Dhaka শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউল কানাই দাস আর নেই

  • বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০৭ জন দেখেছেন

বিনোদন ডেস্ক : 

ভারতীয় বাউল সংগীতের প্রখ্যাত সাধক-শিল্পী কানাই দাস আর নেই।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের তারাপীঠে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। বাউলের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন প্রখ্যাত ভারতীয় চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা রঞ্জন পালিত।

সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বাউল সাধক। বিশেষ করে গত দুই মাস ধরে যক্ষ্মাতে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অ্যাজমা ও ডায়াবেটিসজনিত সমস্যায়ও ভুগছিলেন।

কানাই দাস বাউল ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধনা ও সংগীতের এক অনন্য প্রতীক। তিনি জন্মগ্রহণ করেন গ্রামবাংলার এক সাধারণ পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই দৃষ্টিহীন হলেও কখনো হার মানেননি জীবনের কাছে।

শৈশব থেকেই সংগীত ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি ঝোঁক ছিল তার। পরবর্তীতে বাউল গুরুদের সংস্পর্শে এসে বেছে নেন বাউল সাধনার পথ। একতারা হাতে গ্রাম থেকে গ্রামে, মেলা ও আখড়ায় ঘুরে ঘুরে তিনি গেয়ে বেড়িয়েছেন মানবতার গান।

তার কণ্ঠে যেমন ছিল গভীর বেদনা, তেমনি ছিল ভালোবাসা ও জীবনের দর্শন। তিনি শুধু সংগীত পরিবেশন করেননি, মানুষের ভেতরের মানুষকে খুঁজে পাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সারাজীবন।

দেশ-বিদেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাউল গান পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করেন কানাই দাস বাউল। ২০১৯ সালে তিনি ‘সহজিয়া সম্মান’ লাভ করেন। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল তার আলোচিত বই ‘নাইন লাইভস’-এ ‘দ্য সংস অব দ্য ব্লাইন্ড মিনস্ট্রেল’ শিরোনামে একটি অধ্যায় উৎসর্গ করেন এই শিল্পীকে।

তাঁর মৃত্যুতে বাউল জগতে গভীর শোক নেমে এসেছে। তাঁর প্রয়াণে শোক জানিয়ে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পান্থ কানাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন-

“তার কণ্ঠে ছিল মাটির গন্ধ, তার সাধনায় ছিল আত্মার খোঁজ। তিনি শুধু গান গাইতেন না, তিনি মানুষের হৃদয়ে ছুঁয়ে যেতেন—ভালবাসা, ভক্তি আর সত্যের বাণী নিয়ে। এই প্রস্থান যেন এক শূন্যতা রেখে গেল, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবুও তার গান, তার দর্শন, তার পথচলা—প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকবে।”

আবহাওয়া

বাউল কানাই দাস আর নেই

প্রকাশের সময় : ০৬:১৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক : 

ভারতীয় বাউল সংগীতের প্রখ্যাত সাধক-শিল্পী কানাই দাস আর নেই।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের তারাপীঠে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। বাউলের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন প্রখ্যাত ভারতীয় চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা রঞ্জন পালিত।

সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বাউল সাধক। বিশেষ করে গত দুই মাস ধরে যক্ষ্মাতে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অ্যাজমা ও ডায়াবেটিসজনিত সমস্যায়ও ভুগছিলেন।

কানাই দাস বাউল ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধনা ও সংগীতের এক অনন্য প্রতীক। তিনি জন্মগ্রহণ করেন গ্রামবাংলার এক সাধারণ পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই দৃষ্টিহীন হলেও কখনো হার মানেননি জীবনের কাছে।

শৈশব থেকেই সংগীত ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি ঝোঁক ছিল তার। পরবর্তীতে বাউল গুরুদের সংস্পর্শে এসে বেছে নেন বাউল সাধনার পথ। একতারা হাতে গ্রাম থেকে গ্রামে, মেলা ও আখড়ায় ঘুরে ঘুরে তিনি গেয়ে বেড়িয়েছেন মানবতার গান।

তার কণ্ঠে যেমন ছিল গভীর বেদনা, তেমনি ছিল ভালোবাসা ও জীবনের দর্শন। তিনি শুধু সংগীত পরিবেশন করেননি, মানুষের ভেতরের মানুষকে খুঁজে পাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সারাজীবন।

দেশ-বিদেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাউল গান পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করেন কানাই দাস বাউল। ২০১৯ সালে তিনি ‘সহজিয়া সম্মান’ লাভ করেন। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল তার আলোচিত বই ‘নাইন লাইভস’-এ ‘দ্য সংস অব দ্য ব্লাইন্ড মিনস্ট্রেল’ শিরোনামে একটি অধ্যায় উৎসর্গ করেন এই শিল্পীকে।

তাঁর মৃত্যুতে বাউল জগতে গভীর শোক নেমে এসেছে। তাঁর প্রয়াণে শোক জানিয়ে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পান্থ কানাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন-

“তার কণ্ঠে ছিল মাটির গন্ধ, তার সাধনায় ছিল আত্মার খোঁজ। তিনি শুধু গান গাইতেন না, তিনি মানুষের হৃদয়ে ছুঁয়ে যেতেন—ভালবাসা, ভক্তি আর সত্যের বাণী নিয়ে। এই প্রস্থান যেন এক শূন্যতা রেখে গেল, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবুও তার গান, তার দর্শন, তার পথচলা—প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকবে।”