সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা আদালতে বিচারক, জনবল এবং অবকাঠামগত সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়ে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা এখানকার বিচার বিভাগের স্থানীয় সমস্যা শুনেছি, এসব সমস্যা সমাধানের পথ কি তার সুপারিশ শুনেছি, এ থেকে উত্তরণের পথ কি সে সিদ্ধান্ত নেব।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণসংক্রান্ত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দ্রুত বিচারের জন্য সামারি ট্রায়াল করতে হবে। মাদক নির্মূলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী বিচার প্রার্থীদের দ্রুত বিচার প্রাপ্তিতে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়ানোর আহবান জানিয়ে বিচারকদের কর্মঘন্টাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর আহবান জানান। মো. আসাদুজ্জামান।বলেন, লিগ্যাল এইডকে জনবান্ধব করতে হবে। মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে মামলা জট কমাতে হবে।
স্থানীয় বিচারকদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত বরাদ্দ করা হবে। সাতক্ষীরায় নতুন যে ২৩টি কোর্ট সৃজন করা হয়েছে অতি দ্রুত সেখানে বিচারক এবং স্টাফ নিয়োগ দেয়া হবে।
সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও পোস্টিং বাণিজ্য ঠেকাতে ঢাকা শহরে লটারি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি বিভাগ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় পোস্টিং পেতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ শোনা যায়। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতেই প্রথমবারের মতো ঢাকা শহরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, লটারি পদ্ধতি চালু হলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বিদ্যমান অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে।
সভায় বাকস্বাধীনতা প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, মতপ্রকাশ, বাকস্বাধীনতা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ইয়েলো জার্নালিজম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের চরিত্রহননের অপচেষ্টাও নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
সাইবার আইন-২০২৬ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হলেও বাকস্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তা আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উপকমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে সংশোধনী নিয়ে জনপরামর্শের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তেমনি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিচার বিভাগের সংস্কার প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অতীতে বিচার বিভাগের নানা সমস্যার কারণে দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকার এখন বিচারব্যবস্থা মেরামতের কাজ করছে। এ কাজে কিছুটা সময় লাগবে এবং তিনি সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতা ও আস্থা প্রত্যাশা করেন।
নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা অশান্তি সৃষ্টি করছিলেন। এ বিষয়ে প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনের পদক্ষেপে ওই নেতার এক বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। আমরা কোনো রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিতে চাই না।
বাক্স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার মানুষের মতপ্রকাশ, কথা বলা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। তবে হলুদ সাংবাদিকতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের চরিত্রহনণের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের দাবিও বিভিন্ন মহল থেকে আসছে।
জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে সভায় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি 





















