বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

জাতীয় পতাকাবাহী বিমান থেকে বহুমুখী আকাশ পরিবহন প্রতিষ্ঠান

  • প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০১:২০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭৯ জন দেখেছেন

বিমানের ইতিহাস দেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। পাইলটসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। সাবেক পাইলটরা ‘অপারেশন কিলো ফ্লাইটে’ বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে বিমানের বহরে এফ-২৭, এফ-২৮, বোয়িং ৭০৭, ডিসি-১০-৩০, এটিপি, এয়ারবাস এ৩১০, বোয়িং ৭৩৭-৮০০, বোয়িং ৭৭৭-৩০০, বোয়িং ৭৮৭-৮, বোয়িং ৭৮৭-৯ ও ড্যাশ ৮-৪০০ যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ—দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮, চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং পাঁচটি ড্যাশ ৮-৪০০। এসব উড়োজাহাজের মাধ্যমে ২২টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি যাত্রী পরিবহন করছে বিমান।

২০০৭ সালে বিমানকে করপোরেশন থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত। সরকার পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে নীতি ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত হয় দৈনন্দিন কার্যক্রম।

যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি বিমানের রয়েছে প্রকৌশল, রক্ষণাবেক্ষণ, ভূমিসেবা, খাবার সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের মতো বহুমুখী কার্যক্রম। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার ভূমি পরিচালনা নিরাপত্তা নিরীক্ষা কর্মসূচির আওতায় স্বীকৃতি পেয়েছে বিমানের ভূমিসেবা বিভাগ। ২০০৮ সাল থেকে বিমান আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিচালনা নিরাপত্তা নিরীক্ষা নিবন্ধিত এয়ারলাইনস। এসব স্বীকৃতি ফ্লাইট ও ভূমিসেবায় আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের সক্ষমতার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ড্রিমলাইনার, বোয়িং ৭৭৭ ও বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজের ভেতরে বিনোদন ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। যাত্রীরা সিনেমা, নাটক, গান ও বিভিন্ন খেলা উপভোগ করতে পারেন। ড্রিমলাইনারে রয়েছে তারহীন ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা। ব্যবসায়িক শ্রেণীর আসন সম্পূর্ণ সমতল করে শয্যার মতো ব্যবহার করা যায়। ফ্লাইটে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারও পরিবেশন করা হয়।

বিমানের প্রকৌশল ও উপকরণ ব্যবস্থাপনা বিভাগ নিজস্ব উড়োজাহাজসহ দেশী-বিদেশী এয়ারলাইনসকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ সেবা দেয়। ড্রিমলাইনারের ‘সি-চেক’ বা নির্ধারিত বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন করেছে বিভাগটি। এভিয়েশন খাতে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য রয়েছে বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নিরাপত্তা সংস্থার অনুমোদিত এ কেন্দ্র বিমান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়।

বিমানের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিমান পোলট্রি কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৬ সালে। সাভারের গণকবাড়িতে ৭৬ একর জমিতে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান পণ্য ব্রয়লার মুরগি ও ডিম, যা বিমানের ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারে সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি মাছ, মাংস, শাকসবজি ও ফলমূলও উৎপাদন করা হয়। ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার দেশী-বিদেশী বিভিন্ন এয়ারলাইনসকে খাবার সরবরাহ করে।

বিমানের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়ার সেরা ১০টি এয়ারলাইনসের একটি হিসেবে বিশ্বমান অর্জন করা। এজন্য উড়োজাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, সেবার মান উন্নয়ন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমান বাংলাদেশের পরিচয় বহন করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। তাই এর সাফল্য শুধু ব্যবসায়িক মুনাফায় নয়, দেশের ভাবমূর্তি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বিয়ে করছেন মিমি চক্রবর্তী, পাত্র কে?

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

জাতীয় পতাকাবাহী বিমান থেকে বহুমুখী আকাশ পরিবহন প্রতিষ্ঠান

প্রকাশের সময় : ০১:২০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিমানের ইতিহাস দেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। পাইলটসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। সাবেক পাইলটরা ‘অপারেশন কিলো ফ্লাইটে’ বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে বিমানের বহরে এফ-২৭, এফ-২৮, বোয়িং ৭০৭, ডিসি-১০-৩০, এটিপি, এয়ারবাস এ৩১০, বোয়িং ৭৩৭-৮০০, বোয়িং ৭৭৭-৩০০, বোয়িং ৭৮৭-৮, বোয়িং ৭৮৭-৯ ও ড্যাশ ৮-৪০০ যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ—দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮, চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং পাঁচটি ড্যাশ ৮-৪০০। এসব উড়োজাহাজের মাধ্যমে ২২টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি যাত্রী পরিবহন করছে বিমান।

২০০৭ সালে বিমানকে করপোরেশন থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত। সরকার পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে নীতি ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত হয় দৈনন্দিন কার্যক্রম।

যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি বিমানের রয়েছে প্রকৌশল, রক্ষণাবেক্ষণ, ভূমিসেবা, খাবার সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের মতো বহুমুখী কার্যক্রম। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার ভূমি পরিচালনা নিরাপত্তা নিরীক্ষা কর্মসূচির আওতায় স্বীকৃতি পেয়েছে বিমানের ভূমিসেবা বিভাগ। ২০০৮ সাল থেকে বিমান আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিচালনা নিরাপত্তা নিরীক্ষা নিবন্ধিত এয়ারলাইনস। এসব স্বীকৃতি ফ্লাইট ও ভূমিসেবায় আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের সক্ষমতার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ড্রিমলাইনার, বোয়িং ৭৭৭ ও বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজের ভেতরে বিনোদন ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। যাত্রীরা সিনেমা, নাটক, গান ও বিভিন্ন খেলা উপভোগ করতে পারেন। ড্রিমলাইনারে রয়েছে তারহীন ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা। ব্যবসায়িক শ্রেণীর আসন সম্পূর্ণ সমতল করে শয্যার মতো ব্যবহার করা যায়। ফ্লাইটে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারও পরিবেশন করা হয়।

বিমানের প্রকৌশল ও উপকরণ ব্যবস্থাপনা বিভাগ নিজস্ব উড়োজাহাজসহ দেশী-বিদেশী এয়ারলাইনসকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ সেবা দেয়। ড্রিমলাইনারের ‘সি-চেক’ বা নির্ধারিত বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন করেছে বিভাগটি। এভিয়েশন খাতে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য রয়েছে বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নিরাপত্তা সংস্থার অনুমোদিত এ কেন্দ্র বিমান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়।

বিমানের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিমান পোলট্রি কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৬ সালে। সাভারের গণকবাড়িতে ৭৬ একর জমিতে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান পণ্য ব্রয়লার মুরগি ও ডিম, যা বিমানের ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারে সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি মাছ, মাংস, শাকসবজি ও ফলমূলও উৎপাদন করা হয়। ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার দেশী-বিদেশী বিভিন্ন এয়ারলাইনসকে খাবার সরবরাহ করে।

বিমানের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়ার সেরা ১০টি এয়ারলাইনসের একটি হিসেবে বিশ্বমান অর্জন করা। এজন্য উড়োজাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, সেবার মান উন্নয়ন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমান বাংলাদেশের পরিচয় বহন করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। তাই এর সাফল্য শুধু ব্যবসায়িক মুনাফায় নয়, দেশের ভাবমূর্তি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত।