কোনো একসময় বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

কোনো এক সময় বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবে, সেই স্বপ্ন দেখেন বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তবে সেই সময়টা হোক ১০ বছর কিংবা ২০ বছর পর। তবে তার স্বপ্ন, কোনো এক সময় বিশ্বকাপে খেলবে বাংলাদেশ। দেশের ফুটবল অঙ্গনের সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বিনা খরচে সরকার থেকে বিশ্বকাপ সম্প্রচার করায় দেশবাসী ও ফুটবলপ্রেমীদের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ কবে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে- এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য, অনেক বড় একটি উৎসাহের জায়গা, উদ্দীপনার জায়গা। বাংলাদেশের মানুষ, ফুটবলপ্রেমী মানুষ যেভাবে ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনার ভক্ত, আমার দেশ কবে খেলবে? আমার বাংলাদেশকে কবে সাপোর্ট করবে? আমিও আপনার সঙ্গে একমত, আমিও সেই স্বপ্ন দেখি, সেই প্রত্যাশা করি।

তিনি বলেন, আমি কোনো ডেট দিব না বা আমি বলব না যে ১০ বছর পরে বা ১২ বছর পরে। আমি যখন খেলোয়াড় ছিলাম তখন অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলেছি, আমরাই বলেছি আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, আমাদের এই সুযোগ-সুবিধা দরকার। এখন আমার নিজের ঘাড়ে যখন দায়িত্ব পড়েছে, তখন আমি সেই সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য কাজ শুরু করেছি এবং আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে দৃশ্যমান অনেক কিছু আসছে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যেহেতু জিরো থেকে শুরু করেছি, আমাদের বাংলাদেশের এই ফুটবলপ্রেমী, ফুটবল পাগল এই দেশ, আশা করি কোনো না কোনো এক সময় অবশ্যই বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছাবে। সেই শুরুটা যেহেতু আমরা করতে পেরেছি, সেই শুরু থেকে আমি বলব হয়ত ১০ বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কিংবা ২০ বছর বা কোনো এক সময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে-সেই স্বপ্নটা আমিও দেখি।

দেশের তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে এনে অলিম্পিক পদক জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানিয়ে মো. আমিনুল হক বলেন, এই প্রস্তুতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কয়েক দিন আগে তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, বাংলাদেশ অলিম্পিকে কবে পদক পাবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে। রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। পাঁচ, ১০ বছর কিংবা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। তবে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের অলিম্পিয়ান তৈরি করা হবে।

তিনি বলেন, খেলাধুলাকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং তার ধারাবাহিকতায় আপনারা ইতোমধ্যে দেখতে পেয়েছেন যে আমরা খেলাধুলাকে পেশাদারিত্বের আওতায় আনার জন্য পেশাগত স্বীকৃতি বাবদ আমরা আমাদের প্রায় ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ইতোমধ্যে ক্রীড়া ভাতায় অন্তর্ভুক্ত করেছি। আগামী এক মাসের ভেতরে আরও ২০০ জন ক্রীড়াবিদ, কোচ, ট্রেনার, আমাদের রেফারি যারা রয়েছেন, যারা বর্তমানে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন, আমরা সেই মানুষগুলোকেও আমাদের এই ক্রীড়া ভাতার আওতায় এনে সবার ভেতরে একটি পেশাদারিত্বের জায়গা তৈরি করতে চাই। কারণ আমাদের বর্তমান সমাজে প্রত্যেকটি সন্তান, প্রত্যেকটি বাবা-মা তারা চান যে পড়াশোনা করে কেউ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কেউ ব্যারিস্টার, কেউ সরকারি চাকরিজীবী হবে। খেলোয়াড় হবে এই ধরনের মানসিকতা কিন্তু আমরা এখনো আমাদের বাবা-মায়েদের ভেতরে তৈরি করতে পারিনি। আমি যখন খেলেছি, আমরা যখন ভালো খেলেছি তখন আমাদের বাবা বলেছেন, এবার তোমরা খেলতে পারো। আমরা কিন্তু কোনো লক্ষ্য স্থির করে খেলিনি যে আমি একজন ফুটবলার হব। আমরা সেই লক্ষ্যটি স্থির করতে চাই, প্রত্যেকটি বাবার ভেতরে, প্রত্যেকটি সন্তানের ভেতরে, প্রত্যেকটি ক্রীড়াবিদের ভেতরে যে তারা কেউ ফুটবলার হবে, কেউ ক্রিকেটার হবে, কেউ সাঁতারু হবে, কেউ হ্যান্ডবল খেলোয়াড় হবে, কেউ দাবা প্লেয়ার হবে। এভাবে কেউ কাবাডি খেলোয়াড় হবে, কেউ মার্শাল আর্ট করবে, এভাবে লক্ষ্য স্থির করেৃ ইতোমধ্যে আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস গত ২ মে প্রধানমন্ত্রী সিলেট থেকে একযোগে ৬৪টি জেলায় উদ্বোধন করেছিলেন। অত্যন্ত সফলভাবে প্রত্যেকটি উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় পর্যায়ে কার্যক্রম শেষ করে আমরা গত ২১ জুলাই থেকে ফাইনাল পর্ব, যেটাকে আমরা জাতীয় পর্ব বলছি, সেই জাতীয় পর্বের খেলা শুরু হয়েছে এবং আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী সমাপনী অনুষ্ঠানে আর্মি স্টেডিয়ামে যোগদান করবেন বিকেল ৪টায়। তিনি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের যারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, যারা রানারআপ হয়েছে, যারা তৃতীয় হয়েছে প্রত্যেককে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রদান করবেন। আমরা আগামীর বাংলাদেশে বিশেষ করে ১২ থেকে ১৪ বছর কিংবা ১০ থেকে ১৪ বছর কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শুরু করেছি, সেটার ধারাবাহিকতায় আমাদের দ্বিতীয়… প্রথম রাউন্ড শেষ হয়নি এখনো। প্রথম পর্যায়ের ফাইনাল রাউন্ড আগামীকাল শেষ হবে। কিন্তু আমরা দ্বিতীয় আসরের জন্য… ইতোমধ্যে ১ জুলাই থেকে আমাদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে।

আমিনুল হক বলেন, তারা কেউ চিন্তা করেনি আমাদের আন্তর্জাতিক মানের যে ইনডোর স্টেডিয়াম রয়েছে সেই স্টেডিয়ামে এসে পারফর্ম করবে। কেউ চিন্তা করেনি যে আমাদের যে জাতীয় স্টেডিয়াম রয়েছে সেই স্টেডিয়ামে এসে ফুটবল খেলবে। এভাবে তারা কিন্তু নিজেদেরকে একটি স্বপ্নের ভেতরে নিয়ে এসেছে এবং সেই স্বপ্নটি পূরণ করে দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত দুদিন আগে আমাকে বলছিলেন যে আমরা অলিম্পিকে কবে পদক পাব। সেই অলিম্পিকের যাত্রা কিন্তু আমি মনে করি আমরা জিরো থেকে শুরু করেছি। কারণ আমাদের এই নতুন কুঁড়ির যারা ১০ থেকে ১২ বছর বাচ্চারা রয়েছে, আমাদের কিশোর-কিশোরীরা রয়েছে তাদেরকে দিয়েই কিন্তুৃ আমরা বলছি না যে আমরা রাতারাতি চেঞ্জ করে ফেলতে পারব। এটাতে পাঁচ বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে, ১০ বছর লাগতে পারে, কিন্তু আমরা শুরুটা করেছি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে। এখান থেকে যেসব প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের হয়ে আসবে আমরা সরকারি খরচে বিকেএসপিতে তাদের পড়াশোনা, খেলাধুলার সব দায়িত্বভার গ্রহণ করব। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের আমরা সংগ্রহ করব। এখান থেকে যে খেলোয়াড়রা বের হয়ে আসবে তাদের আমরা আগামীর বাংলাদেশের অলিম্পিকে যাতে পার্টিসিপেট করতে পারে সেই ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে এখন থেকেই প্রস্তুত করব ইনশাআল্লাহ।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছি, যাতে আগামী পাঁচ বছর পরে গিয়ে আমরা অলিম্পিকের মতো একটি বড় আসরে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি, আমরা অংশগ্রহণ করতে পারি সেভাবে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এশিয়ান গেমসের পর আর্চারি, শুটিং, সাঁতার ও বক্সিংয়ের মতো সম্ভাবনাময় ইভেন্টগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। টুর্নামেন্টের আগে নয়, সারা বছর প্রশিক্ষণের মধ্যেই খেলোয়াড়দের রাখা হবে, যাতে ভবিষ্যতে অলিম্পিকের মতো আসরে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।

তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ডিভাইস আসক্তি থেকে দূরে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি দেশের চার হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণ এবং জেলা শহরের মাঠগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, সবার সহযোগিতায় আমরা সফল একটি বিশ্বকাপ ফুটবল এ দেশের মানুষের কাছে উপহার দিতে পেরেছি, দেখানোর মাধ্যমে, এজন্য ধন্যবাদ। বিগত সরকার যেভাবে এই ফুটবল খেলা দেখানোকে কেন্দ্র করে এক ধরনের দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে, আমরা সেই দুর্নীতিকে দমন করে এই প্রথম বিনামূল্যে বলেন, বিনাখরচে বলেন, সফলভাবে দুর্নীতিমুক্ত হয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের মতো বড় আসর বাংলাদেশের জনগণের কাছে উপহার দিতে পেরেছি। এই কারণে আমি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এবং আমাদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ বিটিভির সব কর্মকর্তা, সাংবাদিক ভাইরা সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

দেশে পাওয়া ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

কোনো একসময় বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

কোনো এক সময় বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবে, সেই স্বপ্ন দেখেন বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তবে সেই সময়টা হোক ১০ বছর কিংবা ২০ বছর পর। তবে তার স্বপ্ন, কোনো এক সময় বিশ্বকাপে খেলবে বাংলাদেশ। দেশের ফুটবল অঙ্গনের সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বিনা খরচে সরকার থেকে বিশ্বকাপ সম্প্রচার করায় দেশবাসী ও ফুটবলপ্রেমীদের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ কবে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে- এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য, অনেক বড় একটি উৎসাহের জায়গা, উদ্দীপনার জায়গা। বাংলাদেশের মানুষ, ফুটবলপ্রেমী মানুষ যেভাবে ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনার ভক্ত, আমার দেশ কবে খেলবে? আমার বাংলাদেশকে কবে সাপোর্ট করবে? আমিও আপনার সঙ্গে একমত, আমিও সেই স্বপ্ন দেখি, সেই প্রত্যাশা করি।

তিনি বলেন, আমি কোনো ডেট দিব না বা আমি বলব না যে ১০ বছর পরে বা ১২ বছর পরে। আমি যখন খেলোয়াড় ছিলাম তখন অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলেছি, আমরাই বলেছি আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, আমাদের এই সুযোগ-সুবিধা দরকার। এখন আমার নিজের ঘাড়ে যখন দায়িত্ব পড়েছে, তখন আমি সেই সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য কাজ শুরু করেছি এবং আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে দৃশ্যমান অনেক কিছু আসছে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যেহেতু জিরো থেকে শুরু করেছি, আমাদের বাংলাদেশের এই ফুটবলপ্রেমী, ফুটবল পাগল এই দেশ, আশা করি কোনো না কোনো এক সময় অবশ্যই বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছাবে। সেই শুরুটা যেহেতু আমরা করতে পেরেছি, সেই শুরু থেকে আমি বলব হয়ত ১০ বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কিংবা ২০ বছর বা কোনো এক সময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে-সেই স্বপ্নটা আমিও দেখি।

দেশের তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে এনে অলিম্পিক পদক জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানিয়ে মো. আমিনুল হক বলেন, এই প্রস্তুতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কয়েক দিন আগে তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, বাংলাদেশ অলিম্পিকে কবে পদক পাবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে। রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। পাঁচ, ১০ বছর কিংবা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। তবে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের অলিম্পিয়ান তৈরি করা হবে।

তিনি বলেন, খেলাধুলাকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং তার ধারাবাহিকতায় আপনারা ইতোমধ্যে দেখতে পেয়েছেন যে আমরা খেলাধুলাকে পেশাদারিত্বের আওতায় আনার জন্য পেশাগত স্বীকৃতি বাবদ আমরা আমাদের প্রায় ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ইতোমধ্যে ক্রীড়া ভাতায় অন্তর্ভুক্ত করেছি। আগামী এক মাসের ভেতরে আরও ২০০ জন ক্রীড়াবিদ, কোচ, ট্রেনার, আমাদের রেফারি যারা রয়েছেন, যারা বর্তমানে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন, আমরা সেই মানুষগুলোকেও আমাদের এই ক্রীড়া ভাতার আওতায় এনে সবার ভেতরে একটি পেশাদারিত্বের জায়গা তৈরি করতে চাই। কারণ আমাদের বর্তমান সমাজে প্রত্যেকটি সন্তান, প্রত্যেকটি বাবা-মা তারা চান যে পড়াশোনা করে কেউ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কেউ ব্যারিস্টার, কেউ সরকারি চাকরিজীবী হবে। খেলোয়াড় হবে এই ধরনের মানসিকতা কিন্তু আমরা এখনো আমাদের বাবা-মায়েদের ভেতরে তৈরি করতে পারিনি। আমি যখন খেলেছি, আমরা যখন ভালো খেলেছি তখন আমাদের বাবা বলেছেন, এবার তোমরা খেলতে পারো। আমরা কিন্তু কোনো লক্ষ্য স্থির করে খেলিনি যে আমি একজন ফুটবলার হব। আমরা সেই লক্ষ্যটি স্থির করতে চাই, প্রত্যেকটি বাবার ভেতরে, প্রত্যেকটি সন্তানের ভেতরে, প্রত্যেকটি ক্রীড়াবিদের ভেতরে যে তারা কেউ ফুটবলার হবে, কেউ ক্রিকেটার হবে, কেউ সাঁতারু হবে, কেউ হ্যান্ডবল খেলোয়াড় হবে, কেউ দাবা প্লেয়ার হবে। এভাবে কেউ কাবাডি খেলোয়াড় হবে, কেউ মার্শাল আর্ট করবে, এভাবে লক্ষ্য স্থির করেৃ ইতোমধ্যে আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস গত ২ মে প্রধানমন্ত্রী সিলেট থেকে একযোগে ৬৪টি জেলায় উদ্বোধন করেছিলেন। অত্যন্ত সফলভাবে প্রত্যেকটি উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় পর্যায়ে কার্যক্রম শেষ করে আমরা গত ২১ জুলাই থেকে ফাইনাল পর্ব, যেটাকে আমরা জাতীয় পর্ব বলছি, সেই জাতীয় পর্বের খেলা শুরু হয়েছে এবং আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী সমাপনী অনুষ্ঠানে আর্মি স্টেডিয়ামে যোগদান করবেন বিকেল ৪টায়। তিনি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের যারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, যারা রানারআপ হয়েছে, যারা তৃতীয় হয়েছে প্রত্যেককে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রদান করবেন। আমরা আগামীর বাংলাদেশে বিশেষ করে ১২ থেকে ১৪ বছর কিংবা ১০ থেকে ১৪ বছর কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শুরু করেছি, সেটার ধারাবাহিকতায় আমাদের দ্বিতীয়… প্রথম রাউন্ড শেষ হয়নি এখনো। প্রথম পর্যায়ের ফাইনাল রাউন্ড আগামীকাল শেষ হবে। কিন্তু আমরা দ্বিতীয় আসরের জন্য… ইতোমধ্যে ১ জুলাই থেকে আমাদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে।

আমিনুল হক বলেন, তারা কেউ চিন্তা করেনি আমাদের আন্তর্জাতিক মানের যে ইনডোর স্টেডিয়াম রয়েছে সেই স্টেডিয়ামে এসে পারফর্ম করবে। কেউ চিন্তা করেনি যে আমাদের যে জাতীয় স্টেডিয়াম রয়েছে সেই স্টেডিয়ামে এসে ফুটবল খেলবে। এভাবে তারা কিন্তু নিজেদেরকে একটি স্বপ্নের ভেতরে নিয়ে এসেছে এবং সেই স্বপ্নটি পূরণ করে দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত দুদিন আগে আমাকে বলছিলেন যে আমরা অলিম্পিকে কবে পদক পাব। সেই অলিম্পিকের যাত্রা কিন্তু আমি মনে করি আমরা জিরো থেকে শুরু করেছি। কারণ আমাদের এই নতুন কুঁড়ির যারা ১০ থেকে ১২ বছর বাচ্চারা রয়েছে, আমাদের কিশোর-কিশোরীরা রয়েছে তাদেরকে দিয়েই কিন্তুৃ আমরা বলছি না যে আমরা রাতারাতি চেঞ্জ করে ফেলতে পারব। এটাতে পাঁচ বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে, ১০ বছর লাগতে পারে, কিন্তু আমরা শুরুটা করেছি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে। এখান থেকে যেসব প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের হয়ে আসবে আমরা সরকারি খরচে বিকেএসপিতে তাদের পড়াশোনা, খেলাধুলার সব দায়িত্বভার গ্রহণ করব। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের আমরা সংগ্রহ করব। এখান থেকে যে খেলোয়াড়রা বের হয়ে আসবে তাদের আমরা আগামীর বাংলাদেশের অলিম্পিকে যাতে পার্টিসিপেট করতে পারে সেই ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে এখন থেকেই প্রস্তুত করব ইনশাআল্লাহ।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছি, যাতে আগামী পাঁচ বছর পরে গিয়ে আমরা অলিম্পিকের মতো একটি বড় আসরে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি, আমরা অংশগ্রহণ করতে পারি সেভাবে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এশিয়ান গেমসের পর আর্চারি, শুটিং, সাঁতার ও বক্সিংয়ের মতো সম্ভাবনাময় ইভেন্টগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। টুর্নামেন্টের আগে নয়, সারা বছর প্রশিক্ষণের মধ্যেই খেলোয়াড়দের রাখা হবে, যাতে ভবিষ্যতে অলিম্পিকের মতো আসরে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।

তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ডিভাইস আসক্তি থেকে দূরে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি দেশের চার হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণ এবং জেলা শহরের মাঠগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, সবার সহযোগিতায় আমরা সফল একটি বিশ্বকাপ ফুটবল এ দেশের মানুষের কাছে উপহার দিতে পেরেছি, দেখানোর মাধ্যমে, এজন্য ধন্যবাদ। বিগত সরকার যেভাবে এই ফুটবল খেলা দেখানোকে কেন্দ্র করে এক ধরনের দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে, আমরা সেই দুর্নীতিকে দমন করে এই প্রথম বিনামূল্যে বলেন, বিনাখরচে বলেন, সফলভাবে দুর্নীতিমুক্ত হয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের মতো বড় আসর বাংলাদেশের জনগণের কাছে উপহার দিতে পেরেছি। এই কারণে আমি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এবং আমাদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ বিটিভির সব কর্মকর্তা, সাংবাদিক ভাইরা সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।