দাবি বেবিচকের

থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে সব ব্যয় অনুমোদিত, অনিয়মের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ‘আংশিক, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, প্রকল্পে অনুমোদন ছাড়া কোনো অর্থ ব্যয় করা হয়নি এবং সব ব্যয় সরকার অনুমোদিত প্রকল্প ব্যয়ের সীমার মধ্যেই রয়েছে।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রথম উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব ২০১৭ সালে ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকায় অনুমোদিত হয়। পরে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত সর্বনিম্ন বৈধ দর বিবেচনায় ২০১৯ সালে প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে প্রকল্প ব্যয় ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ৩ হাজার ২৬৭ কোটি টাকার অতিরিক্ত কাজ অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকায় অনুমোদন পায়। এ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২০ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা।

বেবিচক জানায়, গাছ লাগানো, পুকুর উন্নয়ন, মাটি অপসারণ, ডিজেলচালিত পাম্প, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, জ্বালানি ব্যয়, অতিরিক্ত কাজ এবং দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধসহ বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব ব্যয় ঠিকাচুক্তি, আন্তর্জাতিক প্রকৌশলী পরামর্শক সংস্থার চুক্তির শর্ত, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার ঋণচুক্তির নির্দেশিকা এবং আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনওসিডি যৌথ উদ্যোগের অনুমোদন অনুযায়ী করা হয়েছে। এ ছাড়া ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে বেবিচক জানায়, এটি বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প নিরীক্ষা অধিদপ্তরের নিরীক্ষা আপত্তি মাত্র, যা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এ বিষয়ে জবাব প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং বিরোধ নিষ্পত্তি বোর্ড ও সমঝোতা নিষ্পত্তি কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

বেবিচক আরও জানায়, থার্ড টার্মিনালের পরিচালনাগত প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে প্রকল্পসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

দাবি বেবিচকের

থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে সব ব্যয় অনুমোদিত, অনিয়মের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’

প্রকাশের সময় : ১২:৫৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ‘আংশিক, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, প্রকল্পে অনুমোদন ছাড়া কোনো অর্থ ব্যয় করা হয়নি এবং সব ব্যয় সরকার অনুমোদিত প্রকল্প ব্যয়ের সীমার মধ্যেই রয়েছে।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রথম উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব ২০১৭ সালে ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকায় অনুমোদিত হয়। পরে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত সর্বনিম্ন বৈধ দর বিবেচনায় ২০১৯ সালে প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে প্রকল্প ব্যয় ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ৩ হাজার ২৬৭ কোটি টাকার অতিরিক্ত কাজ অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকায় অনুমোদন পায়। এ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২০ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা।

বেবিচক জানায়, গাছ লাগানো, পুকুর উন্নয়ন, মাটি অপসারণ, ডিজেলচালিত পাম্প, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, জ্বালানি ব্যয়, অতিরিক্ত কাজ এবং দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধসহ বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব ব্যয় ঠিকাচুক্তি, আন্তর্জাতিক প্রকৌশলী পরামর্শক সংস্থার চুক্তির শর্ত, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার ঋণচুক্তির নির্দেশিকা এবং আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনওসিডি যৌথ উদ্যোগের অনুমোদন অনুযায়ী করা হয়েছে। এ ছাড়া ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে বেবিচক জানায়, এটি বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প নিরীক্ষা অধিদপ্তরের নিরীক্ষা আপত্তি মাত্র, যা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এ বিষয়ে জবাব প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং বিরোধ নিষ্পত্তি বোর্ড ও সমঝোতা নিষ্পত্তি কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

বেবিচক আরও জানায়, থার্ড টার্মিনালের পরিচালনাগত প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে প্রকল্পসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।