেকে লাগেজ নামানো থেকে শুরু করে বেল্ট পর্যন্ত পৌঁছানোর পুরো ভিডিওচিত্র আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাবে, চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি,’ বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের সমালোচনা ও অনুসন্ধানী ভূমিকা সরকারি সংস্থাগুলোকে আরও সতর্ক হতে সহায়তা করে। তবে সমালোচনা অবশ্যই গঠনমূলক হওয়া প্রয়োজন। বর্তমান সরকার বিভিন্ন স্তরে সেবার মান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আপনারা যাচাই করলে জানতে পারবেন, গতকালের ঘটনাটি অসত্য। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। যাত্রীদের নিরাপদ ও আনন্দদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাপানের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আগামী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে এ চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও সরকার তা আরও আগে সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বিমান পরিবহন চাহিদা বিবেচনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর (ফ্লিট) সম্প্রসারণ জরুরি। বর্তমানে ১৪টি নয়, বাংলাদেশের জন্য ৪৭টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে প্রায় ২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হবে। তবে আয় থেকে কিস্তিতে এসব উড়োজাহাজের মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নতুন বোয়িং উড়োজাহাজগুলোর প্রথমটি ২০৩১ সালে পাওয়া যাবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনার ত্রুটি দূর করতে প্রতিষ্ঠানটিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























