বিনোদন ডেস্ক :
টালিউডে হঠাৎই ছড়িয়ে পড়েছে মিমি চক্রবর্তীর বিয়ের খবর। দীর্ঘদিন ধরেই অভিনেত্রীর অনুরাগীদের কৌতূহল—কবে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন মিমি? এবার সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে বলেই জোর চর্চা।
ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, আগামী ডিসেম্বরেই বিয়ের পরিকল্পনা করেছেন অভিনেত্রী। শীতের আমেজে শৈলশহরে বসতে পারে বিয়ের আসর। ভেন্যু হিসেবে আপাতত কালিম্পংয়ের নামই শোনা যাচ্ছে। তবে বিয়ের খবরের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে মিমির জীবনসঙ্গীকে ঘিরে।
হিন্দুস্তান টাইমস থেকে জানা যায়, মিমির বিয়ের প্রস্তুতি নাকি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে আমন্ত্রণপত্র দেওয়ার কাজও চলছে। তবে বিয়ের খবর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি মিমি চক্রবর্তী কিংবা তার হবু বর। কে সেই পাত্র? মিমির হবু জীবনসঙ্গী বিনোদন জগতের কেউ নন। তিনি ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তা। তার নাম সিদ্ধার্থ। অভিনয়জগতের বাইরে থাকা এই ব্যক্তির সঙ্গেই নাকি নতুন জীবন শুরুর পরিকল্পনা করেছেন মিমি।
মিমির বিয়ে নিয়ে অবশ্য এর আগেও বিভিন্ন সময় গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এবার সেই আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে অভিনেত্রীর সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের কারণে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের প্রশ্নের জবাবে তার কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য থেকেই নতুন করে বিয়ের জল্পনা তৈরি হয়েছে।
যদিও মিমির ঘনিষ্ঠ সহকারী জানিয়েছেন, বিয়ের বিষয়ে তার কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই। ফলে ডিসেম্বরেই মিমির বিয়ে হচ্ছে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। অভিনয়ের পাশাপাশি বর্তমানে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মিমি। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ সহ একাধিক নতুন কাজের শুটিং চলছে তার। পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেই ব্যক্তিজীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন কি না, সেটিই এখন টালিউডে কৌতূহলের বিষয়।
মিমি নিজে মুখ না খোলা পর্যন্ত তাই বিয়ের খবরটিকে আপাতত গুঞ্জন হিসেবেই দেখছেন তার অনুরাগীরা। তবে সত্যিই যদি ডিসেম্বরের বিয়ের খবরটি ঠিক হয়, তাহলে বছর শেষে টালিউডের অন্যতম আলোচিত তারকা-বিয়ের সাক্ষী হতে যাচ্ছে দর্শকেরা।
মিমি জলপাইগুড়ির মেয়ে। পাহাড়ের সঙ্গে তার পরিচয়ও তাই ছোটবেলা থেকেই। জীবনের বিশেষ দিনটি পাহাড়ের পরিবেশে উদযাপন করতে চান বলেই কালিম্পংয়ে আয়োজনের কথা শোনা যাচ্ছে। এমনকি আত্মীয়দের কাছে বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে যাওয়ার কথাও রয়েছে আলোচনায়।
তবে, এসব তথ্যের কোনোটি এখনো মিমি চক্রবর্তী নিশ্চিত করেননি। তার সহায়কও এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিনেত্রীর বিয়ে নিয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তাই আপাতত মিমির বিয়ের খবরকে গুঞ্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মিমির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে তার সম্পর্ক একসময় টলিউডে বেশ আলোচিত ছিল। সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় একাই ছিলেন অভিনেত্রী। পরে রাজ চক্রবর্তী বিয়ে করেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলিকে।
মিমি চক্রবর্তী শোবিজে যাত্রা শুরু করেছিলেন মডেল হিসেবে। ২০১০ সালে ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকে পুপু চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজরে আসেন তিনি। এরপর ২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার।
পরে ‘বোঝে না সে বোঝে না’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করেন মিমি। বাণিজ্যিক সিনেমায় নায়িকাদের যে ধরনের চরিত্রে দর্শক অভ্যস্ত ছিলেন, তার বাইরে গিয়ে ভিন্নধর্মী চরিত্রেও দেখা যায় তাকে। ‘বাপি বাড়ি যা’ ও ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিনেমায় স্টিরিওটাইপের বাইরে থাকা দুই তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পান তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও পা রাখেন মিমি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হন তিনি। বর্তমানে অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন মিমি। পুজোয় মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। এর পাশাপাশি আরও একটি নতুন সিনেমার শুটিংও শুরু করার কথা রয়েছে তার।
বিনোদন ডেস্ক 

























